ইরানের যোগাযোগ ব্যবস্থার মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে দেশটির অন্তত আটটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু এবং প্রধান প্রধান রেলপথে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর এক বিশেষ বার্তার পর দেশটির সেনাবাহিনী তাদের অফিসিয়াল টেলিগ্রাম চ্যানেলে এই সামরিক অভিযানের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে। খবর আল-জাজিরার।
ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, ধ্বংস করা এই আটটি সেতু মূলত ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) তাদের ভারী অস্ত্রশস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম এক প্রদেশ থেকে অন্য প্রদেশে পরিবহনের কাজে ব্যবহার করত। এই হামলার ফলে দেশটির অভ্যন্তরীণ সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থা বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইরানের রাজধানী তেহরানসহ কারাজ, তাবরিজ, কাশান ও কোম শহরের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল এলাকাগুলোর সংযোগকারী অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। বিশেষ করে তাবরিজ-তেহরান মহাসড়ক এবং কাশানের রেলসেতুতে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
ইসরায়েল দাবি করছে, এই লক্ষ্যবস্তুগুলো সাধারণ যোগাযোগের জন্য নয়, বরং আইআরজিসি-র ‘সন্ত্রাসী কার্যক্রম’ সচল রাখার প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। হামলার ফলে এসব এলাকায় রেল যোগাযোগ এবং মহাসড়কে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
হামলার পরপরই এক ভিডিও বার্তায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন, “আমরা ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে চূর্ণ করছি। আগের চেয়েও দ্বিগুণ উদ্যম ও শক্তি নিয়ে আমাদের বাহিনী আঘাত হানছে।”
নেতানিয়াহু আরও বলেন, গত চব্বিশ ঘণ্টায় ইসরায়েলি বিমানবাহিনী ইরানের একটি প্রধান বিমানঘাঁটিতে দাঁড়িয়ে থাকা বেশ কিছু পরিবহন বিমান এবং ডজনখানেক সামরিক হেলিকপ্টার পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে। আজ তারা আইআরজিসি-র ব্যবহৃত রেললাইন ও সেতুগুলোতে সফলভাবে আঘাত হেনেছে।
ইসরায়েলের এই দাবির বিপরীতে ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই হামলায় অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন এবং বেশ কয়েকজন সাধারণ নাগরিক আহত হয়েছেন। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড ইতিমধ্যে এই হামলার কড়া জবাব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তারা বলছে যে, বেসামরিক অবকাঠামোতে এই আক্রমণ আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন।
আরটিভি/এআর



