ট্রাম্প যুদ্ধ থামিয়ে দিতে পারেন, নেতানিয়াহুর নতুন পাঁয়তারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬ , ০২:১৮ পিএম


ট্রাম্প যুদ্ধ থামিয়ে দিতে পারেন, নেতানিয়াহুর নতুন পাঁয়তারা
ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে কোনো সময় যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নিতে পারেন এমন আশঙ্কায় নতুন কৌশলে এগোচ্ছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি ইরানের বিরুদ্ধে হামলা আরও জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। 

বিজ্ঞাপন

বার্তাসংস্থা আনাদোলু ও নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহু ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হামলার তীব্রতা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তার লক্ষ্য, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার আগেই ইরানের অস্ত্রশিল্প, সামরিক অবকাঠামো ও কৌশলগত সক্ষমতায় সর্বোচ্চ ক্ষতি করা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এই তড়িঘড়ি সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি কথিত ১৫ দফা যুদ্ধ-সমাপ্তি পরিকল্পনা। ইসরায়েলি সরকার পরিকল্পনার কপি হাতে পাওয়ার পর মনে করছে, এতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দুর্বল করার বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি।

বিজ্ঞাপন

এ কারণে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হঠাৎ করেই শান্তি আলোচনা বা যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিতে পারেন। আর সে কারণেই যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগেই সামরিকভাবে সুবিধাজনক অবস্থান নিশ্চিত করতে চাইছে তেল আবিব।

এদিকে এ বিষয়ে সরাসরি অবস্থান না নিয়ে সতর্ক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট। তিনি বলেন, গণমাধ্যমে একটি পরিকল্পনার কথা দেখা গেছে, তবে হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিকভাবে সেটি নিশ্চিত করেনি। তার ভাষায়, কিছু তথ্য সত্য হতে পারে, তবে সবকিছু সঠিক নয়।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার সামরিক সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে নেতানিয়াহু এই নির্দেশ দেন। সেখানে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর জ্যেষ্ঠ কমান্ডাররা সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু, হামলার পরিধি এবং ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে তাকে ব্রিফ করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় বাস্তবতা হলো যুদ্ধ কখন এবং কীভাবে শেষ হবে, তার চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ মূলত ওয়াশিংটনের হাতে। ফলে যুদ্ধের কূটনৈতিক সমাপ্তি নির্ধারণে নেতানিয়াহুর ভূমিকা তুলনামূলকভাবে সীমিত হয়ে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালিয়ে আসছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এতে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩৪০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিরাও রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানও পুরো অঞ্চলে হামলা জোরদার করেছে, যার প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে। এতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

তবে উত্তেজনার মাঝেও কূটনৈতিক তৎপরতা থেমে নেই। জানা গেছে, সোমবার ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। একই সঙ্গে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ যোগাযোগও চলছে।

আরও পড়ুন

সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকটে এখন দুটি ভিন্ন কৌশল স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, একদিকে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজছে, অন্যদিকে ইসরায়েল যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগেই ইরানের সামরিক শক্তি যতটা সম্ভব ভেঙে দিতে চাইছে।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission