এবার পাকিস্তানে আত্মপ্রকাশ করল ‘ককরোচ আওয়ামি লিগ’ ও ‘ককরোচ আওয়ামি পার্টি’

আন্তর্জাতিক, আরটিভি নিউজ

শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬ , ১০:৪৯ পিএম


এবার পাকিস্তানে আত্মপ্রকাশ করল 'ককরোচ আওয়ামি লিগ' ও 'ককরোচ আওয়ামি পার্টি'
ছবি: সংগৃহীত

ভারতে ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন হিসেবে শুরু হওয়া 'ককরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি) এখন সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানের রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। তবে পাকিস্তানের ক্ষেত্রে এই আন্দোলনটি অনেক বেশি বিকেন্দ্রীভূত। সেখানে অনেক স্বতন্ত্র কনটেন্ট ক্রিয়েটর এই আন্দোলনের নিজস্ব সংস্করণ তৈরি করছেন।

গত শনিবার (১৬ মে) ভারতে যাত্রা শুরুর পর ইন্টারনেট দুনিয়ায় ঝড় তোলা এই আন্দোলন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে পাকিস্তানের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এখন একের পর এক নতুন অ্যাকাউন্ট বা পেজ তৈরি হচ্ছে। 

ভারতে এই ব্যঙ্গাত্মক গোষ্ঠীটি তাদের অনুপ্রেরণা হিসেবে বেছে নিয়েছে তেলাপোকাকে—যা একগুঁয়ে, সহজে দমানো যায় না এবং দ্রুত বংশবৃদ্ধি করতে সক্ষম। এই অদম্য বৈশিষ্ট্যের কারণেই মাত্র এক সপ্তাহেরও কম সময়ে অনলাইনে কয়েক কোটি অনুসারী পেয়েছে এই আন্দোলন।
 
পাকিস্তানেও এখন ককরোচ জনতা পার্টির বিভিন্ন সংস্করণ দেখা যাচ্ছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— 'ককরোচ আওয়ামি পার্টি', 'ককরোচ আওয়ামি লীগ' এবং 'মুত্তাহিদা ককরোচ মুভমেন্ট'। 

ককরোচ আওয়ামি পার্টির পরিচিতিতে লেখা হয়েছে, 'তরুণদের রাজনৈতিক মঞ্চ, তরুণদের দ্বারা, পাকিস্তানের জন্য'। একই ধরনের অন্য একটি অ্যাকাউন্টের পরিচিতিতে লেখা হয়েছে, 'যাদের সিস্টেম তেলাপোকা মনে করেছিল, আমরা সেই জনসাধারণেরই কণ্ঠস্বর'। 

এই পেজগুলোর লোগো ভারতের মূল সংগঠনের লোগোর সাথে হুবহু মিল থাকলেও, তারা সচেতনভাবেই পাকিস্তানের পতাকার সাথে মিল রেখে সবুজ-সাদা রঙ বেছে নিয়েছে। ইমরান খানের পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই), পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) মতো প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক শক্তির বাইরে নিজেদের একটি স্বতন্ত্র বিকল্প হিসেবে ব্র্যান্ডিং করছে তারা। 

আরও পড়ুন

কে শুরু করেছেন এই ককরোচ জনতা পার্টি ?

ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হলেন ৩০ বছর বয়সী অভিজিৎ দীপক। তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটির একজন শিক্ষার্থী। এর আগে তিনি আম আদমি পার্টির রাজনৈতিক যোগাযোগ কৌশলবিদ হিসেবে কাজ করেছেন। বর্তমানে এই দলের একটি নিজস্ব ইশতেহার ও অফিসিয়াল ওয়েবসাইটও রয়েছে। 

তবে পাকিস্তানের ক্ষেত্রে এই আন্দোলনটি অনেক বেশি বিকেন্দ্রীভূত। সেখানে অনেক স্বতন্ত্র কনটেন্ট ক্রিয়েটর এই আন্দোলনের নিজস্ব সংস্করণ তৈরি করছেন। 

মূলত ভারতের সুপ্রিম কোর্টে এক শুনানির সময় বিচারপতি সূর্য কান্ত বেকার যুবক ও কর্মীদের 'তেলাপোকা' এবং 'পরজীবী'র সাথে তুলনা করার পর এই 'ককরোচ জনতা পার্টি'র জন্ম হয়। শুনানিতে বিচারপতি কান্ত বলেছিলেন, 'তেলাপোকার মতো এমন অনেক তরুণ আছে, যারা কোনো কর্মসংস্থান পায় না, পেশাগত ক্ষেত্রেও যাদের কোনো জায়গা নেই।' 

তবে পরবর্তীতে তিনি বিষয়টি পরিষ্কার করে বলেন যে, যারা জাল সার্টিফিকেট বা ডিগ্রি ব্যবহার করে বিভিন্ন পেশায় প্রবেশ করে, মূলত তাদের উদ্দেশ্যেই তিনি এই মন্তব্য করেছিলেন। 

কোনো আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক দল না হওয়া সত্ত্বেও, ককরোচ জনতা পার্টি যাত্রা শুরুর এক সপ্তাহেরও কম সময়ে ইনস্টাগ্রামে ২ কোটিরও বেশি অনুসারী অর্জন করেছে।

সূত্র: এনডিটিভি

আরটিভি/এসকেডি

 

 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission