স্নাতক পর্যায়ে ১২ হাজারের বেশি কোর্স বাতিল করল চীন, নেপথ্যে কী  

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬ , ০৭:২৮ পিএম


স্নাতক পর্যায়ে ১২ হাজারের বেশি কোর্স বাতিল করল চীন, নেপথ্যে কী  
ছবি: সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কেবল মানুষের কাজের ধরনই বদলে দিচ্ছে না, বরং শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার জন্য কোন বিষয় বেছে নেবে তাও নতুন করে নির্ধারণ করে দিচ্ছে। প্রযুক্তিকেন্দ্রিক শিক্ষা কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দিতে চীনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ইতিমধ্যে ১২ হাজার কলা, মানবিক ও ভাষাবিষয়ক ডিগ্রি কমিয়ে দিয়েছে। দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

এই ব্যাপক বাতিলের মূল লক্ষ্য হলো দেশটির উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে এমনভাবে সাজানো, যাতে তা চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত ভবিষ্যৎ অর্থনীতি গড়ে তোলার রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। চীনের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শিক্ষা কার্যক্রম এই বড় পরিবর্তনের আওতায় এসেছে। এর ফলে দেশটির লাখ লাখ শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন সরাসরি প্রভাবিত হয়েছে। এই পরিবর্তনের অংশ হিসেবে ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে চীনের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ১০ হাজার ২০০টি নতুন প্রযুক্তিনির্ভর স্নাতক ডিগ্রি কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।

হংকংভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসকদের কাছে কলা ও মানবিক বিষয়ের ডিগ্রিগুলো ক্রমেই 'অচল' এবং অতিরিক্ত শিক্ষার্থীপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অন্যদিকে 'এমবডিড ইন্টেলিজেন্স' বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংশ্লিষ্ট নতুন ডিগ্রিগুলোকে বেইজিংয়ের অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যের সঙ্গে অধিকতর সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

সম্প্রতি সাংহাই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক স্নাতক শিক্ষার্থী ওই সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বাজারে দুর্বল কর্মসংস্থানের সম্ভাবনার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট ডিগ্রিগুলো বন্ধ করে দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই শিক্ষার্থী বলেন, 'কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশ পণ্য নকশা বা প্রোডাক্ট ডিজাইনের ওপর বড় ধরনের আঘাত হেনেছে। এখন মডেল তৈরি ও দৃশ্যায়নের মতো অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমেই নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে।'

শিক্ষাব্যবস্থায় এই পরিবর্তন বিশ্বজুড়ে এমন কয়েকটি উদ্যোগের একটি, যার মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ তাদের জাতীয় শিক্ষাক্রম পুনর্গঠন করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সম্পর্কিত নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করছে। যেমন ভারত তাদের জাতীয় বিদ্যালয় শিক্ষা কার্যক্রমে সরাসরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক পাঠ অন্তর্ভুক্ত করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত চালু করেছে জাতীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিক্ষা উদ্যোগ। আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গ্রহণকে জাতিগতভাবে টিকে থাকার প্রশ্ন হিসেবে অভিহিত করার পর কাজাখস্তান নতুন শিক্ষা কৌশল বাস্তবায়ন করছে। ইউরোপে স্পেন তার 'ডিজিটাল স্পেন' কৌশলের অংশ হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিকে গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম হালনাগাদ করেছে।

গত বছর যুক্তরাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রিজেট ফিলিপসন ঘোষণা দেন, শিক্ষা বিভাগ সাধারণ মাধ্যমিক শিক্ষা সনদ এবং উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের বিদ্যমান যোগ্যতার পাশাপাশি তথ্যবিজ্ঞান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক একটি নতুন শিক্ষাগত যোগ্যতা চালুর সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছে। দেশটির জাতীয় শিক্ষাক্রমের গত এক দশকের সবচেয়ে বড় পর্যালোচনা আগামী বছর প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে এবং এর চূড়ান্ত বাস্তবায়ন শুরু হবে ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে।

সে সময় ব্রিজেট ফিলিপসন বলেছিলেন, 'জাতীয় শিক্ষাক্রম হালনাগাদ হওয়ার পর এক দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য তরুণদের প্রস্তুত করা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ, যাতে তারা জীবনের সামনে আসা রোমাঞ্চকর সুযোগগুলো পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারে।'

আরটিভি/এআর 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission