মধ্যপ্রাচ্যে ৩৮ দিনের উত্তপ্ত পরিস্থিতির পর শান্তি স্থাপনের আশা ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে আসছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলা সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। বিবাদমান দুই পক্ষ আলোচনার টেবিলে বসলেও কার্যকর কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফেরাতে নানা ধরণের চাপ প্রয়োগ করছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পাকিস্তান ও মিসরের মতো দেশগুলো জোর তৎপরতা চালালেও তা এখন পর্যন্ত সফল হয়নি।
ট্রাম্পের একের পর এক উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে তেহরান আবারও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। শুক্রবার ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দিলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নতুন হুমকিতে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। ট্রাম্প ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিজের কবজায় নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। ট্রাম্প দাবি করেছেন আলোচনার টেবিলে ইরান সবকিছুতে রাজি হয়েছে যার মধ্যে ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত।
তবে, ট্রাম্পের এই দাবি ও হুমকিতে তেহরান তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই দেশটি আবারও প্রণালিটি বন্ধ করে দিয়েছে। দেশটির সামরিক বাহিনীর অপারেশনাল কমান্ড খাতাম আল আম্বিয়া এই মার্কিন অবরোধকে জলদস্যুতা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তাদের ভাষ্যমতে এই জলদস্যুতার কারণেই হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ আগের অবস্থায় ফিরে গেছে। এখন থেকে এই কৌশলগত নৌপথটি দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর কঠোর তত্ত্বাবধানে থাকবে।
এদিকে, হরমুজের অস্থিরতার মধ্যেই নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে বাব আল মান্দেব প্রণালি। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী এই প্রণালি বন্ধ করার হুমকি দিয়েছে। খবর আল জাজিরার।
রোববার(১৯ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হুতি নেতা হুসেইন আল এজ্জি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যদি ইয়েমেন এই প্রণালি বন্ধ করে দেয় তবে তা খোলার ক্ষমতা কারোর নেই। ট্রাম্প ও তার সহযোগীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, শান্তি বিনষ্টকারী কর্মকাণ্ড ও নীতি বন্ধ করাই তাদের জন্য মঙ্গলজনক।
বাব আল মান্দেব প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি সামুদ্রিক বাণিজ্য পথ। ইয়েমেন উপকূলের কাছে অবস্থিত এই পথটি লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযুক্ত করেছে। সুয়েজ খাল দিয়ে যাওয়া জাহাজগুলোর জন্য এটি একটি কৌশলগত চেকপয়েন্ট হিসেবে পরিচিত। প্রণালিটির সংকীর্ণতম অংশ মাত্র ২৯ কিলোমিটার প্রশস্ত। এই রুটটি ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও জ্বালানি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পৌঁছায়। রাশিয়া থেকে আসা তেল ও অন্যান্য পণ্যও এশিয়ার দেশগুলোতে যাওয়ার জন্য এই পথটি ব্যবহার করে।
আরটিভি/এআর




