জাপানের উত্তরাঞ্চলীয় দ্বীপ হোক্কাইডোতে ৬.২ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে বিস্তীর্ণ এলাকা কেঁপে উঠেছে। স্থানীয় সময় সোমবার (২৭ এপ্রিল) ভোর ৫টা ২৩ মিনিটে এই কম্পন অনুভূত হয় বলে জানিয়েছে জাপান মেটিওরোলজিক্যাল এজেন্সি (জেএমএ)।
প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পটির মাত্রা ৬.১ বলা হলেও পরে তা সংশোধন করে ৬.২ মাত্রা নির্ধারণ করা হয়। ভূমিকম্পটির উৎপত্তি ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৮৩ কিলোমিটার গভীরে হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তুলনামূলক কম বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস)। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি।
ভূমিকম্পের পর হোক্কাইডোর কিছু এলাকায় পাথরধস ও ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে জেএমএ। একই সঙ্গে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আরও শক্তিশালী কম্পন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে একই অঞ্চলের সমুদ্রে আরও একটি ৫.০ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। গত সপ্তাহে উত্তর ইওয়াতে প্রদেশে ৭.৭ মাত্রার বড় ভূমিকম্পের পর থেকেই জাপানজুড়ে ভূমিকম্পের ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা জারি রয়েছে।
সে সময়ের শক্তিশালী ভূমিকম্পে কয়েকজন আহত হন এবং টোকিওসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় কম্পন অনুভূত হয়। ইওয়াতের একটি বন্দরে সুনামির ঢেউও আঘাত হানে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থানের কারণে জাপান পৃথিবীর অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। বছরে গড়ে প্রায় ১,৫০০টি ভূমিকম্প অনুভূত হয় দেশটিতে, যা বিশ্বের মোট ভূমিকম্পের প্রায় ১৮ শতাংশ।
২০১১ সালের ভয়াবহ ৯.০ মাত্রার ভূমিকম্প ও সুনামির ভয়াবহ স্মৃতি এখনো জাপানের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক, যেখানে প্রায় ১৮ হাজার ৫০০ মানুষ প্রাণ হারান বা নিখোঁজ হন।
আরটিভি/এসকে



