ঢাকা বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

ইরানের বন্দর থেকে অবরোধ তুলে নিল যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৯ জুন ২০২৬, ০২:৫৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তির (ইসলামাবাদ মেমোর্যান্ডম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং) অংশ হিসেবে ইরানের বন্দর ও উপকূল থেকে সামরিক অবরোধ তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকোম) বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। খবর সিএনবিসির।

সেন্টকোমের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইরানি বন্দরগুলোতে জাহাজের আসা-যাওয়া ও চলাচলে আর বাধা দেবে না মার্কিন বাহিনী। যেসব সামরিক অবরোধ জারি করা হয়েছিল, তার সবই প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।’

এর আগে বুধবার (১৭ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল—ইরানের বন্দরগুলো এবং সমুদ্র উপকূল থেকে সামরিক অবরোধ প্রত্যাহার করে নেবে যুক্তরাষ্ট্র। চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র এক দিনের মধ্যেই সেই শর্ত কার্যকর করল ওয়াশিংটন।

আরও পড়ুন

মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহারের পর এখন অপেক্ষা কেবল হরমুজ প্রণালি থেকে ইরানের অবরোধ তুলে নেওয়ার। তেহরানের পরমাণু প্রকল্প ঘিরে সৃষ্ট টানাপোড়েনের জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সামরিক অভিযান শুরু করার দিনই গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক বাণিজ্য জলপথ হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি করে ইরান। অবরোধ আরও দৃঢ় করতে ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রণালির বিভিন্ন স্থানে জলমাইনও পাতে তেহরান। সেই অবরুদ্ধ অবস্থা এখনো কার্যকর রয়েছে।

হরমুজ থেকে অবরোধ প্রত্যাহার এবং এই প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ ও অবাধ চলাচলের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া ছিল ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। তবে সমুদ্র উপকূল থেকে মার্কিন বাহিনী সরে গেলেও, ইরানের তরফ থেকে এখনো হরমুজের অবরোধ প্রত্যাহার কিংবা মাইন অপসারণ সংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা তথ্য আসেনি।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স অবশ্য আশাবাদী যে ইরান শিগগিরই হরমুজ ইস্যুতে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবে। বৃহস্পতিবার সকালে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, চুক্তি স্বাক্ষরের পর ইরান টানা দুই রাত হরমুজে চলাচলকারী জাহাজগুলোতে হামলা করা থেকে বিরত থেকেছে। সাংবাদিকদের ভ্যান্স বলেন, ‘এখন পর্যন্ত তারা তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে।’

ভ্যান্স আরও দাবি করেন, এই দুই রাতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি অবশ্য তাৎক্ষণিকভাবে এই তথ্য যাচাই করতে পারেনি। তবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য গোয়েন্দা সংস্থা ‘কেপলার’ সিএনবিসিকে জানিয়েছে, গত দুই দিনে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার জাহাজ চলাচল করেছে। এই তিন জাহাজের সম্মিলিত তেলের পরিমাণ ছিল ৬০ লাখ ব্যারেল।

বিশ্বের মোট জ্বালানিপণ্যের ২০ শতাংশ পরিবহন করা হয় কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন এই প্রণালি দিয়ে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এবং ৬০ লাখ ব্যারেল পরিশোধিত তেল ও তরল গ্যাস পরিবহন করা হতো।

ইরান এই জলপথে অবরোধ জারি করার পর জ্বালানির আন্তর্জাতিক বাজারের সরবরাহ ব্যবস্থায় গুরুতর ব্যাঘাত ঘটে। ফলে একদিকে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দেয়, অন্যদিকে হু হু করে বাড়তে থাকে তেল ও গ্যাসের দাম। সিএনবিসিকে কেপলার জানিয়েছে, ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র যদি সমঝোতা চুক্তির শর্তগুলো যথাযথ ও সততার সঙ্গে মেনেও চলে—তাহলেও তেলের বৈশ্বিক বাজার স্বাভাবিক হতে, অর্থাৎ যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় পৌঁছাতে কমপক্ষে আরও দুই মাস সময় লাগবে।

আরটিভি/এআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ভারতের প্রখ্যাত আলেম মাওলানা সাঈদুর রহমান আজমি নদভী আর নেই
ভারতের প্রখ্যাত আলেম, সাহিত্যিক ও দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামা লখনৌর মুহতামিম মাওলানা ড. সাঈদুর রহমান আজমি নদভী ইন্তেকাল করেছেন। বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন সমস্যায় ভুগে তিনি মারা যান। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ভারতসহ উপমহাদেশের ধর্মীয় ও শিক্ষাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দীর্ঘ কর্মজীবনে দ্বীনি শিক্ষা, আরবি ভাষা ও সাহিত্য এবং ধর্মীয়-সাহিত্যিক সাংবাদিকতায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি। মাওলানা সাঈদুর রহমান আজমি নদভী দীর্ঘদিন দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামার শিক্ষা ও প্রশাসনিক বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষাধারা ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং তা এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। আনুমানিক ১৯৩৫ সালে ভারতের উত্তর প্রদেশের মউ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন মাওলানা সাঈদুর রহমান। ১৯৫২ সালে দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামায় ভর্তি হন তিনি। সেখানে মাওলানা সাইয়্যিদ আবুল হাসান আলী হাসানি নদভী (রহ.)-সহ সে সময়ের খ্যাতিমান আলেমদের সান্নিধ্যে শিক্ষা লাভ করেন। আরবি ভাষা ও সাহিত্যে বিশেষ পারদর্শী ছিলেন মাওলানা সাঈদুর রহমান। শিক্ষকতা ও ধর্মীয় শিক্ষাদানের পাশাপাশি লেখক, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও বক্তা হিসেবেও তিনি পরিচিতি লাভ করেন। নদওয়াতুল উলামার ঐতিহ্যবাহী আরবি মাসিক ‘আল-বায়সুল ইসলামী’ পত্রিকার সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত ছিলেন তিনি। একপর্যায়ে পত্রিকাটির প্রধান সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন। লেখালেখি ও সম্পাদনার মাধ্যমে আরবি ভাষা, ইসলামি জ্ঞান এবং নদওয়াতুল উলামার চিন্তাধারা পাঠকদের কাছে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। শিক্ষা ও দ্বীনি সেবায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন সময়ে সম্মাননাও পেয়েছেন তিনি। ২০১৯ সালে খাজা মঈনুদ্দিন চিশতি ভাষা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মানসূচক ডি.লিট. ডিগ্রি প্রদান করে। সর্বশেষ ২০২৬ সালের মে মাসে দীর্ঘদিনের শিক্ষা, দ্বীনি ও সাহিত্যিক অবদানের জন্য জয়পুরের জামিয়া হিদায়া তাকে আজীবন সম্মাননা দেয়। তার ইন্তেকালে আলেম, শিক্ষক, লেখক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শোকসন্তপ্ত পরিবার, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন অনেকে। একই সঙ্গে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন তারা। আরটিভি/এসকে  
ভারতের প্রখ্যাত আলেম মাওলানা সাঈদুর রহমান আজমি নদভী আর নেই
আবারও রাহুল-প্রিয়াংকাকে টেনেহিঁচড়ে বাসে তুলে নিয়ে গেল পুলিশ
ভারতে অন্যায্যভাবে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রতিবাদে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে তুমুল পর্যায়ে পৌঁছেছে বিক্ষোভ। দ্বিতীয় দিনের মতো এই বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিলেন রাহুল গান্ধী ও তার বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোটের শীর্ষ নেতারা। তবে, আগের দিনের মতো এবারও কংগ্রেসের নেতৃস্থানীয় এই দুই ভাই-বোনকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। বুধবার (৭ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাহুল ও তার বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর পাশাপাশি আন্দোলনরত আরও অনেকজনকে টেনেহিঁচড়ে অপেক্ষমাণ পুলিশ বাসে তুলে নিয়ে যেতে দেখা গেছে। । এর আগে, গতকাল মঙ্গলবারও (৬ অক্টোবর) একই ইস্যুতে অবস্থান ধর্মঘটে বসার পর গান্ধী পরিবারের এই ভাই-বোনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। বুধবার (৭ অক্টোবর) দিল্লির যন্তরমন্তরে বিক্ষোভ প্রদর্শনের চেষ্টা করলে আবারও বাধা দেয় পুলিশ। পূর্বানুমতি না নেওয়ার অজুহাতে তাদের আটকে দেওয়া হয়। এদিন দিল্লির একটি রেস্তোরাঁয় কৌশল নির্ধারণী মধ্যাহ্নভোজ শেষ করে সংসদ সদস্যরা যন্তরমন্তরের দিকে রওনা হলে পুলিশ রাস্তা অবরোধ করে। শুরুতে রাহুল গান্ধীসহ শীর্ষ নেতাদের একটি বাসে নিয়ে বসানো হয়। কিন্তু পুলিশ যখন অন্যান্য বিক্ষোভকারীদের আটক করতে যায়, তখন ইন্ডিয়া জোটের নেতারা বাস থেকে নেমে রাস্তার ওপরই বসে পড়েন। পুলিশ বারবার সরে যাওয়ার অনুরোধ জানালেও রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা রাস্তায় বসে অবস্থান অব্যাহত রাখেন। একপর্যায়ে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী রাস্তায় শুয়ে পড়ে পুলিশকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, ‘সংসদ সদস্যদের সঙ্গে কি এভাবে আচরণ করা হয়? এটি নজিরবিহীন। আমরা এখান থেকে এক চুলও নড়বো না।’ পরবর্তীতে পুলিশ দুই ভাই-বোনকে টেনেহিঁচড়ে জোরপূর্বক বাসে তুলে থানায় নিয়ে যায়। আরটিভি/এসএইচএম
আবারও রাহুল-প্রিয়াংকাকে টেনেহিঁচড়ে বাসে তুলে নিয়ে গেল পুলিশ
নোবেলজয়ীদের কালো-সোনালি ছবি কেন আঁকা হয়?
নোবেল পুরস্কার ঘোষণার পর পরই বিজয়ীদের নামের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে সংবাদমাধ্যমে চোখে পড়ে কিছু ব্যতিক্রমী পোর্ট্রেট। কালো রেখায় আঁকা মুখাবয়ব, যার ওপর থাকে ঝকঝকে সোনালি পাতের ছোঁয়া।
নোবেলজয়ীদের কালো-সোনালি ছবি কেন আঁকা হয়?
শান্তিতে নোবেল: শেষ মুহূর্তের আলোচনায় সম্ভাব্য যারা
এ বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কার কে পাচ্ছেন, তা নিয়ে তুমুল জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান ইয়র্গেন ওয়াটনে ফ্রাইডনেস বিজয়ীর নাম ঘোষণা করবেন। এ বছর পুরস্কারের জন্য মোট ২৮৭ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান মনোনীত হয়েছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, এবারের পুরস্কারের জন্য মোট ২৮৭টি মনোনয়ন জমা পড়েছে। এর মধ্যে ২০৮ জন ব্যক্তি এবং ৭৯টি সংগঠন রয়েছে। তবে কারা মনোনয়ন পেয়েছেন, তার আনুষ্ঠানিক তালিকা প্রকাশ করে না নোবেল কমিটি। নিয়ম অনুযায়ী মনোনয়ন-সংক্রান্ত নথি ৫০ বছর পর্যন্ত গোপন রাখা হয়। ফলে পুরস্কার ঘোষণার আগে যেসব নাম সামনে আসে, সেগুলোর অনেকটাই মনোনয়নদাতা, বিশেষজ্ঞ ও গণমাধ্যমের প্রকাশিত তথ্যের ওপর নির্ভরশীল। আলোচনায় আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন এবারের সবচেয়ে চমকপ্রদ সম্ভাবনার একটি হলো আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন বা আইএসএস। বার্তা সংস্থা এপি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নোবেল শান্তি পুরস্কারের পূর্বাভাসদাতাদের কেউ কেউ আইএসএসকে সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে দেখছেন। শান্তি গবেষণা ইনস্টিটিউট অসলোর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হাকন গেরলভ এই সম্ভাবনার কথা বলেছেন। তার মতে, বিভিন্ন দেশের মানুষ ও প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে কাজ করার বিরল প্রতীক হলো আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যখন নিজেদের জাতীয় স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, তখন মহাকাশ স্টেশন আন্তর্জাতিক সহযোগিতার একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, নোবেল কমিটি সাধারণত এমন উদ্যোগ বিবেচনায় নেয়, যা দীর্ঘস্থায়ী শান্তি তৈরি করে, দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করে। পোপ লিও, আন্তর্জাতিক আদালত ও ফ্রান্সেসকা আলবানিজ রয়টার্সের বিশ্লেষণে এ বছরের আলোচিত নামগুলোর মধ্যে রয়েছে পোপ লিও, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি), আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) এবং জাতিসংঘের ফিলিস্তিনবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রান্সেসকা আলবানিজ। প্রতিবেদনে বলা হয়, পোপ লিও যুদ্ধ বন্ধ, সংলাপ এবং শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির পক্ষে বক্তব্য দিয়ে আসছেন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও আন্তর্জাতিক অস্থিরতার সময়ে তার শান্তির আহ্বান তাকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের আলোচনায় এনেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। আন্তর্জাতিক আইন ও বহুপক্ষীয় ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ভূমিকার কারণে আইসিসি ও আইসিজির নামও আলোচনায় রয়েছে। নোবেল শান্তি পুরস্কারের অন্যতম মূল উদ্দেশ্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধান- এ কারণে দুই আন্তর্জাতিক আদালতকে স্বীকৃতি দেওয়ার সম্ভাবনার কথা বলছেন কিছু বিশ্লেষক। অন্যদিকে গাজা ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে তার অবস্থানের কারণে আলবানিজের নামও আলোচনায় রয়েছে। তবে তার প্রার্থিতা অত্যন্ত রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল হতে পারে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের কেউ কেউ মনে করছেন। ট্রাম্পের নামও আলোচনায় এবারের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। ট্রাম্প নিজেই একাধিকবার নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা তাকে মনোনয়ন দেওয়ার কথা প্রকাশ্যে বলেছেন। তবে নোবেল কমিটি কোনো নির্দিষ্ট মনোনয়নের বিষয় নিশ্চিত করে না। এপি বলছে, ট্রাম্পের প্রার্থিতা বিতর্ক তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিষয়ক চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তার শান্তি পুরস্কার পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। উপসালা কনফ্লিক্ট ডেটা প্রোগ্রামের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক শন ডেভিসও ট্রাম্পের জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। সুদানের স্বেচ্ছাসেবকেরাও আলোচনায় আফ্রিকার যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদানের ‘ইমারজেন্সি রেসপন্স রোমসে’র নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে উঠে এসেছে। কারণ ২০২৩ সালে সুদানে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের গড়ে তোলা এই নেটওয়ার্ক বিভিন্ন এলাকায় মানুষের জন্য খাবার, চিকিৎসা, নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া এবং অন্যান্য জরুরি সহায়তা দিয়ে আসছে। আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ার পরিস্থিতিতে স্থানীয় নাগরিকদের এসব উদ্যোগ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট অসলো (পিআরআইও)-এর পরিচালক হাকন গ্যেরলভের ২০২৬ সালের আলোচিত তালিকাতেও সুদানের ইমারজেন্সি রেসপন্স রোমস’ রয়েছে। ইউক্রেনের মাইকোলা কুলেবা ইউক্রেনের শিশু অধিকারকর্মী মাইকোলা কুলেবা এবং তার সংগঠন ‘সেইভ ইউক্রেনে’র নামও আলোচনায় রয়েছে। যুদ্ধের মধ্যে রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়া ইউক্রেনীয় শিশুদের উদ্ধারে ও পরিবারগুলোর সঙ্গে পুনর্মিলনে তার সংগঠন কাজ করেছে। পিআরআইও-এর তালিকায় কুলেবা ও শিশুদের নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক ‘সংস্থা সেভ দ্যা চিলড্রেনকে’ও রাখা হয়েছে। যুদ্ধের সময় শিশুদের সুরক্ষা ও অধিকারকে সামনে নিয়ে আসার মাধ্যমে শান্তি ও মানবিক নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়ার পক্ষে এটি একটি সম্ভাব্য বার্তা হতে পারে বলে পিআইআইও জানিয়েছে। সাংবাদিকদের সুরক্ষায় সিপিজে বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হত্যার ঘটনাও এবার নোবেল শান্তি পুরস্কারের আলোচনায় এসেছে। এ ক্ষেত্রে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে রয়েছে কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিজম (সিপিজে)। পিআরআইও-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ১৩২ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী নিহত হয়েছেন- যা রেকর্ড রাখা শুরুর পর সবচেয়ে ভয়াবহ বছরগুলোর একটি। বিশেষ করে যুদ্ধক্ষেত্রে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের প্রেক্ষাপটে সিপিজে-এর নাম আলোচনায় এসেছে। আলোচনায় রয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও শুল্কসংক্রান্ত নানা বিষয়ে ট্রাম্পের অবস্থানের বিরুদ্ধে তুলনামূলক দৃঢ় অবস্থান নেওয়ায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কার্নি আলোচনায় এসেছেন।তবে কানাডার সাবেক অধ্যাপক নেলসন ওয়াইজম্যান মনে করেন, কার্নি পুরস্কার পেলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার সম্পর্ক আরও খারাপ হতে পারে। তার মতে, পুরস্কার যেই পান না কেন, ট্রাম্প তাতে খুশি না-ও হতে পারেন। আরটিভি/টিআর
শান্তিতে নোবেল: শেষ মুহূর্তের আলোচনায় সম্ভাব্য যারা
বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের সন্দেহে নারীকে গণধর্ষণ
ভারতের গুজরাটে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের সন্দেহে এক নারীকে শিকল দিয়ে বেঁধে আটকে রাখা, গাছের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে নির্যাতন এবং পরে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের সন্দেহে নারীকে গণধর্ষণ
আরও পড়ুন
ইরান সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৮১ সামরিক বিমান-ড্রোন-হেলিকপ্টার হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র
ছয় টয়লেট অচল, মাঝ আকাশ থেকে জরুরি অবতরণ করল যাত্রীবাহী বিমান
সুগার ফ্রি পানীয়তে কিটক্যাটের সমান চিনি, স্টারবাকসের বিরুদ্ধে মামলা
নিউইয়র্কে বারান্দা থেকে ধাক্কায় মায়ের মৃত্যু, গুরুতর আহত মেয়ে