যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। এর ফলে মুদ্রাস্ফীতি ও সুদের হার বাড়ার আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে, যার প্রভাবে বিশ্ববাজারে সোনার দাম প্রায় ২ শতাংশ কমে গেছে।
আন্তর্জাতিক বাজার তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (১০ জুন) স্পট মার্কেটে সোনার দাম ১ দশমিক ৯৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৭৪ দশমিক ৭০ ডলারে নেমে এসেছে।
একই সময়ে আগস্ট ডেলিভারির জন্য মার্কিন সোনার ফিউচার ২ দশমিক ০৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৯৮ দশমিক ৮২ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন ডলারের দাম বাড়ায় অন্যান্য মুদ্রার ব্যবহারকারীদের জন্য ডলারভিত্তিক সোনা কেনা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে, যা বাজারে সোনার চাহিদার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করেছে।
মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তেহরান হরমুজ প্রণালীতে একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার গুলি করে ভূপাতিত করেছে। এর পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করে। এতে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে এবং নাজুক যুদ্ধবিরতিও নতুন করে চাপে পড়েছে।
বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ বেড়েছে। এতে মুদ্রাস্ফীতি এবং দীর্ঘ সময় উচ্চ সুদের হার বজায় থাকার আশঙ্কা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, বাজারে এখন ডিসেম্বরের মধ্যে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে এমন সম্ভাবনা ৭০ শতাংশেরও বেশি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সোনাকে সাধারণত মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হলেও উচ্চ সুদের হার সোনার জন্য নেতিবাচক। কারণ সুদবিহীন এই ধাতু উচ্চ সুদের পরিবেশে তুলনামূলকভাবে কম আকর্ষণীয় হয়ে পড়ে।
ফেডের পরবর্তী মুদ্রানীতি সম্পর্কে ধারণা পেতে বাজার এখন যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মুদ্রাস্ফীতির তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছে। এর মধ্যে বুধবার প্রকাশিতব্য মে মাসের ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) এবং বৃহস্পতিবারের উৎপাদক মূল্যসূচক (পিপিআই) বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
অন্যদিকে ভারতে সোনা আমদানির শুল্ক উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোয় দেশটিতে চোরাচালান নতুন করে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাজার সংশ্লিষ্টদের ধারণা, চলতি বছরে দেশটিতে সোনা চোরাচালানের পরিমাণ ১০০ মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যেতে পারে। কালোবাজারে লাভের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় চোরাকারবারিরা ব্যাংক ও শোধনাগারগুলোর তুলনায় কম দামে সোনা বিক্রি করতে পারছে।
এদিকে, বিশ্ববাজারে দাম কমায় দেশের বাজারেও কমতে পারে সোনার দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববাজারে দাম কমলে এর প্রভাব পড়ে দেশের বাজারেও। তাই যে কোনো সময় দেশের বাজারেও দাম কমানো হতে পারে।
এর আগে সবশেষ গত ৬ জুন সকালে সোনার দাম সমন্বয় করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সেদিন ভরিতে মূল্যবান এই ধাতুর দাম ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমানো হয়েছে।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম পড়ছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৩৭৩ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৮ হাজার ৯৩৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা ১ লাখ ৫২ হাজার ৮৫৭ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।
অন্যদিকে বিশ্ববাজারে সোনার পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৪ দশমিক ৪৮ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ১ হাজার ৭০০ দশমিক ৩৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আর প্যালাডিয়ামের দাম ০ দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২১২ দশমিক ৬৭ ডলারে নেমে এসেছে।
আরটিভি/এসকে




