ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্র রাখার সিদ্ধান্তটি একেবারে সঠিক ছিল বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) উত্তর কোরিয়ার সুপ্রিম পিপলস অ্যাসেম্বলিতে দেওয়া এক ভাষণে এই মন্তব্য করেন তিনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
কিম জং উন তার ভাষণে ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট সন্ত্রাসবাদ ও আগ্রাসনের’ অভিযোগ তুলে বলেন, "বর্তমান পরিস্থিতি পরিষ্কারভাবে প্রমাণ করে যে, পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও ‘মিষ্টি কথা’ প্রত্যাখ্যান করে উত্তর কোরিয়া সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।"
এসময় তিনি ঘোষণা করেন, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক সক্ষমতা এখন ‘অপরিবর্তনীয়’।
কিম জং উন মনে করেন, যাদের এই মারণাস্ত্র আছে, কেবল তারাই যুক্তরাষ্ট্রকে কার্যকরভাবে প্রতিহত করতে পারে।
মজার বিষয় হলো, কিম এমন এক সময়ে এই ভাষণ দিলেন যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সঙ্গে পুনরায় আলোচনা শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কট্টর অবস্থানের পাশাপাশি মস্কোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করছে পিয়ংইয়ং। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ইউক্রেন সীমান্তের কাছে উত্তর কোরিয়ার সৈন্যদের প্রশিক্ষণের ফুটেজ প্রচারিত হয়েছে। কিম জং উন রাশিয়াকে আর্টিলারি শেল ও রকেট সরবরাহের বিনিময়ে খাদ্য, জ্বালানি এবং সংবেদনশীল সামরিক প্রযুক্তি পাচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়া নিজের কিশোরী কন্যা কিম জু আয়েকে বিভিন্ন অস্ত্র প্রদর্শনীতে সামনে নিয়ে আসার মাধ্যমে কিম এই বার্তাও দিচ্ছেন, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি কোনো সাময়িক বিষয় নয়, বরং এটি বংশপরম্পরায় স্থায়ীভাবে চলবে।
কিম জং উন ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ না করলেও অত্যন্ত কঠিন শর্ত জুড়ে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা হতে পারে, তবে পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
উত্তর কোরিয়া ইতোমধ্যে কয়েক ডজন পারমাণবিক ওয়ারহেড তৈরি করেছে এবং তাদের দাবি অনুযায়ী, এমন উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা রয়েছে যা যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের যেকোনো স্থানে আঘাত হানতে সক্ষম।
আরটিভি/এআর



