পবিত্র কুরআনের খেদমতে নতুন এক ইতিহাসের সাক্ষী হতে যাচ্ছে সৌদি আরব। দেশটির ঐতিহ্যবাহী ও বিশ্বজুড়ে সম্মানিত ‘বাদশাহ আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কুরআন হিফজ, তেলাওয়াত ও তাফসির প্রতিযোগিতা’-য় এবার প্রথমবারের মতো নারী বিভাগ যুক্ত করা হয়েছে। ফলে আসন্ন ৪৬তম আসরে নারী প্রতিযোগীরাও আনুষ্ঠানিকভাবে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ সম্প্রতি এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের অনুমোদন দিয়েছেন। রোববার (১০ মে) সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম আরব নিউজ। প্রতিবছর মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামে আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা মুসলিম বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ কুরআনিক আয়োজন হিসেবে বিবেচিত।
প্রতিযোগিতাটি ১৯৭৯ সালে চালু হওয়ার পর থেকে এতদিন কেবল পুরুষ প্রতিযোগীরাই এতে অংশ নিতে পারতেন। সৌদি আরবের ইসলামবিষয়ক মন্ত্রী শায়খ ড. আবদুল লতিফ বিন আবদুল আজিজের একটি প্রস্তাবের ভিত্তিতে বাদশাহ সালমান এবার নারী হাফেজদের জন্য সরকারিভাবে এই প্রতিযোগিতার দ্বার খুলে দিলেন।
সৌদি আরবের ইসলামবিষয়ক মন্ত্রণালয় এই উদ্যোগকে প্রতিযোগিতার ইতিহাসে ‘একটি বড় মাইলফলক’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাদের মতে, এর মাধ্যমে বিশ্বের নারী ও পুরুষ—উভয় শ্রেণির কুরআনের খাদেমদের জন্য সমানভাবে এই আন্তর্জাতিক মঞ্চ উন্মুক্ত হলো।
সৌদি আরবের ইসলামবিষয়ক মন্ত্রী ড. আবদুল লতিফ আল-শেখ এই সিদ্ধান্তের জন্য বাদশাহ সালমান এবং ক্রাউন প্রিন্স মুহাম্মদ বিন সালমানের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এই পদক্ষেপ পবিত্র কুরআনের প্রচার ও প্রসারে সৌদি নেতৃত্বের আন্তরিকতার প্রতিফলন। পাশাপাশি এটি সমাজের প্রতিটি স্তরে নারীদের মেধা ও যোগ্যতার প্রতি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ৪৬তম প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৯ আগস্ট। এই আয়োজনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে সব ধরনের সাংগঠনিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এবারের আসরটিকে আরও নিখুঁত, সুশৃঙ্খল ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, সৌদি আরবের মক্কায় আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় প্রতি বছর বিশ্বের শতাধিক দেশ থেকে নির্বাচিত হাফেজরা অংশগ্রহণ করেন।
আরটিভি/এআর




