ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ওঠায় পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। এতে দেশজুড়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে এবং রাজধানী দিল্লিতে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। দেশটির একাধিক গণমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানা যায়।
৩ মে অনুষ্ঠিত এ পরীক্ষায় সারা দেশ থেকে প্রায় ২২ লাখের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেয়। কিন্তু পরীক্ষা শেষ হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ সামনে আসে।
তদন্তে জানা যায়, একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরীক্ষার প্রশ্ন আগেই সংগ্রহ করে তা প্রশ্নপত্রের অনুশীলন বই হিসেবে ছদ্মবেশে বিক্রি করছিল। প্রতি কপি প্রশ্নের দাম ছিল প্রায় ১০ লাখ থেকে ২৫ লাখ রুপি পর্যন্ত।
তদন্তকারীরা বলছেন, জীববিজ্ঞান ও রসায়নের বহু প্রশ্ন ওই ফাঁস হওয়া সেটে হুবহু পাওয়া গেছে। বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে থাকা একটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এই প্রশ্নগুলো বিক্রি করা হয়।
রাজস্থান পুলিশের বিশেষ তদন্ত দল জানায়, ৪০০টির বেশি প্রশ্ন থাকা একটি অনুশীলন বইয়ের ভেতরে আসল পরীক্ষার প্রশ্ন লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। পরে সেটি বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে।
মঙ্গলবার (১২ মে) কেন্দ্রীয় সরকারের জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা জানায়, বর্তমান পদ্ধতিতে পরীক্ষা অব্যাহত রাখা আর সম্ভব নয়। এরপরই পরীক্ষাটি বাতিলের সিদ্ধান্ত আসে।
এ ঘটনায় একইদিনে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা নিয়ে নিট-ইউজি ২০২৬ প্রশ্নফাঁসের তদন্ত শুরু করেছে সিবিআই। অভিযোগে প্রতারণা, ষড়যন্ত্র, দুর্নীতি এবং প্রমাণ নষ্ট করার মতো গুরুতর অপরাধ যুক্ত করা হয়েছে।
এর আগে রাজস্থান পুলিশের স্পেশাল অপারেশনস গ্রুপ (এসওজি) জানিয়েছিল, একটি প্রশ্নফাঁস চক্র ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রকে গেস পেপার হিসেবে ছদ্মবেশে বিক্রি করছিল। তাদেরকে শুধু ওই প্রশ্নগুলো মুখস্থ করার পরামর্শ দিচ্ছিল।
এখন পর্যন্ত বহু শিক্ষার্থী ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে পুরো চক্রটি কোথা থেকে শুরু হয়েছে, তা নিয়ে এখনো তদন্ত চলছে।
এই ঘটনার পর ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
আরটিভি/জেএমএ



