নেটপাড়ায় ঝড় তোলা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতা কে এই অভিজিৎ?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬ , ০৬:০৪ পিএম


নেটপাড়ায় ঝড় তোলা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতা কে এই অভিজিৎ?
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে নতুন ব্যঙ্গাত্মক ডিজিটাল উদ্যোগ ‘ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)’। দলটি প্রতিষ্ঠা করেন ভারতীয় তরুণ অভিজিৎ দিপক। গত ১৬ মে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করা এই উদ্যোগটি অল্প সময়ের মধ্যেই নেটদুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে পড়ে।

সিজেপি মূলত একটি ডিজিটাল স্যাটায়ার বা ব্যঙ্গধর্মী প্ল্যাটফর্ম, যা ভারতের সমসাময়িক রাজনীতি, বেকারত্ব, শিক্ষা ব্যবস্থা ও সামাজিক নানা ইস্যু নিয়ে মিম, অ্যানিমেশন, গ্রাফিক্স এবং ব্যঙ্গাত্মক কনটেন্ট তৈরি করে।

অভিজিৎ দিপক ভারতের পুনে থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমানে বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে জনসংযোগ বিষয়ে স্নাতকোত্তর অধ্যয়ন করছেন বলে জানা গেছে।

তিনি ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ভারতের আম আদমি পার্টিরর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সে সময় তিনি দলটির সোশ্যাল মিডিয়া টিমে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেন।

সিজেপির জন্ম হয় ভারতের প্রধান বিচারপতি Surya Kant-এর একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ ওঠে, শুনানির সময় কিছু তরুণকে উদ্দেশ করে তিনি ‘ককরোচ’ শব্দ ব্যবহার করেছিলেন। পরে বিচারপতি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, তার বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং তিনি মূলত ভুয়া ডিগ্রি নিয়ে পেশায় প্রবেশ করা কিছু ব্যক্তির প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছিলেন।

এই ঘটনাকে ঘিরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় তীব্র আলোচনা। সেই প্রেক্ষাপটে ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’।

শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সিজেপি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। তাদের দাবি অনুযায়ী, বর্তমানে ইনস্টাগ্রামে অনুসারীর সংখ্যা ১ কোটি ৯০ লাখের বেশি, যা ভারতের অনেক মূলধারার রাজনৈতিক দলের চেয়েও বেশি। এছাড়া এক্স (সাবেক টুইটার)-এও দলটির অনুসারী সংখ্যা দ্রুত বাড়ছিল। তবে আইনি জটিলতার কারণে বৃহস্পতিবার থেকে অ্যাকাউন্টটি অকার্যকর হয়ে যায়।

সিজেপি নিজেদের পরিচয় দেয়‘সিস্টেম যাদের গণনায় রাখে না, তাদের রাজনৈতিক কণ্ঠস্বর’ হিসেবে। দলটির ওয়েবসাইটে আরও বলা হয়েছে, তারা ‘অলস ও বেকারদের কণ্ঠ’।

দলে যোগদানের জন্য মজার ছলে কয়েকটি শর্তও দেওয়া হয়েছে। যেমন, বেকার হতে হবে, অলস হতে হবে, সবসময় অনলাইনে সক্রিয় থাকতে হবে, ব্যঙ্গ করার দক্ষতা থাকতে হবে ও আলোচনায় ব্যঙ্গরাজনীতি।

আরও পড়ুন

রাজনৈতিক ব্যঙ্গ ও ডিজিটাল মিম সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সিজেপি বর্তমানে ভারতের তরুণদের মধ্যে আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে বেকারত্ব, প্রশ্নফাঁস, শিক্ষা সংকট এবং সামাজিক বৈষম্য নিয়ে তাদের কনটেন্ট ব্যাপকভাবে শেয়ার হচ্ছে।


সূত্র: এনডিটিভি

আরটিভি/এসকে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission