দক্ষিণ আমেরিকার দেশ আর্জেন্টিনার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর উশুয়াইয়া এবং আশপাশের এলাকায় হান্টাভাইরাসের সম্ভাব্য উৎস খুঁজতে মাঠে নেমেছেন বিজ্ঞানীরা। ভাইরাসটির উপস্থিতি শনাক্ত করতে তারা প্রায় ১৫০টি ফাঁদ বসিয়ে ইঁদুর জাতীয় প্রাণী সংগ্রহের অভিযান শুরু করেছেন।
সম্প্রতি উশুয়াইয়া থেকে যাত্রা করা ‘এমভি হন্ডিয়াস’ নামের একটি ক্রুজ জাহাজে হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়। এরপর থেকেই এলাকাজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং ভাইরাসটির উৎস শনাক্তে তৎপরতা শুরু হয়।
এ পরিস্থিতিতে রাজধানী বুয়েনস আয়ার্স থেকে আসা জীববিজ্ঞানীদের একটি দল কয়েক দিনের বিশেষ গবেষণা কার্যক্রম চালাচ্ছেন। তারা তিয়েরা দেল ফুয়েগো দ্বীপের বিভিন্ন স্থানে ফাঁদ বসিয়ে ধরা পড়া ইঁদুর জাতীয় প্রাণীর শরীরে অ্যান্ডিজ ধরনের হান্টাভাইরাস রয়েছে কি না তা পরীক্ষা করবেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হান্টাভাইরাস বিরল হলেও অত্যন্ত বিপজ্জনক। সাধারণত আক্রান্ত ইঁদুরের মূত্র, মল বা লালার সংস্পর্শে এ ভাইরাস মানুষের শরীরে ছড়ায়। তবে অ্যান্ডিজ ধরনের হান্টাভাইরাসের ক্ষেত্রে মানুষ থেকে মানুষেও সংক্রমণ ঘটতে পারে।
এই ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির জ্বর, শরীর ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। গুরুতর অবস্থায় এটি ফুসফুসে মারাত্মক সংক্রমণ সৃষ্টি করে। বর্তমানে এ রোগের নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ বছরে তিয়েরা দেল ফুয়েগো অঞ্চলে হান্টাভাইরাসের কোনো ঘটনা নথিভুক্ত হয়নি। তাই বিজ্ঞানীদের ধারণা, ক্রুজ জাহাজে শনাক্ত হওয়া সংক্রমণ অন্য কোনো এলাকা থেকে আসতে পারে।
জাহাজে আক্রান্তদের মধ্যে একজন ডাচ দম্পতিও ছিলেন। তারা গত চার মাসে আর্জেন্টিনার পাশাপাশি চিলি ও উরুগুয়ে ভ্রমণ করেছিলেন।
সূত্র : এএফপি
আরটিভি/এসকে



