যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানের কাছে নতুন প্রস্তাব পাঠালো ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ 

শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬ , ০৭:৫৭ পিএম


যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানের কাছে নতুন প্রস্তাব পাঠালো ইরান
ছবি: সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে এবং স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে পাকিস্তানের কাছে একটি নতুন সংশোধিত প্রস্তাব পাঠিয়েছে তেহরান। 

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে পাকিস্তানের হাতে এই প্রস্তাবটি পাঠায় ইরান। শুক্রবার (১ মে) একজন ইরানি কূটনীতিক আলজাজিরাকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সংকট নিরসনে ইরানের দেওয়া আগের প্রস্তাবটি গত সপ্তাহে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প মূলত ইরানের নতুন এই সংশোধিত প্রস্তাবের অপেক্ষায় ছিলেন। আগের প্রস্তাবে ইরান যুদ্ধ বন্ধ করার পর পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার কথা বললেও ট্রাম্পের অবস্থান ছিল ভিন্ন। তিনি চেয়েছিলেন যুদ্ধাবস্থা চলাকালীনই পারমাণবিক চুক্তি সম্পন্ন করতে। তবে এবারের নতুন ও সংশোধিত প্রস্তাবে ইরান ঠিক কী কী শর্ত বা বিষয় উল্লেখ করেছে, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। 

আরও পড়ুন

প্রসঙ্গত, ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ।

পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এ যৌথ হামলার প্রথম ধাক্কাতেই প্রাণ হারান ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লাগাতার হামলায় প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি, সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর শীর্ষ কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপৌরসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে হারায় ইরান। ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ ও ধ্বংস হয় দেশটির বিভিন্ন সামরিক-বেসামরিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। সেইসঙ্গে প্রাণ হারায় ইরানের ২ হাজারের বেশি মানুষ।

যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে শক্ত জবাব দেয় ইরানও। যুদ্ধের শুরু থেকেই ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের ৬ দেশ সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্তর আরব আমিরাত, ওমানে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটি ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে দফায় দফায় ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় দেশটি। ইরানের লাগাতার হামলার মুখে করুণভাবে ভেঙে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও। এ অবস্থায় আবার ইরানের পক্ষে যোগ দেয় লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ইয়েমেনের হুতি বাহিনী; যা ইরানের শক্তি অনেকটাই বাড়িয়ে দেয় যুদ্ধে। এছাড়া, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় ইরানের হামলায় ভয়ংকর বিপদের মুখে পড়ে যায় ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন মিত্ররা। একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় ধস নামে মার্কিন তেল বাণিজ্যেও।

এ অবস্থায় ইরানকে যুদ্ধবিরতিতে রাজি করানোর জন্য শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের দ্বারস্ত হয় যুক্তরাষ্ট্র। টানা ৩৮ দিন হামলা-পাল্টা হামলার পর গত ৭ এপ্রিল ১৫ দিনের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় দুইপক্ষ। গত ২৩ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হলেও এখন পর্যন্ত কোনও পক্ষই অন্য পক্ষের ওপর হামলা চালায়নি। তবে, কোনও ধরনের সমঝোতায়ও পৌঁছাতে পারেনি তারা। ফলে, গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ হরমুজে অবরোধ জারি করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের নৌবাহিনী। এতে তেলবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে বিশ্ব অর্থনীতি। 

আরটিভি/এআর  

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission