তেল নয় এবার হরমুজের গভীরে বিশ্বের ইন্টারনেট রুটে নজর ইরানের! 

অর্পিতা জাহান, আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬ , ১০:০৮ পিএম


রাতের অন্ধকারে হরমুজের ওপর দিয়ে হয়তো শান্তভাবেই ভেসে যাচ্ছে জাহাজ। উপরে সবকিছু স্বাভাবিক মনে হলেও, সমুদ্রের কয়েক হাজার ফুট নিচে ছড়িয়ে আছে এমন এক অদৃশ্য জাল, যার ওপর দাঁড়িয়ে আছে পুরো বিশ্বের অর্থনীতি। ব্যাংকের টাকা লেনদেন, ভিডিও কল, এআই সার্ভার, অনলাইন গেম, এমনকি দূরের কোনো দেশের শেয়ারবাজারও সবকিছু ছুটে চলছে ওই পাতলা সাবমেরিন কেবলের ভেতর দিয়ে। আর এবার সেই লুকানো ‘ডিজিটাল ধমনি’ নিয়েই নতুন খেলা শুরু করেছে ইরান।

যুদ্ধের সময় হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের শক্তি দেখানোর পর এখন আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে তেহরান। শুধু তেলপথ নিয়ন্ত্রণ নয়, এবার তারা নজর দিয়েছে সমুদ্রের তলদেশে থাকা ইন্টারনেট কেবলের দিকে। ইরানের দাবি, বিশ্বের বড় বড় প্রযুক্তি কোম্পানিকে এই কেবল ব্যবহারের জন্য তাদের দিতে হবে ফি ।

সরকারপন্থী ইরানি গণমাধ্যমগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে, টাকা না দিলে ডেটা প্রবাহ ব্যাহত হতে পারে। এমনকি আইনপ্রণেতারাও আলোচনা করেছেন, প্রয়োজনে সাবমেরিন কেবলগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হতে পারে। ইরানের সামরিক মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাঘারি সামাজিক মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছেন, ইন্টারনেট কেবলের ওপর মাশুল আরোপ করা হবে।

গুগল, মাইক্রোসফট, মেটা, অ্যামাজনের মতো কোম্পানির নামও উঠে এসেছে আলোচনায়। আইআরজিসি-ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, কেবল পরিচালনা করতে হলে ইরানের নিয়ম মানতে হবে। লাইসেন্স ফি দিতে হবে, এমনকি কেবল রক্ষণাবেক্ষণের কাজও ইরানি কোম্পানির হাতেই রাখতে হবে।

তবে বড় প্রশ্ন হলো মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যে এসব কোম্পানি আদৌ ইরানকে টাকা দেবে কি না। অনেকেই এটিকে কেবল রাজনৈতিক চাপ তৈরির কৌশল হিসেবেই দেখছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই হুমকি যতটা শোনা যায়, বাস্তবে তার প্রভাব হতে পারে আরও ভয়ংকর।

আরও পড়ুন

কারণ, সাবমেরিন কেবল এখন বিশ্বের যোগাযোগ ব্যবস্থার মেরুদণ্ড। এগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলে শুধু ইন্টারনেট ধীর হবে না। ব্যাংকিং সিস্টেম, সামরিক যোগাযোগ, ক্লাউড সার্ভার, অনলাইন ব্যবসা সবকিছুতেই নেমে আসতে পারে বিশৃঙ্খলা।

এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে উপসাগরীয় দেশগুলোতে। থমকে যেতে পারে তেল-গ্যাস রপ্তানি ও ব্যাংকিং ব্যবস্থা। এমনকি ভারতের বিশাল আউটসোর্সিং খাতও ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। ইউরোপ ও এশিয়ার আর্থিক লেনদেন ধীর হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

এই কৌশল নতুন নয়। ইতিহাস বলছে, যুদ্ধের সময় সমুদ্রের নিচের কেবল কেটে শত্রুর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার ঘটনা বহু পুরোনো। তবে এখন পার্থক্য একটাই আজ পুরো পৃথিবী আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি নির্ভরশীল ডিজিটাল সংযোগের ওপর।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরান এখন বুঝে গেছে হরমুজ শুধু তেলের পথ নয়, এটি বিশ্ব অর্থনীতির গলার শিরা। আর সেই শিরায় চাপ সৃষ্টি করতে পারলেই, যুদ্ধ ছাড়াই পুরো বিশ্বকে অস্বস্তিতে ফেলা সম্ভব।

আরটিভি/এআর 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission