সৌদি আরবের পূর্ব উপকূলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিল্পনগরী জুবাইলের একটি বিশাল পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইরান।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই খবর জানানো হয়। খবর আল-জাজিরার।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সামরিক বাহিনী সৌদি আরবের অন্যতম বৃহৎ শিল্পাঞ্চলকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। জুবাইল শহরটি সৌদি আরবের জ্বালানি অর্থনীতির হৃদপিণ্ড হিসেবে পরিচিত যেখানে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস উৎপাদিত হয়।
এখন পর্যন্ত এই ভয়াবহ হামলার বিষয়ে সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে সৌদি প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে জানিয়েছে, দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ লক্ষ্য করে ছোঁড়া একাধিক ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র তারা মাঝ আকাশেই সফলভাবে প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। যদিও এই বিশাল শিল্প এলাকায় ঠিক কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে কি না তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।
সৌদি আরবে হামলার খবরের মাঝেই আজ সকালে ইরানের ওপর ভয়াবহ আকাশ হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বাহিনী। ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমা এই জোট ইরানের অন্তত ১৭টি বেসামরিক স্থাপনায় সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। সংস্থাটি এই হামলাকে স্পষ্ট ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালিয়ে সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন করা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন। ইরানের ভেতরে এসব হামলায় হতাহতের সংখ্যা কত তা জানার চেষ্টা করছে উদ্ধারকারী দলগুলো। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করাও এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।
ইরান ও সৌদি আরবের এই পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক বার্তা সংস্থা এপিকে জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী যেকোনো পরিস্থিতিতেই বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালানো কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
তিনি বলেন, কোনো স্থাপনা যদি সামরিক কৌশলের অংশ হিসেবেও লক্ষ্যবস্তু করা হয় তবুও সেখানে অতিরিক্ত বেসামরিক প্রাণহানির ঝুঁকি থাকলে সেই হামলা চালানো যাবে না।
দুজারিক আরও বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে এই ধরনের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ এবং বিশ্বের দেশগুলোর উচিত অবিলম্বে এই ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ বন্ধ করে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসা।
আরটিভি/এআর




