ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

রাশিয়ান সৈন্যদের গোপনে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে চীন, চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৩ মে ২০২৬, ০৯:৪৩ এএম

বিশ্ব রাজনীতিতে চীন সবসময় নিজেকে “নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী” হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে। কিন্তু এবার সামনে এলো এমন এক তথ্য, যা নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে দিয়েছে পুরো ইউরোপজুড়ে।

অভিযোগ উঠেছে, ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝেই গোপনে রাশিয়ার সেনাদের বিশেষ সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়েছে চীন। শুধু তাই নয়, প্রশিক্ষণ নেওয়া সেই সেনাদের অনেকেই নাকি ইতোমধ্যেই ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রেও ফিরে গেছেন। ইউরোপীয় তিনটি গোয়েন্দা সংস্থা ও রয়টার্সের হাতে আসা গোপন নথি ঘিরেই শুরু হয়েছে এই চাঞ্চল্য।

প্রতিবেদন বলা হয়, গেলো বছরের শেষ দিকে চীনের বেইজিং ও নানজিংসহ কয়েকটি সামরিক ঘাঁটিতে প্রায় ২০০ রুশ সেনাকে দেওয়া হয় প্রশিক্ষণ। সেখানে শেখানো হয় ড্রোন পরিচালনা, শত্রু ড্রোন ধ্বংস, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, সাঁজোয়া পদাতিক কৌশল এমনকি মাইন নিষ্ক্রিয় করার মতো আধুনিক যুদ্ধ প্রযুক্তি।

আরও পড়ুন

রয়টার্সের পর্যালোচনা করা একটি রুশ-চীনা দ্বিপাক্ষিক চুক্তিপত্র অনুযায়ী, ২০১৫ সালের জুলাই মাসে বেইজিংয়ে দুই দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে এই প্রশিক্ষণ চুক্তি সই হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এই পুরো কার্যক্রম গোপন রাখার জন্যও ছিলো কঠোর নির্দেশনা। কোনো গণমাধ্যমে তথ্য ফাঁস করা যাবে না, এমন শর্তও ছিল চুক্তিতে। আর এখানেই বাড়ছে প্রশ্ন।

কারণ ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে চীন প্রকাশ্যে বলে এসেছে, তারা এই সংঘাতে নিরপেক্ষ। তারা নাকি শুধু শান্তি চায়। অথচ এখন অভিযোগ উঠছে, পর্দার আড়ালে রাশিয়ার সেনাদের যুদ্ধের নতুন কৌশল শেখানো হয়েছে চীনের মাটিতেই।

সমর বিশ্লেষকদের মতে, এই সহযোগিতার সবচেয়ে বড় দিক হলো ড্রোন প্রযুক্তি। ইউক্রেন যুদ্ধ দেখিয়ে দিয়েছে, আধুনিক যুদ্ধে ড্রোন এখন সবচেয়ে ভয়ংকর অস্ত্রগুলোর একটি। আকাশে ছোট্ট একটি ড্রোন, কিন্তু মুহূর্তেই ধ্বংস করে দিতে পারে ট্যাংক, বাংকার কিংবা পুরো সামরিক অবস্থান। আর ঠিক এই জায়গাতেই চীনের দক্ষতা অনেক বেশি।

গোয়েন্দা সূত্র বলছে, চীনের উন্নত ফ্লাইট সিমুলেটর ও ড্রোন যুদ্ধ কৌশল রুশ সেনাদের নতুনভাবে যুদ্ধ করতে সাহায্য করছে। প্রশিক্ষণ নেওয়া অনেক সেনাই আবার উচ্চপদস্থ সামরিক প্রশিক্ষক। ফলে তারা দেশে ফিরে অন্য সেনাদেরও এই অভিজ্ঞতা শেখাচ্ছেন।

রয়টার্সের হাতে আসা কিছু নথিতে আরও বলা হয়েছে, প্রশিক্ষণে ড্রোন দিয়ে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করা, ইলেকট্রনিক রাইফেল দিয়ে শত্রু ড্রোন ভূপাতিত করা, এমনকি জাল ছুড়ে ড্রোন আটকানোর কৌশলও শেখানো হয়েছে।

যদিও রাশিয়া ও চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে করেনি আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য। তবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, ইউক্রেন ইস্যুতে বেইজিং সবসময় নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছে। তাদের ভাষায়, কেউ যেন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আরও উসকে না দেয় এই সংকটকে।

আরটিভি/এআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
একসঙ্গে ৫ সরকারি চাকরি, শেষ রক্ষা হলো না কর্মকর্তার
করোনা মহামারীর পর চালু হওয়া ‘ঘর থেকে কাজ করা’ বা ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ সংস্কৃতির সুযোগ নিয়ে এক অভিনব জালিয়াতির ঘটনা ফাঁস হয়েছে যুক্তরাজ্যে। লন্ডন কাউন্সিলের এক সরকারি কর্মকর্তা একই সময়ে অন্তত পাঁচটি পূর্ণকালীন সরকারি চাকরি করে প্রায় সাড়ে তিন লাখ পাউন্ড হাতিয়ে নিয়েছেন বলে আদালতে অভিযোগ উঠেছে। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।  সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টে এই মামলার শুনানিতে প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, ৫৫ বছর বয়সি কাশিম চৌধুরী নামের ওই ব্যক্তি জালিয়াতির ৯টি অভিযোগই অস্বীকার করেছেন।  ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে মোট আটটি ভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড উপার্জন করেছেন কাশিম। এর মধ্যে ২০২৩ সালের মে মাসেই তিনি একসঙ্গে পাঁচটি পূর্ণকালীন চাকরি করছিলেন।  হিসাব অনুযায়ী, এই পাঁচটি চাকরির জন্য তার সাপ্তাহিক কাজের চুক্তিবদ্ধ সময় ছিল ১৮৩ ঘণ্টা! অথচ একটি পূর্ণ সপ্তাহে মোট ঘণ্টা রয়েছে ১৬৮টি (২৪ ঘণ্টার ৭ দিন)। অর্থাৎ, সপ্তাহের মোট সময়ের চেয়েও বেশি ঘণ্টা চাকরির খাতায় দেখিয়ে তিনি বেতন তুলছিলেন।  ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলে চাকরি শুরু করার পর ২০২১ সালের এপ্রিলে তিনি পরিবেশ, খাদ্য ও গ্রামীণ বিষয়ক বিভাগেও চাকরি নেন।  এভাবে একের পর এক স্বাস্থ্য বিভাগ, হোম অফিস, ফুড স্ট্যান্ডার্ডস এজেন্সি এবং ইউকে হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সির মতো সংস্থায় একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যান তিনি। নতুন চাকরি নেওয়ার সময় তিনি আগের চাকরির কথা সম্পূর্ণ গোপন রেখেছিলেন।  একাধিক চাকরির চাপ সামলাতে তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ভুয়া অসুস্থতা ও ‘সিক লিভ’ ব্যবহার করতেন। কোভিড মহামারীর সময়ের দূরবর্তী কাজের সুযোগকে তিনি পুরোপুরি অপব্যবহার করেছিলেন।  আদালতে বলা হয়, তিনি ‘উদ্বেগ ও বিষণ্ণতা’র অজুহাত দেখিয়েছিলেন এবং অসুস্থ মায়ের দেখাশোনার কথা বলে বাড়ি থেকে কাজ করার অনুমতি নিয়েছিলেন। তবে কাজের চাপ মাত্রাতিরিক্ত হয়ে যাওয়ায় একপর্যায়ে তিনি ধরা পড়ে যান। ২০২৩ সালের মে মাসে ইউকে হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সির (ইউকেএইচএসএ) ম্যানেজার অ্যালিশা অ্যাডামস তার অনুপস্থিতি নিয়ে কথা বলতে একটি ভিডিও কলের আয়োজন করেন।  আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় অ্যালিশা জানান, ওই মিটিংয়ে কাশিমকে দেখতে অসুস্থ লাগানোর জন্য মুখে মেকআপ মেখে এসেছিলেন। কিন্তু মিটিং চলাকালীন তার কপালে মেকআপ সরে গিয়ে আসল চামড়া বেরিয়ে পড়ে এবং তার মুখ ও গলার রঙের ভিন্নতাও ধরা পড়ে যায়।  প্রসিকিউটর লুসি অর্গান আদালতকে জানান, ম্যানেজারের সহানুভূতি পাওয়ার জন্য তিনি ভিডিও কলে কতটা হাস্যকর রকমের মিথ্যা আশ্রয় নিয়েছিলেন, এটি তারই প্রমাণ। এ ছাড়া ভুলবশত অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের ইমেইল আইডি দিয়ে মিটিংয়ে যোগ দেওয়ায় তার একাধিক চাকরির বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে যায়। বর্তমানে এই চাঞ্চল্যকর মামলার বিচারকার্য চলছে।  আরতিভি/এসএস
একসঙ্গে ৫ সরকারি চাকরি, শেষ রক্ষা হলো না কর্মকর্তার
আঁতকে ওঠার মতো তথ্য দিল ইউনিসেফ
বড় শহরগুলোর প্রতি ১০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৯টিই এমন জায়গার কাছে অবস্থিত, যেখানে শিশুরা সহজেই অস্বাস্থ্যকর খাবার কিনতে পারে। এসব জায়গার মধ্যে রয়েছে স্ন্যাকসের দোকান, সুপারমার্কেট ও মিষ্টি বিক্রির বিশেষায়িত দোকান। 
আঁতকে ওঠার মতো তথ্য দিল ইউনিসেফ
গাজায় ইসরায়েলের ‘হলুদ রেখা’ এগোচ্ছে, বারবার ঘরছাড়া ফিলিস্তিনিরা
গাজায় ইসরায়েলের নির্ধারিত ‘হলুদ রেখা’ ক্রমেই পশ্চিম দিকে এগিয়ে আসছে। এতে নতুন করে ঘরছাড়া হচ্ছেন ফিলিস্তিনিরা।
গাজায় ইসরায়েলের ‘হলুদ রেখা’ এগোচ্ছে, বারবার ঘরছাড়া ফিলিস্তিনিরা
দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান, চালু হচ্ছে চীন-উত্তর কোরিয়ার নতুন সেতু
দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে নির্মিত নতুন ইয়ালু নদী সেতু। 
দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান, চালু হচ্ছে চীন-উত্তর কোরিয়ার নতুন সেতু
এআইয়ের হাত ধরে অর্থনীতিতে সিঙ্গাপুরের বাজিমাত
এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার ও প্রযুক্তিপণ্যের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে সিঙ্গাপুরের অর্থনীতি শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে।
এআইয়ের হাত ধরে অর্থনীতিতে সিঙ্গাপুরের বাজিমাত