চার দশক পুরোনো ২ হত্যারহস্যের জট খুলল চুইংগাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬ , ১২:০৮ পিএম


চার দশক পুরোনো ২ হত্যারহস্যের জট খুলল চুইংগাম
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে প্রায় চার দশক ধরে অমীমাংসিত থাকা দুই নারীর হত্যাকাণ্ডের রহস্য অবশেষে উন্মোচিত হয়েছে এক অভিনব আন্ডারকভার অভিযানের মাধ্যমে। চুইংগাম চিবানোর পর ফেলে দেওয়া গাম থেকে সংগ্রহ করা ডিএনএ মিলিয়ে শনাক্ত করা হয় অভিযুক্ত ৬৮ বছর বয়সী মিচেল গ্যাফকে।

মিচেল গ্যাফ স্নোহোমিশ কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টে দুটি প্রথম-ডিগ্রি হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। আদালতে তিনি দুই হত্যাকাণ্ডের বর্ণনাও দেন।

প্রসিকিউটর ক্রেইগ ম্যাথেসনের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত মামলার সমাধান হওয়ায় নিহতদের পরিবার কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে।

১৯৮০ সালের ১২ জুলাই ওয়াশিংটনের এভারেটে নিজ বাড়িতে একা ছিলেন ২১ বছর বয়সী সুসান ভেসি। পরে তার স্বামী বাসায় ফিরে দেখেন, বৈদ্যুতিক তার দিয়ে বেঁধে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে তাকে। ঘরে থাকা তাদের দুই শিশু সন্তান অক্ষত ছিল।

চার বছর পর ১৯৮৪ সালের ১ জুন একই এলাকার কাছেই একই ধরনের আরেকটি হত্যাকাণ্ড ঘটে। ৪২ বছর বয়সী জুডি উইভারের অ্যাপার্টমেন্টে আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে। তাকেও বৈদ্যুতিক তার দিয়ে বেঁধে ধর্ষণ ও শ্বাসরোধে হত্যার পর আগুন লাগানো হয়েছিল।

তবে সে সময় দুই ঘটনার মধ্যে কোনো সম্পর্ক খুঁজে পায়নি পুলিশ।

বহু বছর পর জাতীয় ডিএনএ ডাটাবেজে (কোডিস) পাওয়া একটি সূত্র তদন্তকারীদের সন্দেহের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে মিচেল গ্যাফকে।

২০২৪ সালে এভারেট পুলিশ বিভাগের দুই নারী গোয়েন্দা চুইংগাম কোম্পানির গবেষক পরিচয়ে গ্যাফের বাড়িতে যান। তারা তাকে বিভিন্ন স্বাদের চুইংগাম চেখে দেখতে বলেন। গ্যাফ গাম চিবিয়ে ছোট কাপে ফেলে দিলে সেখান থেকেই সংগ্রহ করা হয় তার ডিএনএ।

পরীক্ষায় সেই ডিএনএ জুডি উইভারের মরদেহ থেকে পাওয়া আলামতের সঙ্গে মিলে যায়। পরে সুসান ভেসির মামলার আলামত পুনরায় পরীক্ষা করেও একই মিল পাওয়া যায়।

এরপর গ্যাফের বিরুদ্ধে দুই হত্যার অভিযোগ আনা হয়।

মিচেল গ্যাফ আগে থেকেই একজন দণ্ডপ্রাপ্ত ধর্ষক ও যৌন সহিংস অপরাধী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

১৯৭৯ সালে জ্যাকি ও’ব্রায়েন নামে এক নারীর ওপর ভয়াবহ হামলা চালানোর দায়ে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনি। পরে ১৯৮৪ সালে দুই কিশোরীকে বেঁধে দীর্ঘসময় নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হয়।

আদালতে বিভিন্ন সময় গ্যাফ স্বীকার করেছে, ১৯৮০-এর দশকে বহু নারীকে আক্রমণের চেষ্টা করেছিলেন এবং একাধিক ধর্ষণের ঘটনাও ঘটিয়েছেন।

আইনজীবীরা তার জন্য অন্তত ৬১ বছরের কারাদণ্ড চেয়েছেন। এতে জীবনের বাকি সময় তাকে কারাগারেই কাটাতে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গ্যাফের হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া জ্যাকি ও’ব্রায়েন জানিয়েছেন, মৃত্যুদণ্ড না হলেও কারাগারেই গ্যাফের জীবনের শেষ হওয়াটাই তার কাছে স্বস্তির বিষয়। সূত্র: সিটিভি নিউজ

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission