যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ওপর পদ ছাড়ার চাপ বাড়ছে। লেবার দলের পার্টির এমপি ও মন্ত্রীরা তাকে দায়িত্ব ছাড়ার সময়সূচি ঘোষণা করার আহ্বান জানিয়েছেন। এমনটাই জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
এদিকে মেকারফিল্ডের উপনির্বাচনে অ্যান্ডি বার্নহ্যামের বড় জয়ের পর লেবার দলের ভেতরে নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবি আরও জোরালো হয়েছে। বার্নহ্যামকে নতুন নেতা হিসেবে সামনে আনার বিষয়ে দলের একাংশ আলোচনা শুরু করেছে।
তবে স্টারমার জানিয়েছেন, তিনি কোনো চ্যালেঞ্জ থেকে সরে দাঁড়াবেন না। প্রয়োজন হলে নেতৃত্বের লড়াই করবেন এবং প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে চলে যাবেন না।
বার্নহ্যামের ঘনিষ্ঠরা স্টারমারকে সপ্তাহান্তে বিষয়টি নিয়ে ভাবতে এবং মন্ত্রী, এমপি ও পরিবারের মতামত শুনতে বলেছেন। একই সঙ্গে বার্নহ্যাম ও সম্ভাব্য আরেক নেতা ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের পক্ষ থেকেও আপাতত কোনো গণমাধ্যমে বক্তব্য না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মেকারফিল্ডের উপনির্বাচনে বার্নহ্যাম লেবারের ভোটের হার প্রায় ১০ শতাংশ বাড়িয়ে বড় জয় পান। তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী দলকে ৯ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে হারান। এই ফলের পর তার সমর্থকদের মধ্যে নেতৃত্বের দাবি আরও জোরালো হয়েছে।
শুক্রবার (১৯ জুন) স্টারমার তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে ফোনে কথা বলে নিজের অবস্থান ও সমর্থন যাচাই করেন। পরিবহনমন্ত্রী হেইডি আলেকজান্ডার তাকে দায়িত্ব ছাড়ার জন্য একটি সময়সূচি ঘোষণা করার পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে অর্থমন্ত্রী র্যাচেল রিভস স্টারমারকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
এর আগে নির্বাচনে লেবারের খারাপ ফলের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ ও জ্বালানিমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডসহ কয়েকজন নেতা স্টারমারকে পদ ছাড়ার সময়সূচি নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছিলেন।
আগামী মঙ্গলবার (২৩ জুন) মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে। স্টারমার বলেছেন, তিনি জনগণের দেওয়া দায়িত্ব পালন করছেন এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে অগ্রগতি হয়েছে।
তিনি বলেন, নেতৃত্বের লড়াই হলে তিনি অংশ নেবেন এবং দায়িত্ব থেকে সরে যাবেন না।
এদিকে বার্নহ্যাম বলেছেন, তার এই জয় ব্রিটিশ রাজনীতিতে পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি করেছে। তিনি দেশকে আরও কার্যকরভাবে পরিচালনার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন।
লেবার এমপি পিটার সোয়ালো জানিয়েছেন, তিনি এখন মনে করছেন স্টারমারের পদত্যাগের সময় এসেছে এবং তিনি বার্নহ্যামকে সমর্থন করবেন।
তবে স্টারমারের পক্ষে থাকা নেতারা বলছেন, দলকে বিভক্ত না করে সরকারের কাজ চালিয়ে যেতে হবে। তারা মনে করেন, বারবার নেতৃত্ব পরিবর্তনের কারণে আগের সরকারের মতো অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
লেবারের নিয়ম অনুযায়ী, নেতৃত্বের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নিতে কোনো প্রার্থীকে ৮১ জন এমপির সমর্থন প্রয়োজন। বার্নহ্যাম এই সমর্থন সহজেই পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে স্টারমার বর্তমান নেতা হওয়ায় নেতৃত্বের ভোটে অংশ নিতে তাকে কোনো এমপির সমর্থন সংগ্রহ করতে হবে না।
সূত্র: বিবিসি
আরটিভি/জেএমএ



