ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

হামলা বন্ধের শর্তে আমিরাত থেকে হাজার কোটি ডলার পাচ্ছে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৩ জুন ২০২৬, ০২:৫৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের জন্য কয়েকশ কোটি ডলারের তহবিল ছাড়তে রাজি হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের মধ্যে কয়েক সপ্তাহজুড়ে চলা যুদ্ধের মধ্যে দফায় দফায় আমিরাতে হামলা চালায় তেহরান। এরপর নিজেদের কৌশলে এমন পরিবর্তন আনল ধনী উপসাগরীয় দেশটি। চারটি সূত্র রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে।

আগে অপ্রকাশিত এই খবরটি এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বৃহত্তর দরকষাকষির চূড়ান্ত পর্ব চলছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে বিদেশি ব্যাংকগুলোতে ইরানের তেল বিক্রির হাজার হাজার কোটি ডলার আটকে আছে। কূটনীতিকেরা বলছেন, চলমান আলোচনার মাধ্যমে আটকে থাকা সেই বিপুল পরিমাণ অর্থও ছাড় করা হতে পারে।

দুটি আঞ্চলিক সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, মোট ১০ বিলিয়ন (১ হাজার কোটি) ডলার ছাড় করতে সম্মত হয়েছে আমিরাত। এর মধ্যে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ এরইমধ্যে তেহরানকে দেওয়া হয়েছে।

এ সমঝোতা সম্পর্কে অবগত আরও দুটি সূত্র জানিয়েছে, আবুধাবি তেহরানের মোট ২০ বিলিয়ন ডলার ছাড় করবে। আরব আমিরাতের ভূখণ্ডে ইরান আর হামলা করবে না—এমন শর্তেই এই বিপুল অঙ্কের অর্থ ছাড়বে আবুধাবি।

সমঝোতার বিষয়ে অবগত একটি সূত্রও জানিয়েছে, প্রথম কিস্তির ৩ বিলিয়ন ডলার ইতিমধ্যেই দিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তবে এই অর্থের উৎস আমিরাতের নিজস্ব তহবিল, নাকি আমিরাতি ব্যাংকিং সিস্টেমে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা ইরানেরই কোনো অ্যাকাউন্ট, নাকি অন্য কোনো উৎস থেকে এই অর্থ আসছে—সেটি নিশ্চিত হতে পারেনি রয়টার্স।

অবশ্য শনিবার (১৩ জুন) ভোরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ৩ বিলিয়ন ডলার হস্তান্তরের এই 'পুরো খবরটিই সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট।' তবে এর বাইরে বিস্তারিত আর কিছুই জানায়নি দেশটি।

এর আগে অর্থ হস্তান্তরের বিষয়ে রয়টার্সের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হলে আমিরাতের একজন কর্মকর্তা বলেন, উত্তেজনা কমিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাচ্ছেন তারা।

'উত্তেজনা প্রশমন এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা আনাই আমিরাতের পররাষ্ট্রনীতির মূল লক্ষ্য। এই সংঘাতের ভয়াবহ পরিণতি থেকে গোটা অঞ্চলের মানুষকে বাঁচাতে যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া উদ্যোগসহ যেকোনো গঠনমূলক চেষ্টাকে আমিরাত সমর্থন করে,' বলেন তিনি।

আরও পড়ুন

আমিরাতে ইরান সর্বশেষ সরাসরি হামলা চালায় ৪ মে

আরব আমিরাতের এ পদক্ষেপের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি হোয়াইট হাউস। তবে শুক্রবার (১২ জুন) ওয়াশিংটনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কেবল চুক্তি সই বা বৈঠক করলেই ইরানের অর্থ ছাড় করা হবে না। সম্ভাব্য চুক্তিটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে তেহরান তাদের প্রতিশ্রুতিগুলো পুরোপুরি পালন করলেই কেবল অর্থনৈতিক সুবিধাগুলো পেতে পারে।

রয়টার্সের পক্ষ থেকে মন্তব্যের অনুরোধ করা হলেও ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক সাড়া মেলেনি।

বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় এ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা সূত্রগুলোর কেউই নিজেদের নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি।

এই সমঝোতা সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরানের মধ্যকার প্রকাশ্য শত্রুতার সম্পর্কে নাটকীয় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যুদ্ধের বড় অংশজুড়ে দুই দেশের মধ্যে চরম বৈরিতা বজায় ছিল। সে সময় ইরানি হামলায় দুবাইয়ের হোটেলগুলো ফাঁকা হয়ে পড়েছিল, বহু প্রবাসী দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন। এছাড়া নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে আমিরাতের যে বৈশ্বিক সুনাম—যা তাদের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র হয়ে ওঠার মূল চাবিকাঠি—তা মারাত্মকভাবে ধাক্কা খেয়েছিল।

এ সমঝোতার বিষয়ে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে, এ পদক্ষেপ মার্কিন-ইরান সংঘাত নিরসনের ক্ষেত্রে এমন এক অভিনব উপায় তৈরি করেছে, যেখানে কোনো পক্ষকেই নিজেদের রেডলাইন পার হতে হচ্ছে না। ইরান দাবি করতে পারবে যে তারা যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ আদায় করেছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটনও যুক্তি দিতে পারবে যে তারা কোনো টাকা দেয়নি। অন্যদিকে আবুধাবি নিজেদের নিরাপত্তা ও দুবাইয়ের বাণিজ্যিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে পারছে। একইসঙ্গে পুরো বিষয়টিকে আঞ্চলিক আস্থা পুনর্নির্মাণের চমৎকার বিনিয়োগ হিসেবে তুলে ধরার সুযোগও পাচ্ছে তারা।

সমঝোতা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল অন্য সূত্রটি জানিয়েছে, এই অর্থ ছাড়ের বিনিময়ে আরব আমিরাতে সব ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বন্ধ রাখবে ইরান। পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধিসহ দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনর্গঠন করা হবে।

Web-Image

সূত্রটি আরও জানায়, একই ধরনের সমঝোতা করতে উপসাগরীয় অঞ্চলের আরও অন্তত দুটি আরব দেশের সঙ্গে ইতিমধ্যেই যোগাযোগ করেছে ইরান।

আরব আমিরাতে ইরানের সর্বশেষ সরাসরি হামলাটি হয়েছিল এক মাসেরও বেশি সময় আগে—৪ মে ওমান উপসাগরে অবস্থিত উপসাগরীয় দেশটির ফুজাইরাহ বন্দরে।

প্রথম সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক সপ্তাহ আগেই এই আলোচনা শুরু হয়েছিল। তবে গত সপ্তাহে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কর্মকর্তারা যখন আবুধাবিতে আসেন, তখন আলোচনার গতি বেড়ে যায়। ওই সফরে তারা আরব আমিরাতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও আবুধাবির উপ-শাসক শেখ তাহনুন বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং তার গেস্ট হাউসেই অবস্থান করেন।

ওই সফরের পরপরই এই লেনদেন পদ্ধতির খুঁটিনাটি চূড়ান্ত করতে আরব আমিরাতের কর্মকর্তারা তেহরান সফর করেন।

দুবাইয়ে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ

আরব আমিরাত ও ইরানের এই চুক্তি এমন একটা জটিল অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে ঘটতে যাচ্ছে, যার সঙ্গে দুবাই শহরটি জড়িয়ে পড়তে পারে। কারণ, দুবাই আমিরাতের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক শহর এবং ইরানের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান এক ভরসাস্থল।

দুবাইয়ের ব্যাংকগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা আছে। এর বেশির ভাগ অর্থই আটকে আছে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে। বৈশ্বিক ডলার লেনদেনের ওপর নজরদারি করে যুক্তরাষ্ট্র। কালোতালিকাভুক্ত কোনো ইরানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিদেশি কোনো ব্যাংক লেনদেন করলে, তাদেরও মার্কিন আর্থিক নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।

গত ১১ এপ্রিল ইরানের একটি শীর্ষস্থানীয় সূত্র জানিয়েছিল, কাতার এবং অন্যান্য বিদেশি ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ ছাড়তে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে মার্কিন এক কর্মকর্তা তাৎক্ষণিকভাবে এই দাবি অস্বীকার করেন।

সংবেদনশীল বিষয় হওয়ায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সূত্র রয়টার্সকে জানায়, এই সম্পদ ছাড়ের বিষয়টি ‘হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার’ সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। চলমান সংঘাত বন্ধের আলোচনায় এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
জাতিসংঘকে ‘অকার্যকর সংস্থা’ বললেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট
জাতিসংঘের তীব্র সমালোচনা করে সংস্থাটিকে ‘অকার্যকর’ বলে মন্তব্য করেছেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলে।
জাতিসংঘকে ‘অকার্যকর সংস্থা’ বললেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট
জাতিসংঘের কাছে পরিত্যক্ত স্যুটকেস ঘিরে বোমা আতঙ্ক
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের অদূরে একটি পরিত্যক্ত স্যুটকেস পড়ে থাকতে দেখে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
জাতিসংঘের কাছে পরিত্যক্ত স্যুটকেস ঘিরে বোমা আতঙ্ক
রাস্তার মাঝখানে বাঘের ঘুম, আটকে রইল পর্যটকদের গাড়ি
ভারতের রণথম্বোর জাতীয় উদ্যানের একটি কাদাময় সড়কে হঠাৎ তৈরি হলো যানজট। অন্য কোনো যানবাহন বা দুর্ঘটনা নয়, বরং বনের রাজা বাঘ নিশ্চিন্তে দুপুরের ঘুম দেওয়ায় যানজট সৃষ্টি হয়। রাজস্থানের বিখ্যাত এ অভয়ারণ্যে সাফারিতে বেরিয়ে পর্যটকরা এমনই এক অভাবনীয় মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছেন। যার ভিডিও নেটদুনিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। এলেনা নামে এক বিদেশি পর্যটক তার ইনস্টাগ্রামে ভিডিওটি পোস্ট করার পর থেকেই তা ভাইরাল হয়।  ভিডিওটিতে দেখা যায়, ধুলোবালি ঘেরা সাফারির আঁকাবাঁকা রাস্তার ঠিক মাঝখানে আয়েশ করে ঘুমাচ্ছে একটি বিশালদেহী বাঘ। আর তাকে না জাগিয়ে বা বিরক্ত না করে পথের ওপর সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে প্রায় ৩০টি পর্যটকবাহী জিপ। বাঘটিকে একটু কাছ থেকে দেখার জন্য পর্যটকদের মধ্যে ফিসফিসানি আর ক্যামেরার ক্লিক ক্লিক শব্দে এক নীরব ব্যস্ততা তৈরি হয়। বেশ কিছু সময় ঘুমিয়ে নেওয়ার পর বাঘটি ধীরে সুস্থে উঠে দাঁড়ায়, সাধারণ গৃহপালিত বিড়ালের মতো শরীর দোলা দিয়ে একটু আলসেমি ভাঙে, এবং উপস্থিত জিপের মানুষগুলোকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে শান্ত পায়ে বনের গহীনে মিলিয়ে যায়। ভিডিওটির ক্যাপশনে এলেনা রসিকতা করে লিখেছেন, ভারতের চিরচেনা যানজটের অভিজ্ঞতা যদি রাজকীয় হতে হয়, তবে তা এমনই হয়। তার এ পোস্টটিতে প্রায় ছয় লক্ষাধিক ভিউ এবং হাজার হাজার লাইক পড়েছে।  নেটিজেনরাও মন্তব্য বাক্সে মজার সব মন্তব্য ছুঁড়ে দিচ্ছেন। অনেকেই বলছেন, বনের রাজা যে নিজের ইচ্ছামতোই চলবেন; তা আরও একবার প্রমাণ করে দিলেন তিনি। কেউ বা কমেন্ট করেছেন, বাঘটি হয়তো পর্যটকদের মনে করিয়ে দিতে চেয়েছিল যে জঙ্গলটি আসলে কার শাসনে চলে। সূত্র: এনডিটিভি আরটিভি/এসআর  
রাস্তার মাঝখানে বাঘের ঘুম, আটকে রইল পর্যটকদের গাড়ি
ইরান কখনো মাথা নত করবে না: পেজেশকিয়ান
নিষেধাজ্ঞা, চাপ কিংবা সামরিক শক্তি প্রয়োগের মুখে ইরান কখনোই মাথা নত করবে না এবং দেশটিকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা যাবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান।
ইরান কখনো মাথা নত করবে না: পেজেশকিয়ান
মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম মহাসচিব নিয়োগ
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ত্রিপাক্ষিক সামরিক জোটের প্রথম মহাসচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল নোমান মাহমুদ। 
মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম মহাসচিব নিয়োগ