যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ডেমোক্র্যাট দলের প্রাথমিক নির্বাচনে বড় চমক দেখিয়েছেন মেয়র জোহরান মামদানি। তার সমর্থিত তিন প্রার্থীই জয় পেয়েছেন, যার মধ্যে দুইজন বর্তমান সংসদ সদস্যকে হারিয়েছেন। এমনটাই জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
মঙ্গলবারের (২৩ জুন) এই নির্বাচনের ফলকে ডেমোক্র্যাট দলের ভেতরে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচন ও ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে দলের ভেতরের মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
নিউইয়র্কের ১৩তম আসনে মামদানির সমর্থিত প্রার্থী ডারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ার ডেমোক্র্যাট নেতা অ্যাড্রিয়ানো এসপাইয়াতকে পরাজিত করেন। ৭তম আসনে ক্লেয়ার ভালদেজ জয় পান বিদায়ী সংসদ সদস্য নায়দিয়া ভেলাসকেজের আসনে। আর ১০ম আসনে মামদানির ঘনিষ্ঠ সহযোগী ব্র্যাড ল্যান্ডার বর্তমান সংসদ সদস্য ড্যান গোল্ডম্যানকে হারান।
জয়ের পর মামদানি তিন প্রার্থীর সঙ্গে উদযাপনে অংশ নেন। তিনি বলেন, রাজনীতিতে নতুন ধরনের ভাবনা ও পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে।
নিউইয়র্কের নির্বাচনে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। প্রার্থীদের অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েল নীতির সমালোচনা করেন। ব্র্যাড ল্যান্ডার বলেন, ডেমোক্র্যাটদের এই বিষয় নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে।
তবে সব জায়গায় বামপন্থী প্রার্থীদের জয় হয়নি। নিউইয়র্কের ১২তম আসনে দলের প্রতিষ্ঠিত ধারার সমর্থিত প্রার্থী মাইকা ল্যাশার জয় পান। উটাহর একটি আসনেও মধ্যপন্থী প্রার্থী এগিয়ে যান।
অন্যদিকে দক্ষিণ ক্যারোলিনায় রিপাবলিকানদের গভর্নর নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ট্রাম্প প্রথমে পাম এভেটকে সমর্থন করলেও পরে দুই প্রার্থীকেই সমর্থন জানান। শেষ পর্যন্ত অ্যালান উইলসন বড় ব্যবধানে জয় পান।
এর আগে ট্রাম্প সমর্থিত আরও কয়েকজন গভর্নর প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন হারিয়েছেন। ফলে রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের প্রভাব আগের মতো নেই কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এদিকে ট্রাম্পবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত কয়েকজন প্রার্থীও নির্বাচনে বড় সাফল্য পাননি। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া কয়েকজন পরিচিত মুখ বিভিন্ন নির্বাচনে পিছিয়ে পড়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এবারের প্রাথমিক নির্বাচনের ফল যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ডেমোক্র্যাটরা যেমন নতুন নেতৃত্বের খোঁজ করছে, তেমনি রিপাবলিকানদের মধ্যেও ট্রাম্পের প্রভাব নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ নির্বাচনের আগে প্রতিটি রাজনৈতিক দল নিজেদের প্রার্থী বাছাই করার জন্য যে নির্বাচন করে, সেটিই প্রাথমিক নির্বাচন। এই নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান দলের ভোটাররা ঠিক করেন—পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে তাদের দলের হয়ে কে প্রার্থী হবেন। এগুলো ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের (কংগ্রেস নির্বাচন) আগে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের অংশ।
আরটিভি/জেএমএ



