ঢাকা শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

আবার আলোচনায় একসঙ্গে ১৭০০ জনের মৃত্যুর ঘটনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫৫ পিএম
নিয়স হ্রদ। ছবি: সংগৃহীত

রাতের অন্ধকারে সবাই তখন ঘুমে আচ্ছন্ন। হঠাৎ সেই নীরব রাতেই ঘটে যায় এক ভয়াবহ বিপর্যয়। ঘুমের মধ্যেই নিঃশব্দে প্রাণ হারান প্রায় ১৭০০ মানুষ। কেউ টেরই পাননি কী ঘটছে চারপাশে।

ঘটনাটি ঘটেছিল আফ্রিকার উত্তর-পশ্চিম ক্যামেরুনে অবস্থিত ‘নিয়স’ হ্রদ এলাকায়। ১৯৮৬ সালের ২১ আগস্ট রাতে স্থানীয়রা প্রথমে একটি অদ্ভুত চাপা শব্দ শুনতে পান। এরপর পুরো এলাকা ঢেকে যায় ঘন সাদা কুয়াশায়, সঙ্গে ভেসে আসে পচা ডিমের মতো তীব্র গন্ধ। কিছুক্ষণের মধ্যেই একে একে মাটিতে লুটিয়ে পড়তে থাকেন মানুষ ও গবাদিপশু।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই রাতে নিয়স হ্রদ থেকে হঠাৎ করেই বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস নির্গত হয়। ধারণা করা হয়, ১ লাখ থেকে ৩ লাখ টন পর্যন্ত গ্যাস উচ্চগতিতে বেরিয়ে আশপাশের উপত্যকাগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। বাতাসের চেয়ে ভারী এই গ্যাস নিচু এলাকায় জমে গিয়ে অক্সিজেনের স্থান দখল করে নেয়। ফলে ঘুমন্ত মানুষ শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যান।

এই ঘটনায় প্রাণ হারান প্রায় ১৭৪৬ জন মানুষ এবং হাজার হাজার গবাদিপশু। আশ্চর্যজনকভাবে, যারা উঁচু এলাকায় অবস্থান করছিলেন, তারাই কেবল বেঁচে যান।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ছিল ‘লিম্নিক অগ্ন্যুৎপাত’ নামে একটি বিরল প্রাকৃতিক ঘটনা। এতে হ্রদের গভীরে জমে থাকা গ্যাস হঠাৎ করে বিস্ফোরণের মতো বেরিয়ে আসে। নিয়স হ্রদের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে, যা কোনো ধরনের পূর্বাভাস ছাড়াই মুহূর্তের মধ্যে ভয়াবহ রূপ নেয়।

আরও পড়ুন

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তারা দূর থেকে বজ্রপাতের মতো শব্দ শুনেছিলেন। এরপর অদৃশ্য গ্যাসের মেঘ গ্রামগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। কার্বন ডাইঅক্সাইড বাতাসের চেয়ে ভারী হওয়ায় তা ভূমির কাছাকাছি থেকে অক্সিজেন সরিয়ে দেয়। ফলে মানুষ ও প্রাণী দ্রুত অজ্ঞান হয়ে পড়ে এবং শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করে—যাদের অনেকেই তখন গভীর ঘুমে ছিলেন।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের হ্রদ এখনও ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে আফ্রিকার কিভু হ্রদ— যেখানে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাইঅক্সাইড ও মিথেন জমা রয়েছে— ভবিষ্যতে আরও বড় বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।

এই ভয়াবহ ঘটনা আজও মানবসভ্যতার কাছে এক রহস্যময় ও শিহরণ জাগানো প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মৃতদেহ উঠে আসার ভয়ে গলায় কাস্তে, পায়ে তালা! ভ্যাম্পায়ার-ভীতি নাকি অন্য কিছু?
মৃত্যুর পর দাফন বা সৎকারের রীতি দেশ ও সংস্কৃতিভেদে ভিন্ন। তবে ইউরোপের কিছু অঞ্চলে একসময় প্রচলিত ছিল অদ্ভুত এক বিশ্বাস—কবর দেওয়া মৃত ব্যক্তিও নাকি ফিরে আসতে পারেন জীবিতদের মাঝে!
মৃতদেহ উঠে আসার ভয়ে গলায় কাস্তে, পায়ে তালা! ভ্যাম্পায়ার-ভীতি নাকি অন্য কিছু?
গরু বিক্রিতে বাধা দেওয়ায় স্ত্রীকে ট্রাকচাপা দিলেন স্বামী
ধারের টাকা পরিশোধের জন্য গোয়ালের গরু বিক্রি করতে চেয়েছিলেন ট্রাকচালক চুন্নিলাল কুমাওয়াত (৫৬)। তবে এতে তার স্ত্রী চুঙ্কি দেবী (৫২) আপত্তি জানান।
গরু বিক্রিতে বাধা দেওয়ায় স্ত্রীকে ট্রাকচাপা দিলেন স্বামী
হরমুজ প্রণালিতে ভারত-চীনসহ ৪ দেশের জাহাজ চলাচলে ছাড় দিল ইরান
ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ থেকে ভারত, চীন, ইরাক ও কাতারের জাহাজকে ছাড় দেওয়া হয়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে ভারত-চীনসহ ৪ দেশের জাহাজ চলাচলে ছাড় দিল ইরান
ইরানকে ৯০টি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার দিতে রাজি রাশিয়া
ইরানের কাছে ৯০টি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা বিক্রিতে সম্মতি দিয়েছে রাশিয়া। হেলিকপ্টার থেকে পরিচালিত এসব লঞ্চারের মাধ্যমে নির্ভুল লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা সম্ভব। ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ বাহিনীও এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের (এফটি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা শিল্পের ২০২৪ ও ২০২৫ সালের উৎপাদনসংক্রান্ত নথিতে ‘এপিইউ-এল’ মডেলের ৯০টি লঞ্চার রপ্তানির আদেশের তথ্য রয়েছে। সেখানে ক্রেতার নাম সরাসরি উল্লেখ না করে ‘কে-১০’ সাংকেতিক পরিচয় ব্যবহার করা হয়েছে।  রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় অস্ত্র রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের নথিতে এই সংকেত দিয়ে ইরানকে বোঝানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। তবে এসব সরঞ্জাম ইতোমধ্যে ইরানের কাছে পৌঁছেছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। লঞ্চারগুলো রাশিয়ার এমআই-২৮ মডেলের আক্রমণকারী হেলিকপ্টারে স্থাপন করা যায়। প্রতিটি লঞ্চারে দুটি করে ‘এলএমইউআর’ নির্ভুল লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্র বহনের সক্ষমতা রয়েছে। আকাশে উড্ডয়নের সময়ও এসব ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ পরিবর্তন করা যায়। ফলে চলমান লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সুযোগ তৈরি হয়। এফটির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানের সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতেও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছে মস্কো। ‘সি৪৩০এল’ নামের একটি গোপন প্রকল্পের আওতায় রুশ প্রকৌশলীরা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের ইঞ্জিন ও জ্বালানি ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করেছেন। সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি ভবিষ্যতে পারস্য উপসাগরে মোতায়েন করা মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোর জন্য নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য এর আগে ইরানের কাছ থেকে শাহেদ ড্রোন সংগ্রহ করেছিল রাশিয়া। পাশাপাশি ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতেও সহযোগিতা করছে মস্কো। বিশ্লেষকদের ধারণা, সামরিক ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমেই ঘনিষ্ঠ হলেও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে সরাসরি অংশ নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক রাশিয়া। যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য প্রভাবশালী শক্তির সঙ্গে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখাই ক্রেমলিনের অন্যতম লক্ষ্য।  এ কারণে রুশ সামরিক সহায়তায় ইরানের সক্ষমতা বাড়ার সম্ভাবনা থাকলেও তা আঞ্চলিক সংঘাতের সামগ্রিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। আরটিভি/এসআর  
ইরানকে ৯০টি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার দিতে রাজি রাশিয়া
ভুয়া তথ্যে করোনার ১৮ মিলিয়ন ডলারের অনুদান লুট, অভিযুক্ত মার্কিন নারী 
যুক্তরাষ্ট্রে করোনাকালীন সরকারি আর্থিক সহায়তার ১ কোটি ৮০ লাখ ডলার (১৮ মিলিয়ন ডলার) জালিয়াতির মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে।
ভুয়া তথ্যে করোনার ১৮ মিলিয়ন ডলারের অনুদান লুট, অভিযুক্ত মার্কিন নারী 
আরও পড়ুন
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু
ডেঙ্গুতে আরও ৭ জনের মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৪৫২
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে ওষুধ নিয়ে বিতর্ক, আসামির প্রাণভিক্ষার আবেদন
মানিকগঞ্জে ট্রিপল মার্ডার মামলায় ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৮ জনের যাবজ্জীবন