ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার সংঘাতের উত্তাপ কিছুটা প্রশমিত হতে না হতেই এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসলেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।
বুধবার (৮ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক সুরে দাবি করেছেন, মার্কিন সামরিক শক্তির প্রচণ্ড চাপের মুখে নতি স্বীকার করে ইরান মূলত ওয়াশিংটনের কাছে যুদ্ধবিরতি ‘ভিক্ষা’ চেয়েছে। খবর বিবিসির।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চাইলে এক নিমেষেই ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, গুরুত্বপূর্ণ সেতু এবং তেলক্ষেত্রগুলোতে ভয়াবহ হামলা চালিয়ে দেশটিকে পুরোপুরি অকেজো করে দিতে পারতেন। কিন্তু দেশটির নেতারা শেষ মুহূর্তে বুঝতে পেরেছে যে ধ্বংস হওয়ার চেয়ে চুক্তি করা ভালো। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রক্তক্ষয় এড়াতে ক্ষমাকে বেছে নিয়েছেন।
পিট হেগসেথ আরও বলেন, ইরান চরম চাপের মধ্যে এই যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে। তারা যদি আমাদের দেওয়া কঠোর শর্তগুলো প্রত্যাখ্যান করত, তবে আমাদের পরবর্তী টার্গেট হতো তাদের রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু এবং জ্বালানি অবকাঠামো। এই স্থাপনাগুলো একবার ধ্বংস করলে তা পুনর্গঠন করতে দেশটির কয়েক দশক সময় লাগত।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের টেবিলে এমন সব পরিকল্পনা ছিল যা দিয়ে ইরানের পুরো অর্থনীতিকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেওয়া সম্ভব ছিল। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সেই অসীম ক্ষমতা ছিল, কিন্তু তিনি শেষ পর্যন্ত ক্ষমাকে বেছে নিয়েছেন।
এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানকে এক চূড়ান্ত আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন। তিনি হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং যুদ্ধবিরতির শর্ত মেনে নিতে বুধবার স্থানীয় সময় রাত ৮টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। অন্যথায় ভয়াবহ হামলার হুমকি দিয়ে তিনি বলেছিলেন একটি আস্ত সভ্যতা বিলীন হয়ে যেতে পারে।
অত্যন্ত নাটকীয়ভাবে নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার মাত্র দুই ঘণ্টা আগেই ট্রাম্প হঠাৎ যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। এরপর তেহরানের পক্ষ থেকেও এই যুদ্ধবিরতি মেনে নেওয়ার বার্তা আসে। দুই পক্ষের এই সমঝোতার পর এখন পর্যন্ত ইরান সীমান্তে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষ থেকে নতুন কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি।
আরটিভি/এআর



