ইরানের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিলো লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ 

বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬ , ১০:৫১ পিএম


ইরানের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিলো লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী
ফাইল ছবি

ইরানের সাথে একাত্মতা জানিয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা ও সাময়িক যুদ্ধবিরতির আহ্বান সরাসরি করেছে সশস্ত্র গোষ্ঠীটি।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (২৫ মার্চ) টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে গোষ্ঠীটির প্রধান নাইম কাসেম এই তথ্য জানান। 

নাইম কাসেম বলেন, হামলা ও গোলাবর্ষণ চলাকালীন ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনায় বসার অর্থ হলো ‘চাপিয়ে দেওয়া আত্মসমর্পণ’। তাদের যোদ্ধারা ‘সীমহীন’ লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। এসময় তিনি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ারও আহ্বান জানান।  

বিজ্ঞাপন

এর আগে একই দিনে চার সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ১৫ দফার শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যুদ্ধ কখন এবং কীভাবে শেষ হবে তা কেবল ইরানের নিজস্ব শর্ত ও সময়সূচি অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। বুধবার ইরানের এক জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক-নিরাপত্তা কর্মকর্তার বরাতে  দেশটির সংবাদমাধ্যম 'প্রেস টিভি' এই তথ্য জানায়। 

আরও পড়ুন

ওই কর্মকর্তা বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যুদ্ধের সমাপ্তি নির্ধারণ করার কোনো সুযোগ দেবে না ইরান। তেহরান যখন মনে করবে এবং তাদের নিজস্ব শর্তগুলো পূরণ হবে, কেবল তখনই এই যুদ্ধ শেষ হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শত্রুর ওপর ‘চরম আঘাত’ হেনে প্রতিরক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।্রা

বিজ্ঞাপন

ইরানি কর্মকর্তার মতে, ওয়াশিংটন বর্তমানে বিভিন্ন কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আলোচনার যে চেষ্টা চালাচ্ছে, তা মূলত ‘অযৌক্তিক’। তিনি একে যুদ্ধক্ষেত্রে আমেরিকার পরাজয়ের বাস্তবতাকে আড়াল করার একটি অপচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেন। ২০২৫ সালের বসন্ত ও শীতকালে অনুষ্ঠিত দুই দফার আলোচনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সেগুলোকে মার্কিন ‘প্রতারণা’ বলে আখ্যা দেন তিনি।

প্রসঙ্গত, ইরানের পরমাণু প্রকল্প ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘ দু’দশক ধরে দ্বন্দ্ব চলছে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে। এ দুই ইস্যুতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ।

তার পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ইতোমধ্যে নিহত হয়েছেন ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি, সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর শীর্ষ কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপৌরসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। ইরানের বিভিন্ন সামরিক-বেসামরিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও ধ্বংস কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ইতেমধ্যে ইরানে নিহত হয়েছেন ২ হাজারের বেশি মানুষ।

তবে পাল্টা হামলা চালিয়ে শত্রুপক্ষকে নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে ইরান। একইসঙ্গে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়ে বিশ্ববাজারে তৈরি করেছে ভয়াবহ জ্বালানি সংকট। 

বিশ্ব জ্বালানির অন্যতম প্রধান উৎস মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের আঘাত হানায় বিপাকে পড়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন অনেকটা বাধ্য হয়েই সম্মানজনক প্রস্থান খুঁজছেন । আর এই লক্ষ্যেই তেহরানের সামনে পেশ করেছেন এক ‘শান্তি প্রস্তাব’। 

আরটিভি/এআর 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission