সিডনিতে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যা করলেন বাংলাদেশি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬ , ১০:৪৬ এএম


সিডনিতে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যা করলেন বাংলাদেশি
অস্ট্রেলিয়ার সিডনি শহর। ছবি: সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ার সিডনি শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ক্যাম্পবেলটাউনের এলাকায় স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার অভিযোগে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত ৪৭ বছর বয়সী মো. শোমন আহমেদের বিরুদ্ধে তিনটি হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, সোমবার (১৮ মে) রাত ৮টার কিছু আগে ক্যাম্পবেলটাউনের রেমন্ড অ্যাভিনিউয়ের একটি বাড়ি থেকে জরুরি নম্বরে ফোন আসে। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ ও জরুরি সেবা কর্মীরা বাড়ির ভেতর থেকে ৪৬ বছর বয়সী এক নারী এবং চার ও ১২ বছর বয়সী দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে।

আদালতের নথি অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৯টা থেকে রাত ৭টা ৫৫ মিনিটের মধ্যে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকেই মো. শোমন আহমেদকে আটক করা হয়।

বাংলাদেশি কমিউনিটির সূত্রে জানা গেছে, পরিবারটি কয়েক বছর ধরে ক্যাম্পবেলটাউনের ওই এলাকায় বসবাস করছিল। পরিবারের বাবা বাসায় থেকে দুই সন্তানের দেখাশোনা করতেন, আর মা চাকরি করতেন। তবে পুলিশ এখনও নিহতদের আনুষ্ঠানিক পরিচয় প্রকাশ করেনি।

মঙ্গলবার ক্যাম্পবেলটাউন লোকাল কোর্টে মামলাটি সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন করা হয়। অভিযুক্ত আদালতে উপস্থিত ছিলেন না এবং জামিনের আবেদনও করেননি। আদালত আনুষ্ঠানিকভাবে তার জামিন নামঞ্জুর করেছে। আগামী ১৫ জুলাই তাকে আবার আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।

অভিযুক্তের আইনজীবী জাওয়াদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, তার মক্কেল মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তিনি ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক উল্লেখ করে নিহত পরিবার, স্বজন ও কমিউনিটির প্রতি সমবেদনা জানান।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, পরিবারটি ছিল নিরিবিলি ও নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। প্রতিবেশী আমান্ডা ওয়াসিলেস্কি বলেন, ভাবতেই পারছি না কয়েক ঘর পরেই এমন ভয়াবহ ঘটনা ঘটছিল।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাড়িটি ছিল অত্যন্ত সহিংস অপরাধস্থল। পুলিশ জানায়, নারী ও দুই শিশুর মরদেহ বাড়ির আলাদা অংশে পাওয়া গেছে। অ্যাক্টিং সুপারিনটেনডেন্ট মাইকেল মোরোনি বলেন, নিহতদের শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। তবে কীভাবে তাদের হত্যা করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। 

পুলিশ আরও জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আগে কোনো পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগ ছিল না এবং তিনি পুলিশের নজরেও ছিলেন না।

স্থানীয় এমপি ডা. মাইক ফ্রিল্যান্ডার ঘটনাটিকে জাতীয় ট্র্যাজেডি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি শুধু স্থানীয় কমিউনিটির নয়, পুরো অস্ট্রেলিয়ার জন্যই গভীর শোকের বিষয়।

আরও পড়ুন

এদিকে, মঙ্গলবার সকাল থেকে পুরো আবাসিক এলাকাটি ঘিরে রেখে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা তদন্ত চালান। একই সঙ্গে প্রকাশিত এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ প্রতি তিন মিনিটে একটি করে পারিবারিক সহিংসতার ঘটনার সাড়া দিয়ে থাকে, যা তাদের মোট কলের প্রায় ৬০ শতাংশ।

সূত্র: নিউজডটকমডটএউ

আরটিভি/এসকে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission