মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজে হামলা চালায় তবে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রকে পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে। সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ওয়াশিংটনের সামরিক শক্তির কথা তুলে ধরে এসব কথা বলেন।
এতে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সৃষ্ট উত্তেজনায় দুই দেশের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতিতে আবারও সংকটের তৈরি হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, ফক্স নিউজকে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন, আগে যা ছিল তার তুলনায় আমাদের কাছে অনেক বেশি আর অনেক উন্নত মানের অস্ত্র ও গোলাবারুদ আছে। এছাড়াও বিশ্বজুড়ে আমাদের ঘাঁটি আছে। সবগুলোতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম মজুদ করা আছে। আর যদি দরকার হয় আমরা তা ব্যবহার করবো।
সোমবার (৪ মে) মার্কিন সামরিক বাহিনী ‘প্রোজেক্ট ফ্রিডম’ নাম দেওয়া ট্রাম্পের একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করেছে। এ পরিকল্পনায় জাহাজগুলোকে পাহারা দিয়ে হরমুজ প্রণালি পার করার ও কৌশলগত জলপথটিতে ইরানি অবরোধ ভেঙে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ওয়াশিংটন দাবি করেছে, তারা দুটি মার্কিন বাণিজ্যিক জাহাজকে হরমুজ প্রণালি পার হতে সাহায্য করেছে। কিন্তু জাহাজ চলাচল অনুসরণ করা ওয়েবসাইটগুলো দেখিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ জলপথটিতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্রাড কুপার জানিয়েছেন, ওই এলাকায় ৮৭টি দেশের জাহাজ আটকা পড়ে আছে আর তারা এই যুদ্ধের ‘নিরপরাধ দর্শক’।
এক বিবৃতিতে কুপার বলেছেন, ওই সংকীর্ণ বাণিজ্য করিডরের মধ্য দিয়ে জাহাজগুলোকে নিরাপদে পার হতে সাহায্য করার প্রেসিডেন্টের সংকল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমরা (হরমুজ প্রণালি) দিয়ে জাহাজ চলাচল শুরু করার জন্য গত ১২ ঘণ্টায় বহু জাহাজ ও জাহাজ কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করেছি।
তবে জাহাজগুলো মার্কিন নিশ্চয়তায় কীরকম সাড়া দিয়েছে, তা পরিষ্কার হয়নি।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা ইরনার দেওয়া উদ্ধৃতিতে এক সামরিক সূত্র বলেছে, বেশ কয়েকটি ইরানি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার মার্কিন দাবি মিথ্যা।
সোমবার (৪ মে) দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলে তাদের একটি জাহাজে বিস্ফোরণের পর আগুন ধরে যায় আর এতে ক্ষয়ক্ষতি হয়।
পৃথকভাবে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন্স (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, ওই একই এলাকায় আরও দুটি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এতে ধারণা করা হচ্ছে, হরমুজ প্রণালির আশপাশে থাকা জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার সক্ষমতা তাদের এখনও আছে, ইরান সম্ভবত এমনটি প্রদর্শন করছে।
আরটিভি/কেডি




