মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসানে ইরানের কাছে ১৫ দফার একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাকিস্তানের মাধ্যমে ওই প্রস্তাব ইতোমধ্যে তেহরানে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে।
তবে প্রস্তাবটির পূর্ণাঙ্গ বিষয়বস্তু এখনো প্রকাশ করা হয়নি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে তারা প্রস্তাবের অন্তত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সম্পর্কে ধারণা পেয়েছে।
কর্মকর্তাদের বরাতে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, প্রস্তাবের অন্যতম প্রধান দুটি বিষয় হলো- ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ,হরমুজ প্রণালি থেকে অবরোধ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা।
এদিকে, ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২ ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, প্রস্তাবের আওতায় ইরানকে তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি বন্ধ করতে হতে পারে।
ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের দাবি, ইরানকে বর্তমানে তাদের কাছে থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামও হস্তান্তর করতে বলা হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের কাছে বর্তমানে অন্তত ৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম রয়েছে, যার বিশুদ্ধতার মাত্রা ৬০ শতাংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, এ শর্ত বাস্তবায়িত হলে তা ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালি নিয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও নিশ্চিত করেছেন ইসরায়েলি কর্মকর্তারা।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান যদি হরমুজ প্রণালি থেকে সব ধরনের অবরোধ প্রত্যাহার করে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করে, তাহলে তার বিনিময়ে দেশটির ওপর আরোপিত সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রুট। ফলে এ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যেকোনো উত্তেজনা বৈশ্বিক বাজারেও বড় প্রভাব ফেলে।
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, ইরান যদি প্রস্তাবে প্রাথমিকভাবে সম্মতি জানায়, তাহলে এক মাসের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।
এই যুদ্ধবিরতির সময় ওয়াশিংটন ও তেহরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রস্তাবের প্রতিটি দফা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন ও কার্যালয় হোয়াইট হাউস এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল বার্তাসংস্থা এএফপি।
তবে হোয়াইট হাউস কিংবা মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কোনো কর্মকর্তা এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
যদিও প্রস্তাবটি নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে নানা তথ্য উঠে আসছে, তবু এখন পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসন বা ইরানকোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে ১৫ দফার পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করেনি।
ফলে, বিষয়টি নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হলেও প্রস্তাবের চূড়ান্ত রূপ ও এর ভবিষ্যৎ কার্যকারিতা এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
সূত্র : এএফপি
আরটিভি/এসকে



