ইউরোপে প্রথমবারের মতো ইবোলা শনাক্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬ , ১১:০০ পিএম


ইউরোপে প্রথমবারের মতো  ইবোলা শনাক্ত
ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপে প্রথমবারের মতো হানা দিয়েছে প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাস। ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআর কঙ্গো) থেকে মানবিক মিশন শেষে ফ্রান্সে ফেরা এক চিকিৎসকের শরীরে রোগটি শনাক্ত হয়েছে। তবে ফরাসি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, সাধারণ মানুষের জন্য এই ভাইরাসের ঝুঁকি এখনও বেশ কম।

ইবোলা মূলত একটি বিরল এবং অত্যন্ত মারাত্মক সংক্রামক ভাইরাস। এটি সরাসরি মানুষের রক্তনালীর ক্ষতি করে এবং শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংস করে দেয়। ১৯৭৬ সালে কঙ্গো এবং সুদানে প্রথম এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। বিজ্ঞানীদের ধারণা, ফ্রুট ব্যাট বা শিম্পাঞ্জি থেকে এটি প্রথম মানুষের মধ্যে ছড়িয়েছিল।

তবে বর্তমানে বিশ্বজুড়ে নতুন করে আতঙ্ক তৈরির পেছনে রয়েছে ইবোলার নতুন ভ্যারিয়েন্ট বা ধরন ‘বুন্দিবুগিও’। ২০০৭ সালে উগান্ডার বুন্দিবুগিও জেলায় প্রথম ইবোলার এই নতুন স্ট্রেইন শনাক্ত হয়। সেই জেলার নামানুসারেই এর নামকরণ করা হয়েছে। সম্প্রতি কঙ্গোতে আবারও মারাত্মকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে ইবোলা। এরই মধ্যে আফ্রিকার এই দেশটিতে এক হাজারেরও বেশি মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এবং মৃত্যু হয়েছে আড়াই শতাধিক মানুষের।

আরও পড়ুন

আফ্রিকার বাইরে ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে এবার ফ্রান্সে শনাক্ত হলো ইবোলার সংক্রমণ। আক্রান্ত ব্যক্তি পেশায় একজন চিকিৎসক, যিনি সম্প্রতি কঙ্গোয় একটি বেসরকারি সংস্থায় মানবিক সহায়তার কাজ শেষে দেশে ফেরেন। বুধবার (২৪ জুন) ফরাসি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, শনাক্তের পরপরই তাকে একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। কঙ্গোফেরত অন্যান্য কর্মীদের জন্য এরই মধ্যে একটি বিশেষ নজরদারি ব্যবস্থা চালু করেছে ফ্রান্স।

এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান এক সংবাদ সম্মেলনে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টার চেয়ে ভাইরাসের বিস্তারের গতি অনেক বেশি। আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসাদের খুঁজে বের করার প্রক্রিয়া এখনো দুর্বল এবং আইসোলেশন সেন্টারগুলোতে পর্যাপ্ত চিকিৎসার অভাব রয়েছে বলে জানান তিনি।

ডিআর কঙ্গোতে গত মাসে প্রথম ইবোলার প্রাদুর্ভাব দেখা দিলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আনুষ্ঠানিক ঘোষণার বেশ কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই ভাইরাসটি সেখানে ছড়াচ্ছিল। ইবোলার বর্তমান প্রাদুর্ভাবটি মূলত বুন্দিবুগিও প্রজাতির ভাইরাসের কারণে হচ্ছে, যার কোনো প্রতিষেধক বা ভ্যাকসিন এখনো আবিষ্কার হয়নি। এটি মূলত শরীরের তরল পদার্থের মাধ্যমে ছড়ায় বিধায় সম্মুখসারির স্বাস্থ্যকর্মীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। কঙ্গোতে এরই মধ্যে প্রায় ৮০ জন স্বাস্থ্যকর্মী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, যার মধ্যে অন্তত ১৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

আরটিভি/এআর  

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission