যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ইরানে নিহতের সংখ্যা ২ হাজার ছুঁইছুঁই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ 

শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬ , ০৫:১১ পিএম


যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ইরানে নিহতের সংখ্যা ২ হাজার ছুঁইছুঁই
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এক মাস পূর্ণ করতে চলেছে। এই চার সপ্তাহে দেশ দুটির অব্যাহত বিমান হামলায় ইরানে ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি হতাহতের সংখ্যা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। 

বিজ্ঞাপন

ইরানের উপ-স্বাস্থ্যমন্ত্রী আলি জাফরিয়ান জানিয়েছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত অন্তত ১,৯৩৭ জন নিহত এবং ২৪,৮০০ জন আহত হয়েছেন।

ইরানের পাশাপাশি লেবাননেও সমানতালে বিমান হামলা ও স্থল অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। 

বিজ্ঞাপন

সবশেষ খবর অনুযায়ী, লেবাননের জাহরানি নদীর দক্ষিণে বসবাসকারী সকল বাসিন্দাকে এলাকা ছাড়ার চূড়ান্ত নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েল সীমান্ত থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই এলাকায় গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া হামলায় এখন পর্যন্ত ১,১০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

তেহরানও দমে থাকার পাত্র নয়; সামরিক আগ্রাসনের জবাবে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে বিধ্বংসী পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে ইরান। আল জাজিরার প্রতিবেদন মতে, ইরানি হামলায় ইসরায়েলে এখন পর্যন্ত ১৮ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া লেবাননে স্থল অভিযান চালাতে গিয়ে অন্তত ৩ জন ইসরায়েলি সেনা প্রাণ হারিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে মার্কিন বাহিনী। উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের নিখুঁত নিশানায় অন্তত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এছাড়া অধিকৃত পশ্চিম তীরে ৪ জন এবং উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে আরও ২০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইরাকে মোতায়েন থাকা নিরাপত্তা বাহিনীর ৮০ জন সদস্যও এই সংঘাতের বলি হয়েছেন।

আরও পড়ুন

এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে তেহরানে অতর্কিত বিমান হামলার মাধ্যমে এই যুদ্ধের সূচনা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ওই হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ দেশটির বেশ কয়েকজন শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতা নিহত হন। এরপর থেকেই প্রতিশোধের নেশায় ইসরায়েল ও আমেরিকার ওপর চড়াও হয়েছে ইরান। 

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার এই অভিযানে ‘বিজয়’ দাবি করেছেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন , ইরানে তাদের অভিযানের মূল লক্ষ্যগুলো প্রায় পূরণ হয়ে এসেছে। তবে যুদ্ধের মাঠের বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা; যেখানে ইরান ও হিজবুল্লাহ তাদের প্রতিরোধ ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে।

এদিকে ইসরায়েল বর্তমানে লেবাননে তাদের সামরিক শক্তি কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। তারা মূলত ইরানের প্রধান মিত্র হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দিতে চাইছে। লেবানন সরকারের সঙ্গে যেকোনো ধরনের কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে ইসরায়েলি নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহকে নির্মূল না করা পর্যন্ত তাদের অভিযান থামবে না। 

আরটিভি/এআর

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission