সীমান্তে সমন্বিত টহল ও গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় বাড়াবে বাংলাদেশ-ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ 

শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬ , ০৭:১৮ পিএম


পুশ-ইন উত্তেজনার মধ্যে সীমান্তে সমন্বিত টহল ও গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় বাড়াবে বাংলাদ

অনুপ্রবেশ ও সীমান্তে পুশ-ইন নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে সীমান্ত সুরক্ষায় পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও ভারত। 

রয়টার্সে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে শুক্রবার (১২ জুন) এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এখন থেকে দুই দেশের সীমান্তে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও সমন্বিত টহল আরও বাড়ানো হবে।

২০২৪ সালে শেখ হাসিনার পতনের পর দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু এর মাঝেই ভারতের 'অবৈধ' অভিবাসী চিহ্নিত করে ঢালাওভাবে বাংলাদেশে পুশ-ইন কার্যক্রম সেই চেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে। 

ভারতীয় কর্তৃপক্ষ যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার তোয়াক্কা না করেই জোরপূর্বক অভিবাসীদের সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে পুশ-ইন করার চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছে ঢাকা।

এই পরিস্থিতিতে নয়াদিল্লিতে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের চার দিনব্যাপী বৈঠক শেষে এই যৌথ বিবৃতি এল। তাতে বলা হয়েছে, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স-এর (বিএসএফ) মধ্যে 'আন্তরিক, ইতিবাচক ও দূরদর্শী' আলোচনা হয়েছে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সীমান্তে 'অবৈধ, অসচেতন ও বলপূর্বক অনুপ্রবেশ'-এর মতো বিতর্কিত ইস্যুগুলোও এই নিয়মিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে গুরুত্বের সঙ্গে উঠে এসেছে।

বিশ্বের দীর্ঘতম সীমান্তগুলোর অন্যতম হলো বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত, যার দৈর্ঘ্য ৪ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি। ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও আসামের মতো প্রধান সীমান্ত রাজ্যগুলোর ক্ষমতায় রয়েছে। 

image

বিজেপি সরকার অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকানোকে তাদের রাজনৈতিক হাতিয়ার ও অগ্রাধিকার হিসেবে নিয়েছে। গত বছর থেকেই তারা বাংলাভাষী মুসলমানদের 'অবৈধ অনুপ্রবেশকারী' তকমা দিয়ে বাংলাদেশে পুশ-ইন করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

ভারতের এই একতরফা পদক্ষেপ বন্ধের দাবি জানিয়ে ইতিমধ্যে নয়াদিল্লিকে এক ডজনেরও বেশি চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ।

বিজিবি জানিয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহে বিএসএফের বেশ কয়েকটি পুশ-ইনের চেষ্টা ঠেকিয়ে দিয়েছে তারা। একইসঙ্গে সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন, গোয়েন্দা তৎপরতা ও ড্রোন নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

আরও পড়ুন

চলতি সপ্তাহের শুরুতেই পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া যেকোনো ধরনের পুশ-ইন 'সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য'। তিনি সতর্ক করে দেন, এ ধরনের পদক্ষেপ দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের সব চেষ্টাই ভেস্তে দিতে পারে।

জোরপূর্বক সীমান্ত পারাপার প্রতিরোধে যেমন সীমান্তে টহল ও জনসচেতনতামূলক প্রচারণা জোরদার করেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে মে মাসে দিল্লি জানায়, ভারতে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বসবাসকারী প্রায় ২ হাজার ৮৬০ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তির নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশকে অনুরোধ করেছে তারা।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, মানব পাচার, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড, চোরাচালান, অবকাঠামো উন্নয়ন ও সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা বলা হয়, 'ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে শান্তি, সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে উভয় পক্ষই তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।' 

সীমান্ত সুরক্ষায় সমন্বিত টহল জোরদার, নজরদারি বৃদ্ধি, রিয়েল-টাইম তথ্য আদান-প্রদান ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান আরও জোরালো করা হবে বলে জানানো হয় এতে।

আগামী নভেম্বরে ঢাকায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission