স্থল অভিযান শুরু হলে পারস্য উপসাগরে নৌ-মাইন পেতে দেওয়া হবে: ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬ , ০৫:১৩ পিএম


স্থল অভিযান শুরু হলে পারস্য উপসাগরে নৌ-মাইন পেতে দেওয়া হবে: ইরান
হরমুজ প্রণালী। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া সময়সীমা ঘিরে ইরান কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বা স্থল অভিযান শুরু হলে পারস্য উপসাগরের বিস্তীর্ণ এলাকায় নৌ-মাইন পেতে দেওয়া হবে এবং আঞ্চলিক জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা পরিষদ।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২৩ মার্চ) ভোরে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন ট্রাম্প। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার প্রস্তুতি নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

চলমান সংঘাতে ইরানে দেড় হাজারের বেশি এবং লেবাননে এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। ইসরায়েলে প্রাণহানি হয়েছে অন্তত ১৫ জনের এবং যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ জন সেনা নিহত হয়েছে। পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলে স্থল ও সমুদ্রে বহু বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। ইরান ও লেবাননে মিলিয়ন মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

ইসরায়েল সোমবার ভোরে ইরানের সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেতুতে আঘাত হানা হয়েছে, যার ফলে যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। লিতানি নদীর ওপর একটি সেতু ধ্বংস হওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

ইরানের প্রতিরক্ষা পরিষদ জানিয়েছে, দেশের উপকূল বা দ্বীপে হামলার চেষ্টা হলে পারস্য উপসাগরের সব প্রবেশপথে মাইন পাতা হবে। এতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এদিকে রাশিয়া জানিয়েছে, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় কোনো হামলা হলে তা ভয়াবহ ও অপরিবর্তনীয় পরিণতি ডেকে আনতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিকে অত্যন্ত সংকটপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

জাতিসংঘের কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, এই সংঘাতের প্রভাব এশিয়া ও আফ্রিকার বহু দেশে পড়ছে। জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় দারিদ্র্য ও ক্ষুধা পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্য হতে পারে ইরানের গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো, যেগুলো দেশটির মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৮০ শতাংশ সরবরাহ করে।

মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত ক্রমেই বিস্তৃত ও জটিল হয়ে উঠছে। সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি মানবিক সংকটও গভীরতর হচ্ছে। দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। সূত্র: কেএসটিপি

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission