ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

রাতভর পক্ষাঘাতগ্রস্ত বৃদ্ধের হাতে পেঁচিয়ে ছিল বিষধর সাপ, অতঃপর...

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০১ জুন ২০২৬, ০৭:০৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের ওড়িশার বৌধ জেলার এক পক্ষাঘাতগ্রস্ত বৃদ্ধ মৃত্যুর মুখ থেকে অল্পের জন্য ফিরে এসেছেন। গভীর রাতে একটি বিষধর সাপ তার ঘরে ঢুকে হাতে পেঁচিয়ে ধরলেও তিনি ধৈর্য ও উপস্থিত বুদ্ধির কারণে শেষ পর্যন্ত প্রাণে বেঁচে যান।

ঘটনাটি ঘটেছে হারাভাঙ্গা ব্লকের আদেনিগড় গ্রামে। স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে চলাফেরায় সীমাবদ্ধতা থাকা কৃষ্ণ চন্দ্র সাহু নামে ওই বৃদ্ধ রাতে নিজের বিছানায় ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ একটি বিষধর সাপ তার ঘরে ঢুকে পড়ে এবং তার শরীরের ওপর দিয়ে চলাচল শুরু করে।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, ঘরের একটি জানালা খোলা থাকায় সাপটি সেখান দিয়েই ভেতরে প্রবেশ করেছিল। গভীর রাতে সাপটি বিছানায় উঠে গেলে কৃষ্ণ চন্দ্র সাহু বিষয়টি টের পান। কিন্তু পক্ষাঘাতের কারণে তিনি দ্রুত সরে যেতে বা বিছানা ছাড়তে পারেননি।

আরও পড়ুন

পরে সামান্য নড়াচড়া করার চেষ্টা করলে সাপটি তার একটি হাত শক্ত করে পেঁচিয়ে ধরে। একই সঙ্গে সাপের শরীরের আরেক অংশ পাশের একটি চেয়ারে জড়িয়ে যায়। ফলে তিনি কার্যত বিছানায় আটকে পড়েন।

পরে পরিবারের সদস্যদের তিনি বলেন, আমি বুঝতে পেরেছিলাম সাপটি আমার শরীরের ওপর রয়েছে, কিন্তু নড়াচড়া করার মতো অবস্থায় ছিলাম না।

জানা গেছে, সাপের আক্রমণের আশঙ্কায় তিনি একেবারে স্থির হয়ে শুয়ে থাকেন। কারণ হঠাৎ কোনো নড়াচড়া করলে সাপটি ছোবল মারতে পারে বলে তিনি ভয় পাচ্ছিলেন। এভাবেই আতঙ্কের মধ্যে কেটে যায় দীর্ঘ চার ঘণ্টা। একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পেরে ঘরে ছুটে আসেন। পরিস্থিতি দেখে তারা আতঙ্কিত হলেও তড়িঘড়ি করে সাপ সরানোর চেষ্টা করেননি। বিষধর সাপ হুমকি অনুভব করলে আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে— এ কথা মাথায় রেখে তারা ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে থাকেন।

অবশেষে প্রায় চার ঘণ্টা পর নিরাপদ উপায়ে সাপটিকে কৃষ্ণ চন্দ্র সাহুর হাত থেকে আলাদা করতে সক্ষম হন পরিবারের সদস্যরা।

তবে আশ্চর্যের বিষয়, এতক্ষণ সাপের সংস্পর্শে থাকার পরও তিনি একবারও ছোবলের শিকার হননি।

ঘটনার ধাক্কা এখনও কাটিয়ে উঠতে না পারলেও কৃষ্ণ চন্দ্র সাহু শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন বলে জানা গেছে। তার এই অবিশ্বাস্য বেঁচে ফেরার ঘটনা এখন পুরো এলাকায় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। স্থানীয়রা একে অলৌকিক ঘটনা বলেই মনে করছেন এবং সংকটময় মুহূর্তে বৃদ্ধের ধৈর্য ও পরিবারের বিচক্ষণতার প্রশংসা করছেন। সূত্র: ফ্রি প্রেস জার্নাল

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতির দপ্তরের প্রশংসাপত্র পেলেন বাংলাদেশি আলোকচিত্রী ফরিদ আহাম্মদ রনি
বাংলাদেশের আলোকচিত্রী ও লেখক ফরিদ আহাম্মদ রনির আলোকচিত্রভিত্তিক গ্রন্থ ‘প্যারিসের ছবি’ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর হাতে গ্রন্থটি উপহার দেওয়ার পর এবার রাষ্ট্রপতির দপ্তর থেকে পাওয়া আনুষ্ঠানিক প্রশংসাপত্র তার সৃজনশীল উদ্যোগকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। ২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবর ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর হাতে নিজের প্রকাশিত গ্রন্থ ‘প্যারিসের ছবি’ তুলে দেওয়ার সুযোগ পান ফরিদ আহাম্মদ রনি। প্যারিসের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সৌন্দর্যকে আলোকচিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরা এই গ্রন্থ রাষ্ট্রপতির হাতে পৌঁছে দেওয়া তার দীর্ঘদিনের সৃজনশীল যাত্রার একটি স্মরণীয় ঘটনা। এর আগে ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতির দপ্তর এবং প্যারিসের মেয়র দপ্তর থেকেও গ্রন্থটির জন্য প্রশংসাপত্র ও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়ার কথা জানান লেখক। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ২০ অক্টোবর ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতির দপ্তর থেকে প্রাপ্ত আনুষ্ঠানিক চিঠি তার এই উদ্যোগে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। প্রাপ্ত চিঠিতে গ্রন্থটি উপহার দেওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি ফ্রান্সের সাংস্কৃতিক মর্যাদা ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশটির ভাবমূর্তি তুলে ধরার ক্ষেত্রে লেখকের উদ্যোগের প্রশংসা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ফ্রান্স ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং সাংস্কৃতিক বন্ধন সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে তার অবদানের স্বীকৃতিও উল্লেখ করা হয়েছে। ‘প্যারিসের ছবি’ কেবল একটি আলোকচিত্রের বই নয়, বরং ফ্রান্সের রাজধানীর ইতিহাস, স্থাপত্য, শিল্প, সংস্কৃতি ও নগরজীবনের এক নান্দনিক উপস্থাপনা। গ্রন্থটিতে আইফেল টাওয়ার, লুভর জাদুঘর, ঐতিহাসিক স্থাপনা, ভাস্কর্য, নগরজীবন এবং প্যারিসের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য আলোকচিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। বাংলা, ইংরেজি ও ফরাসি ভাষায় প্রকাশিত গ্রন্থটি বাংলাদেশের প্রকাশনা ও আলোকচিত্রচর্চার আন্তর্জাতিক পরিচিতি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। বহুভাষিক উপস্থাপনার মাধ্যমে বইটি বাংলাদেশ, ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশের পাঠক ও শিল্পানুরাগীদের কাছে প্যারিসের সৌন্দর্য ও ঐতিহ্য তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদনেও গ্রন্থটির বহুভাষিক প্রকাশনা এবং ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতির হাতে পৌঁছানোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। ফরিদ আহাম্মদ রনির এই গ্রন্থ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের কাছে পৌঁছেছে। ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর পাশাপাশি প্যারিসের সাবেক মেয়র আন্নে ইদালগোর হাতেও বইটি তুলে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্যারিসের ঐতিহাসিক গ্রঁ পালে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ChangeNOW Summit-এ মোনাকোর যুবরাজ প্রিন্স আলবার্ট দ্বিতীয়, ফ্রান্সের সাবেক প্রধানমন্ত্রী লরাঁ ফাবিউস এবং জাতিসংঘের আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল মেলিসা ফ্লেমিংয়ের হাতেও গ্রন্থটি পৌঁছে দেন তিনি। ২০২৬ সালের জুনে প্যারিসের বর্তমান মেয়র ইমানুয়েল গ্রেগোয়ারের কাছেও গ্রন্থটি উপহার দেওয়া হয়। একই বছরের আগস্টে ফ্রান্সের সাবেক রাষ্ট্রপতি ফ্রাঁসোয়া ওলান্দের হাতেও বইটি তুলে দেওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। ফ্রান্স ও বাংলাদেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব, সহযোগিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ওপর প্রতিষ্ঠিত। শিল্প, সাহিত্য, আলোকচিত্র ও সংস্কৃতির মাধ্যমে দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ আরও গভীর করার সুযোগ রয়েছে। ফরিদ আহাম্মদ রনির ‘প্যারিসের ছবি’ সেই সাংস্কৃতিক যোগাযোগের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। একজন বাংলাদেশি আলোকচিত্রীর দৃষ্টিতে ফ্রান্সের রাজধানীকে আন্তর্জাতিক পাঠকের সামনে তুলে ধরার এই প্রচেষ্টা দুই দেশের সাংস্কৃতিক বিনিময়কে নতুনভাবে পরিচিত করার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। রাষ্ট্রপতির দপ্তর থেকে পাওয়া আনুষ্ঠানিক প্রশংসাপত্র তার ব্যক্তিগত সৃজনশীল অর্জনের পাশাপাশি বাংলাদেশের আলোকচিত্র ও প্রকাশনা জগতের জন্যও অনুপ্রেরণার বিষয়। সংস্কৃতির কোনো ভৌগোলিক সীমারেখা নেই। শিল্প ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে মানুষে মানুষে সম্পর্ক গড়ে ওঠে, দেশ থেকে দেশে তৈরি হয় বন্ধুত্বের সেতু। ‘প্যারিসের ছবি’ সেই সেতুবন্ধনেরই একটি নান্দনিক প্রয়াস, যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। আরটিভি/টিআর
ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতির দপ্তরের প্রশংসাপত্র পেলেন বাংলাদেশি আলোকচিত্রী ফরিদ আহাম্মদ রনি
বিশ্ববাজারে বাড়ল সোনার দাম
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের পর ডলারের দরপতনে বিশ্ববাজারে সোনার দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বিশ্ববাজারে বাড়ল সোনার দাম
নিউ ইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হলেন লেটিশিয়া জেমস
নিউ ইয়র্ক অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে পুনর্নির্বাচনের লড়াইয়ে জয়ী হয়েছেন লেটিশিয়া জেমস। তিনি রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী সারিতা কোমাতিরেডিকে পরাজিত করেছেন বলে ঘোষণা করেছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস। স্থানীয় সময় বুধবার (৪ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে এই নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়, যেখানে জেমস ৬০ শতাংশেরও বেশি ভোট পেয়েছেন বলে জানা গেছে। ২০১৯ সাল থেকে জেমস নিউ ইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি কর্মজীবী ​​পরিবারগুলোর ব্যয় কমানো, অপরাধীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা এবং নিউ ইয়র্কবাসীর অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষায় কাজ করেছেন। দায়িত্বকালে গত সাত বছরে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ৫০ বারেরও বেশি মামলা করেছেন। ২০২০ সালে ট্রাম্প কোমাতিরেডিকে নিউ ইয়র্কের পূর্বাঞ্চলীয় ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক হিসেবে মনোনীত করেছিলেন। তিনি নিউ ইয়র্কে নিরাপত্তা বৃদ্ধি, মানসিক অসুস্থতার মোকাবিলা এবং নিউ ইয়র্কবাসীর অধিকার রক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আরটিভি/টিআর
নিউ ইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হলেন লেটিশিয়া জেমস
নিজেদের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার পেতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের হারিয়ে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। এরই ধারাবাহিকতায় এবার মার্কিন কংগ্রেসে নতুন ইতিহাস গড়ার পথে রয়েছেন ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফ্রিস। 
নিজেদের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার পেতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে যে ৫ কারণে ভরাডুবি হলো রিপাবলিকানদের
এবারের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের ব্যাপকতাকে হোয়াইট হাউজে ট্রাম্পের দুই বছরের শাসনের বিরুদ্ধে মার্কিন ভোটারদের জোরালো প্রত্যাখ্যান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে যে ৫ কারণে ভরাডুবি হলো রিপাবলিকানদের
আরও পড়ুন
থানার ভেতরে নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ, সব পুলিশ বরখাস্ত
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট নির্বাচনে ইতিহাস গড়লেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মুসলিম তরুণী
স্ত্রীর কাটা মাথা কোলে নিয়ে মন্দিরে প্রার্থনা
জানুয়ারিতে কোহলি-বুমরাহদের বাংলাদেশে পাঠাতে রাজি ভারত!