যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি, বন্ধ হচ্ছে যুদ্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬ , ০৪:৪০ এএম


যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি, বন্ধ হচ্ছে যুদ্ধ
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে শান্তি চুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ রোববার (১৪ জুন) এ তথ্য জানিয়েছেন।

পাকিস্তান এ আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে বলে জানা গেছে।

ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের সঙ্গে চুক্তি এখন সম্পন্ন হয়েছে।

অন্যদিকে শাহবাজ শরিফ এক্সে দেওয়া পোস্টে জানান, চুক্তি অনুযায়ী লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে। আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে।

যদিও চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শর্ত প্রকাশ করা হয়নি, তবে একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এর আওতায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা হবে, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে এবং বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি আরও দীর্ঘায়িত করা হবে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে পৃথক আলোচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

ট্রাম্প জানিয়েছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আবারও চালু হবে এবং সেখানে কোনো ধরনের টোল আরোপ করা হবে না। একই সঙ্গে ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ অবরোধও তুলে নেওয়া হবে।

গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর শুরু হওয়া সংঘাতে ইরান ও লেবাননে হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে কার্যত অবরোধ সৃষ্টি করায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যায়।

তবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির অংশ নয় বলে জানিয়েছে ইসরায়েল। এমনকি চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যেও রোববার বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে হিজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে দেশটি। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইরান।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তবে ট্রাম্পও ওই হামলার সমালোচনা করে বলেছেন, শান্তি চুক্তির এত কাছাকাছি সময়ে এমন হামলা হওয়া উচিত ছিল না।

চুক্তির খসড়া অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ২৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করে দিতে পারে। এর বিনিময়ে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা অর্জনের চেষ্টা করবে না এবং চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও পারমাণবিক স্থাপনা সম্প্রসারণ থেকে বিরত থাকবে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, চূড়ান্ত চুক্তির মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করা হবে এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ধ্বংস করা হবে। তবে ইরান বলছে, তারা দেশের ভেতরেই ওই ইউরেনিয়াম পাতলা করার সুযোগ পাবে।

এদিকে চুক্তি চূড়ান্ত করতে কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা তেহরানে পৌঁছেছেন। তবে ইরানের কট্টরপন্থী মহলে এ সমঝোতা নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। দেশটির বিভিন্ন শহরে অনুষ্ঠিত সমাবেশে চুক্তিবিরোধী স্লোগানও দেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এ চুক্তি কার্যকর হলে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনের পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সূত্র: রয়টার্স

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission