লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি আংশিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছে লেবানন। সোমবার (১ জুন) লেবাননের পক্ষ থেকে আসা এই ঘোষণা চলতি সংঘাতে উত্তেজনা সীমিত মাত্রায় হলেও প্রশমনের একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতে ইতিমধ্যে এক হাজারের বেশি লেবাননি নাগরিক নিহত হয়েছেন। তবে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ লেবানন পরিস্থিতিকে আরও বেশি উসকে দিয়েছে।
ওয়াশিংটনে লেবানন দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, এই আংশিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে দেশটিতে চলমান সংঘাতের পুরোপুরি অবসান ঘটবে না। চুক্তির শর্তানুযায়ী, ইসরায়েলকে হিজবুল্লাহ নিয়ন্ত্রিত বৈরুত ও এর শহরতলিতে সব ধরনের হামলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যদিকে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহও ইসরায়েলের ওপর তাদের রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বন্ধ রাখবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যৌথভাবে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর পর মার্চ মাস থেকে দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে জোরালো অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী, যেখানে সোমবার সন্ধ্যায়ও দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ চলছিল।
এদিকে, মঙ্গলবার (২ জুন) ভোররাতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, লেবানন থেকে উত্তর ইসরায়েলের দিকে ছোড়া দুটি ‘প্রজেক্টাইল’ (ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন) তারা আকাশেই ভূপাতিত করেছে। এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এই আংশিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির বিষয়ে প্রথম ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের ওপর হামলা না চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র হিজবুল্লাহকে একটি ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করায় দেশটির কোনো প্রেসিডেন্ট কখনো সরাসরি বা মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে গোষ্ঠীটির সঙ্গে কথা বলেননি। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বৈরুতে হামলার প্রস্তুতিতে থাকা যেকোনো সেনা বা আক্রমণাত্মক তৎপরতা গুটিয়ে নিতে সম্মত হয়েছেন।
তবে ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরপরই ভিন্ন সুর শোনা গেছে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠে। বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখবে। সেখানে ইসরায়েলি স্থলবাহিনী জাহারানি নদীর দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যা গত ২৫ বছরের মধ্যে লেবাননের সবচেয়ে গভীরে ইসরায়েলি সেনাদের অনুপ্রবেশের ঘটনা।
এদিকে লেবাননের পার্লামেন্ট সদস্য ও হিজবুল্লাহ নেতা হাসান ফাদলাল্লাহ বলেছেন, মিলিশিয়া গোষ্ঠীটি লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের পূর্বশর্ত হিসেবে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতিকে সমর্থন করবে। তবে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের মূল ভূখণ্ডে হামলা পুরোপুরি বন্ধ করবে কি না, তা তিনি স্পষ্ট করেননি।
লেবানন সরকার জানিয়েছে, বুধবার(৩ জুন) ওয়াশিংটনে ইসরায়েলের সঙ্গে নির্ধারিত আলোচনায় তারা এই যুদ্ধবিরতি আরও সম্প্রসারণের চেষ্টা করবে।
গত ২ মার্চ লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে নতুন করে এই অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। ইরান শুরু থেকেই যুদ্ধ অবসানের যেকোনো চুক্তির প্রধান শর্ত হিসেবে তেহরান ও লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এই দুটি সংঘাত সম্পূর্ণ আলাদা। এ বিষয়ে এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ‘ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিঃসন্দেহে সব ফ্রন্টেই যুদ্ধবিরতি নিয়ে আসবে, যার মধ্যে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।’
আরটিভি/এআর




