বিশ্ব রাজনীতিতে চীন সবসময় নিজেকে “নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী” হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে। কিন্তু এবার সামনে এলো এমন এক তথ্য, যা নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে দিয়েছে পুরো ইউরোপজুড়ে।
অভিযোগ উঠেছে, ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝেই গোপনে রাশিয়ার সেনাদের বিশেষ সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়েছে চীন। শুধু তাই নয়, প্রশিক্ষণ নেওয়া সেই সেনাদের অনেকেই নাকি ইতোমধ্যেই ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রেও ফিরে গেছেন। ইউরোপীয় তিনটি গোয়েন্দা সংস্থা ও রয়টার্সের হাতে আসা গোপন নথি ঘিরেই শুরু হয়েছে এই চাঞ্চল্য।
প্রতিবেদন বলা হয়, গেলো বছরের শেষ দিকে চীনের বেইজিং ও নানজিংসহ কয়েকটি সামরিক ঘাঁটিতে প্রায় ২০০ রুশ সেনাকে দেওয়া হয় প্রশিক্ষণ। সেখানে শেখানো হয় ড্রোন পরিচালনা, শত্রু ড্রোন ধ্বংস, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, সাঁজোয়া পদাতিক কৌশল এমনকি মাইন নিষ্ক্রিয় করার মতো আধুনিক যুদ্ধ প্রযুক্তি।
রয়টার্সের পর্যালোচনা করা একটি রুশ-চীনা দ্বিপাক্ষিক চুক্তিপত্র অনুযায়ী, ২০১৫ সালের জুলাই মাসে বেইজিংয়ে দুই দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে এই প্রশিক্ষণ চুক্তি সই হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এই পুরো কার্যক্রম গোপন রাখার জন্যও ছিলো কঠোর নির্দেশনা। কোনো গণমাধ্যমে তথ্য ফাঁস করা যাবে না, এমন শর্তও ছিল চুক্তিতে। আর এখানেই বাড়ছে প্রশ্ন।
কারণ ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে চীন প্রকাশ্যে বলে এসেছে, তারা এই সংঘাতে নিরপেক্ষ। তারা নাকি শুধু শান্তি চায়। অথচ এখন অভিযোগ উঠছে, পর্দার আড়ালে রাশিয়ার সেনাদের যুদ্ধের নতুন কৌশল শেখানো হয়েছে চীনের মাটিতেই।
সমর বিশ্লেষকদের মতে, এই সহযোগিতার সবচেয়ে বড় দিক হলো ড্রোন প্রযুক্তি। ইউক্রেন যুদ্ধ দেখিয়ে দিয়েছে, আধুনিক যুদ্ধে ড্রোন এখন সবচেয়ে ভয়ংকর অস্ত্রগুলোর একটি। আকাশে ছোট্ট একটি ড্রোন, কিন্তু মুহূর্তেই ধ্বংস করে দিতে পারে ট্যাংক, বাংকার কিংবা পুরো সামরিক অবস্থান। আর ঠিক এই জায়গাতেই চীনের দক্ষতা অনেক বেশি।
গোয়েন্দা সূত্র বলছে, চীনের উন্নত ফ্লাইট সিমুলেটর ও ড্রোন যুদ্ধ কৌশল রুশ সেনাদের নতুনভাবে যুদ্ধ করতে সাহায্য করছে। প্রশিক্ষণ নেওয়া অনেক সেনাই আবার উচ্চপদস্থ সামরিক প্রশিক্ষক। ফলে তারা দেশে ফিরে অন্য সেনাদেরও এই অভিজ্ঞতা শেখাচ্ছেন।
রয়টার্সের হাতে আসা কিছু নথিতে আরও বলা হয়েছে, প্রশিক্ষণে ড্রোন দিয়ে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করা, ইলেকট্রনিক রাইফেল দিয়ে শত্রু ড্রোন ভূপাতিত করা, এমনকি জাল ছুড়ে ড্রোন আটকানোর কৌশলও শেখানো হয়েছে।
যদিও রাশিয়া ও চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে করেনি আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য। তবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, ইউক্রেন ইস্যুতে বেইজিং সবসময় নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছে। তাদের ভাষায়, কেউ যেন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আরও উসকে না দেয় এই সংকটকে।
আরটিভি/এআর




