দীর্ঘদিনের ভয়াবহ অচলাবস্থা কাটিয়ে অবশেষে সচল হওয়ার পথে হরমুজ প্রণালি। এদিকে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো কোনো প্রমোদতরী সফলভাবে পার হয়েছে। মাল্টার পতাকাবাহী সেলেস্টিয়াল ডিসকভারি নামের জাহাজটি শুক্রবার সফলভাবে এই জলপথ অতিক্রম করেছে। জাহাজটি ওমানের মাস্কাটের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে এবং আজ দিনের শেষভাগে সেখানে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
জাহাজটি মার্চের শুরুর দিকে দুবাই বন্দরে নোঙর করেছিল। সেখানে প্রায় ৪৭ দিন আটকা পড়ে থাকার পর শুক্রবার এটি ওমানের দিকে যাত্রা শুরু করে। মেরিন ট্রাফিকের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী জাহাজটিতে কোনো যাত্রী ছিল না। শুধু ক্রু সদস্যদের নিয়ে এটি ওমানের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। প্রমোদতরী হওয়া সত্ত্বেও যুদ্ধের উত্তপ্ত পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে জাহাজটির পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে চায়নি। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই মূলত তাদের ছাড়াই জাহাজটিকে সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সামরিক উত্তেজনার জেরে ইরান গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি বন্ধ করে দিয়েছিল। তারা এই অঞ্চলে সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের মাধ্যমে উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছিল। এই অঞ্চলের তেল ও গ্যাসভিত্তিক অর্থনীতির ওপর এই অবরোধ মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে এনেছিল। শুক্রবার ইরান শর্তসাপেক্ষে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রণালিটি উন্মুক্ত করার ঘোষণা দেয়। এই ঘটনার ফলে বিশ্বজুড়ে জাহাজ মালিক ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রধান ধমনী হিসেবে পরিচিত। বিশ্বের মোট তেল ও এলএনজি চাহিদার এক পঞ্চমাংশ এখান দিয়েই পরিবহন করা হয়। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩৮টি জাহাজ এই পথ দিয়ে চলাচল করে। কিন্তু যুদ্ধের এই সংকটে প্রায় ৬০০টির বেশি জাহাজ উপসাগরের বিভিন্ন স্থানে আটকা পড়ে আছে। লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্সের তথ্য অনুযায়ী এই তালিকায় প্রায় ৩২৫টি ট্যাঙ্কার রয়েছে।
আরটিভি/এআর



