পা ছুঁয়ে সালাম করলেন মোদি, কে এই ৯৮ বছরের বৃদ্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

শনিবার, ০৯ মে ২০২৬ , ০৪:৫৯ পিএম


পা ছুঁয়ে সালাম করলেন মোদি, কে এই ৯৮ বছরের বৃদ্ধ
ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী শপথ নেওয়ার অনুষ্ঠানে এক আবেগঘন মুহূর্তের জন্ম দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ৯৮ বছর বয়সী প্রবীণ সংগঠক মাখনলাল সরকারের পা ছুঁয়ে সালাম করতে দেখা যায় মোদিকে। একইভাবে তাকে সম্মান জানান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও।

শনিবার (৯ মে) সকালে অনুষ্ঠিত শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাখনলাল সরকার। তিনি বিজেপির পূর্বসূরি জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোদ্ধা হিসেবে পরিচিত। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোদি তাকে শাল পরিয়ে বরণ করেন এবং পরে আলিঙ্গনও করেন।

পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মোদি লেখেন, মাখনলাল সরকারের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ হলো। তিনি একজন নিবেদিতপ্রাণ জাতীয়তাবাদী। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে কাজ করেছেন এবং জম্মু-কাশ্মীরে গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন। তিনি দলের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন এবং পশ্চিমবঙ্গে সংগঠন বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানান, মাখনলাল সরকার দীর্ঘদিন ধরে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। দেশাত্মবোধক গান গাওয়ার অভিযোগে কংগ্রেস আমলে দিল্লি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছিল। আদালতে ক্ষমা চাইতে বলা হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। বিচারকের অনুরোধে আদালতেই গান গেয়ে শোনানোর পর বিচারক তাকে সম্মানের সঙ্গে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেন।

তিনি আরও জানান, ১৯৫২ সালে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক কাশ্মীর যাত্রার অন্যতম সঙ্গী ছিলেন মাখনলাল সরকার। সেই সফরের অন্য সহযাত্রীরা আর জীবিত নেই। তাই শ্যামাপ্রসাদের আদর্শের অনুসারী সরকার গঠনের দিনে তাকে মঞ্চে বিশেষভাবে সম্মান জানানো হয়।

১৯৪৫ সাল থেকে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সঙ্গে যুক্ত মাখনলাল সরকার ১৯৫২ সালে কাশ্মীরে শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে গ্রেপ্তার হন। শিলিগুড়ির দাগ গ্রামের বাসিন্দা এই প্রবীণ নেতা বিজেপির প্রাথমিক সংগঠন গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৮০ সালে বিজেপি প্রতিষ্ঠার পর তিনি উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, জলপাইগুড়ি এবং দার্জিলিং অঞ্চলের সাংগঠনিক সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করেন। পরে টানা সাত বছর জেলা সভাপতি হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন।


সূত্র: এনডিটিভি

আরটিভি/এসকে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission