চলমান ১০ দিনের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজেদের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি বা ‘মিসাইল সিটি’ পুনরায় সচল করার কাজ শুরু করেছে ইরান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের বিশ্লেষণ করা সাম্প্রতিক কিছু স্যাটেলাইট (কৃত্রিম উপগ্রহ) চিত্রে এই তৎপরতার প্রমাণ মিলেছে।
চিত্রগুলোতে দেখা যায়, ইরান তাদের মাটির নিচের সুড়ঙ্গগুলোর প্রবেশপথে জমে থাকা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে পুনরায় চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বন্ধ হয়ে যাওয়া সুড়ঙ্গগুলোর মুখে একাধিক এস্কেভেটর ও লোডার দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে। সুড়ঙ্গের মুখ থেকে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে সেগুলো ডাম্প ট্রাকে করে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে ইরান মূলত তাদের আটকা পড়া ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারগুলো পুনরায় বাইরে আনার পথ তৈরি করছে।
এর আগে সিএনএনের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, যুদ্ধের শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ভূগর্ভস্থ ঘাঁটিগুলোর প্রবেশমুখে সুনির্দিষ্ট হামলা চালিয়ে আসছিল। এই কৌশলের মূল উদ্দেশ্য ছিল যাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারগুলো হামলার জন্য বাইরে বের হতে না পারে অথবা হামলার পর পুনরায় অস্ত্র মজুত করতে ভেতরে ঢুকতে না পারে। প্রবেশপথগুলো বন্ধ করে দিয়ে মূলত ইরানকে মাটির নিচেই ‘অচল’ করে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল ।
মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা তীব্র লড়াইয়ের পরও ইরানের প্রায় অর্ধেক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার এখনো অক্ষত রয়েছে বলে মনে করে ওয়াশিংটন। তবে প্রবেশপথগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এই বিপুল সংখ্যক মারণাস্ত্র বর্তমানে মাটির নিচেই আটকা পড়ে আছে। এই ধ্বংসস্তূপ সরানোর মূল লক্ষ্যই হলো সেই সব যুদ্ধাস্ত্রকে পুনরায় সচল করা।
জেমস মার্টিন সেন্টার ফর ননপ্রোলিফারেশন স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ গবেষক স্যাম লেয়ারের মতে, ইরানের এই পদক্ষেপ একেবারেই প্রত্যাশিত। তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতির একটি অনিবার্য দিক হলো, প্রতিপক্ষ তার হারিয়ে যাওয়া সক্ষমতা ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করবেই। ইরান যখন এই ‘মিসাইল সিটি’গুলো নির্মাণ করেছিল, তখন তাদের মাথায় এই পরিকল্পনা ছিল যে—প্রথমে হামলা সহ্য করতে হবে এবং পরে ধ্বংসস্তূপ খুঁড়ে বেরিয়ে এসে পাল্টা আঘাত করতে হবে।
আরটিভি/এআর




