যৌন নির্যাতনকারী বাবাকে যেভাবে ধরিয়ে দিল চোর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬ , ১২:৫৫ পিএম


যৌন নির্যাতনকারী বাবাকে যেভাবে ধরিয়ে দিল চোর
ছবি: সংগৃহীত

এক চোরের সাহসিকতা এবং মেয়ের দীর্ঘ লড়াইয়ের অবসান হলো ৪৩ বছর পর। নিজের জন্মদাতার হাতে চার বছর বয়স থেকে শুরু হওয়া বিভীষিকার বিচার পেলেন যুক্তরাষ্ট্রের রেক্সহ্যামের বাসিন্দা লিজি জোন্স। চোরের মাধ্যমে ল্যাপটপের গোপন নথির তথ্য ফাঁস হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ১৮ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে অপরাধী বাবা ডেভিড টেরেন্স পেথিগের।

​লিজির বয়স যখন মাত্র চার বছর, তখন থেকেই তার বাবা পেথিগ তার ওপর যৌন নির্যাতন শুরু করেন। মা কাজের প্রয়োজনে বাইরে থাকার সুযোগে দিনের পর দিন চলত এই পাশবিকতা। লিজির মুখ বন্ধ রাখতে পেথিগ তাকে ভয় দেখাতেন যে, কাউকে কিছু বললে তার মায়ের ক্ষতি হবে এবং সে আর কখনো মায়ের দেখা পাবে না। এই আতঙ্কেই ১৫ বছর বয়স পর্যন্ত মুখ বুজে সব সহ্য করেছেন লিজি।

​২০১১ সালে লিজিদের বাড়িতে একটি চুরির ঘটনা ঘটে। চোরটি লিজির বাবার ল্যাপটপটি চুরি করে নিয়ে যায়। কিন্তু ল্যাপটপটি খোলার পর সেখানে প্রায় ৮ হাজার ৫০০টি শিশু যৌন নির্যাতনের ছবি দেখতে পায় সেই চোর। অপরাধী হয়েও নৈতিকতা বোধ থেকে সে ল্যাপটপটি নিয়ে সরাসরি পুলিশের কাছে হাজির হয়।

তদন্তে পেথিগের বিরুদ্ধে অশ্লীল ছবি ও ভিডিও সংরক্ষণের প্রমাণ মেলে। যদিও সে সময় আদালতে দোষ স্বীকার করলেও পেথিগকে কারাদণ্ড থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল।

​বাবার ল্যাপটপের ওই ঘটনা জানার পর লিজি সিদ্ধান্ত নেন আর চুপ থাকবেন না। তিনি তার মাকে সব খুলে বলেন। লিজির মা বিষয়টি জানার পর ভেঙে না পড়ে মেয়েকে সাহস জোগান এবং পুলিশের কাছে মামলা করেন। অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) মামলাটির ভার নেয়।

​দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে ডেভিড টেরেন্স পেথিগের বিরুদ্ধে ১৫টি অশালীন ঘটনা, ধর্ষণ ও যৌন হামলার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়। অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে ১৮ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন। সেই সাথে মুক্তি পাওয়ার পর আরও ১২ মাস বিশেষ নজরদারিতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন

​লিজি জানান, বিচারের রায় আসার আগেই তার মা মারা গেছেন, যা তার জন্য অত্যন্ত বেদনার। লিজি বলেন, আমি যা চেয়েছিলাম তা পেয়েছি, তাকে জেলে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এতে আমার দুঃসহ স্মৃতি মুছে যায়নি।

বর্তমানে লিজি তার এই যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতা নিয়ে কবিতার বই লিখেছেন এবং নিয়মিত থেরাপি নিচ্ছেন। তিনি আশা করছেন, বিচারের এই রায় তাকে মানসিক যন্ত্রণা ও দুঃস্বপ্ন থেকে কিছুটা মুক্তি দেবে।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission