ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

গোপন ভিডিও ফাঁদে রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস হয়েছে যেসব বিশ্বনেতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২২ জুলাই ২০২৬, ০৩:২৪ এএম
ছবি : সংগৃহীত

রাজনীতির ক্যারিয়ার ওলটপালট করে দেওয়ার প্রাণঘাতী অস্ত্র হিসেবে বারবার সামনে এসেছে গোপন ক্যামেরা কিংবা স্টিং অপারেশন। প্রযুক্তির উৎকর্ষতার সাথে সাথে কখনও অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের লুকানো লেন্স, আবার কখনও সরকারি কার্যালয় বা হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ ফাঁস হয়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে বিশ্ব রাজনীতিতে।

নৈতিক স্খলন ও রাজনৈতিক দুর্নীতির প্রমাণ পেয়ে বাধ্য হয়ে পদ ছেড়েছেন এবং বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন, এমন কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনীতিকের আলোচিত কেলেঙ্কারি নিচে তুলে ধরা হলো।

গোপন ক্যামেরায় ধারণকৃত কেলেঙ্কারির কারণে পদ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন- এমনই কয়েকজন প্রভাবশালী বিশ্বনেতা ও রাজনীতিককে নিয়ে এই বিশেষ প্রতিবেদন।

ভারত: জর্জ ফার্নান্দেস ও বঙ্গারু লক্ষ্মণ

ভারতের রাজনীতিতে গোপন ক্যামেরাভিত্তিক অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় উদাহরণ ছিল ২০০১ সালে সংবাদমাধ্যম ‘তেহেলকা’ (Tehelka) পরিচালিত ‘অপারেশন ওয়েস্ট এন্ড’।

তেহেলকার সাংবাদিকরা কাল্পনিক অস্ত্র সরবরাহকারী কোম্পানির প্রতিনিধি সেজে গোপন ক্যামেরা নিয়ে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন রাজনীতিকদের কাছে পৌঁছান। ক্যামেরায় রেকর্ড করা ফুটেজে দেখা যায়, প্রতিরক্ষামন্ত্রী জর্জ ফার্নান্দেসের দল ‘সমতা পার্টি’র শীর্ষ নেতৃত্ব ও ক্ষমতাসীন বিজেপি’র তৎকালীন সর্বভারতীয় সভাপতি বঙ্গারু লক্ষ্মণ ঘুষ নিচ্ছেন।

বঙ্গারু লক্ষ্মণ গোপন ক্যামেরায় ঘুষ নেওয়ার দৃশ্য ধরা পড়ার পরই বিজেপির সভাপতির পদ ছাড়তে বাধ্য হন ও পরবর্তী সময়ে আদালতের রায়ে সাজাপ্রাপ্ত হন। অন্যদিকে, পুরো ঘটনায় তৎকালীন অটল বিহারী বাজপেয়ী সরকারের ওপর চরম চাপ তৈরি হওয়ায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী জর্জ ফার্নান্দেসও পদত্যাগ করেন।

আরও পড়ুন

নারদ স্টিং কেলেঙ্কারি (পশ্চিমবঙ্গ)

২০১৪-২০১৬ সালের মধ্যে সাংবাদিক ম্যাথিউ স্যামুয়েল পরিচালিত ‘নারদ স্টিং অপারেশনে’ দেখা যায়, পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক শীর্ষ সারির মন্ত্রী ও সাংসদ একটি কাল্পনিক কোম্পানির সুবিধার জন্য বান্ডিল বান্ডিল নগদ অর্থ নিচ্ছেন। এসব ভিডিও একের পর এক প্রকাশ্যে আসার পর তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে তদন্তে নামে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই তদন্ত শুরু করে। এতে শোভন চট্টোপাধ্যায়সহ একাধিক প্রভাবশালী মন্ত্রীকে তাদের পদ ছাড়তে হয় ও পরবর্তী সময়ে আদালতে দীর্ঘ আইনি লড়াই ও গ্রেফতারের মুখোমুখি হতে হয়।

দিলীপ সিং জুদেব

দিলীপ সিং জুদেব অটল বিহারী বাজপেয়ী সরকারের কেন্দ্রীয় পরিবেশ ও বন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। ২০০৩ সালে ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্য নির্বাচনের ঠিক আগে একটি গোপন ক্যামেরার ভিডিও ফাঁস হয়।

ভিডিওতে দেখা যায়, প্রতিমন্ত্রী জুদেব এক কাল্পনিক অস্ট্রেলীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করছেন ও বলছেন, পয়সা খোদা তো নেহি, পার খোদা সে কম ভি নেহি (টাকা খোদা নয়, আবার খোদার চেয়ে কমও নয়)।

ভিডিওটি সামনে আসার পর রাজনৈতিক ভাবমূর্তি রক্ষা করতে এবং তোপের মুখে পড়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

যুক্তরাষ্ট্র: হ্যারিসন উইলিয়ামস

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে চালানো সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত স্টিং অপারেশন ছিল এফবিআই (FBI)-এর ‘অ্যাবস্ক্যাম’ (Abscam)।

১৯৭০-এর দশকের শেষভাগে এফবিআই একটি ভুয়া কোম্পানি ও একজন কাল্পনিক আরব ধনকুবের (শেখ) সাজিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের গোপন লেনদেনের পরীক্ষা নেয়। এই পুরো প্রক্রিয়াটি গোপন ক্যামেরা ও মাইক্রোফোনে রেকর্ড করা হয়। ফুটেজে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ভিসা ও ব্যবসায়িক সুবিধার বিনিময়ে অনেক রাজনীতিক ঘুষ গ্রহণ করছেন।

এই ঘটনার সূত্র ধরে নিউ জার্সির প্রভাবশালী সিনেটর হ্যারিসন এ. উইলিয়ামস সিনেট থেকে বহিষ্কার এড়াতে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এছাড়া মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের বেশ কয়েকজন সদস্য পদ হারান এবং বিচারে দোষী সাব্যস্ত হন।

অস্ট্রিয়া: হাভাঞ্জ-ক্রিস্টিয়ান স্ট্রাখ

২০১৯ সালে ইউরোপীয় রাজনীতিতে ঘটে যাওয়া অন্যতম বড় কেলেঙ্কারি হলো অস্ট্রিয়ার ‘ইবিজা অ্যাফেয়ার’ (Ibiza Affair)।

২০১৭ সালে স্পেনের ইবিজা দ্বীপে গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা একটি ভিডিও ২০১৯ সালে প্রকাশ্যে আসে। সেখানে দেখা যায়, অস্ট্রিয়ার তৎকালীন ভাইস চ্যান্সেলর (উপ-প্রধানমন্ত্রী) ও চরম ডানপন্থি রাজনীতিবিদ হাভাঞ্জ-ক্রিস্টিয়ান স্ট্রাখ একজন নারীকে অস্ট্রিয়ার প্রধান সংবাদপত্রের বড় শেয়ার কিনে দেওয়ার বিনিময়ে সরকারি ড্রাইভিং চুক্তি ও সুবিধার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। নারীটি নিজেকে একজন রুশ ধনকুবেরের আত্মীয়া হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন।

ভিডিওটি ফাঁস হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। স্ট্রাখ পদত্যাগ করতে বাধ্য হন ও তৎকালীন চ্যান্সেলর সেবাস্তিয়ান কুর্স পুরো সরকার ভেঙে দিয়ে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেন।

আরও পড়ুন

যুক্তরাজ্য: স্যার ম্যালকম রিফকাইন্ড ও জ্যাক স্ট্র

২০১৫ সালে যুক্তরাজ্যের ডেইলি টেলিগ্রাফ ও চ্যানেল ৪-এর সাংবাদিকরা একটি ভুয়া হংকংভিত্তিক কোম্পানির প্রতিনিধি সেজে গোপন ক্যামেরা নিয়ে দেশটির গোয়েন্দা বিষয়ক সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান ম্যালকম রিফকাইন্ড ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাক স্ট্র’র মুখোমুখি হন। ক্যামেরায় ধরা পড়ে যে তারা অর্থের বিনিময়ে ওই কোম্পানির জন্য সংসদে প্রভাব খাটানো ও বিশেষ সুবিধা দেওয়ার আশ্বাস দিচ্ছেন।

ভিডিওটি সম্প্রচারিত হওয়ার পর যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়। ম্যালকম রিফকাইন্ড সংসদীয় গোয়েন্দা কমিটির প্রধানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন ও সংসদীয় রাজনীতি থেকে বিদায় ঘোষণা করেন।

প্যাট্রিক মার্সার (ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্য, কনজারভেটিভ পার্টি)

২০১৩ সালে বিবিসি ‘প্যানোরামা’ ও দ্য নিউজের গোপন ক্যামেরায় ধরা পড়ে যে, প্যাট্রিক মার্সার অর্থ গ্রহণের বিনিময়ে সংসদে বিশেষ দেশের (ফিজি) স্বার্থে প্রশ্ন উত্থাপন ও সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। গোপন ক্যামেরার ফুটেজ প্রকাশ্যে আসার পর তিনি পদত্যাগ করেন ও কনজারভেটিভ পার্টি থেকেও বরখাস্ত হন।

স্টিফেন বায়ার্স, জেফ হুন ও প্যাট্রিশিয়া হিউইট (যুক্তরাজ্যের সাবেক তিন মন্ত্রী)

২০১০ সালে দ্য সানডে টাইমসের সাংবাদিকরা লবিস্ট বা দালাল সেজে তাদের সাথে সাক্ষাৎ করেন ও গোপন ক্যামেরায় রেকর্ড করেন। স্টিফেন বায়ার্স নিজেকে ‘ট্যাক্সি ক্যাব’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, অর্থের বিনিময়ে তাকে যে যে কোনো কাজে ব্যবহার করা যাবে।

ক্যাবিনেটের গোপন তথ্য ও প্রভাব বিক্রির অভিযোগে তাদের তিনজনকেই লেবার পার্টি থেকে বরখাস্ত করা হয় ও পরে তাদের পার্লামেন্টে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

ম্যাট হ্যানকক

করোনাভাইরাস মহামারি চলাকালীন যুক্তরাজ্যে যখন পুরো দেশ কঠোর লকডাউনে আবদ্ধ, তখন নিজের তৈরি সামাজিক দূরত্বের নিয়ম ভঙ্গ করে তোপের মুখে পড়েন তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হ্যানকক।

২০২১ সালের জুন মাসে যুক্তরাজ্যের দ্য সান পত্রিকা একটি সিসিটিভি বা গোপন ক্যামেরার ফুটেজ প্রকাশ করে। ভিডিওটি ছিল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে হ্যানককের নিজস্ব কার্যালয়ের। সেখানে দেখা যায়, তিনি নিজের তৈরি সামাজিক দূরত্ব ও বিধিনিষেধ ভঙ্গ করে এক নারী সহকর্মীকে জড়িয়ে ধরছেন ও চুম্বন করছেন।

একজন স্বাস্থ্যমন্ত্রী হয়ে নিজের তৈরি স্বাস্থ্যবিধি নিজেই অমান্য করার বিষয়টি সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম অসন্তোষ তৈরি করে। নৈতিকতার স্বার্থে ও জনরোষের মুখে ম্যাট হ্যানকক স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, দ্য লোকাল অস্ট্রিয়া, ওয়েলস অনলাইন, ইবিএসসিও, এনসাইক্লোপিডিয়া,

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মার্কিন ভিসাপ্রত্যাশী বিদেশি সাংবাদিকদের স্যোশাল মিডিয়ার প্রোফাইল যাচাই শুরু
যুক্তরাষ্ট্রে যেতে ভিসার আবেদন করা বিদেশি সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইল যাচাই-বাছাই শুরুর সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) থেকে এটি কার্যকর হচ্ছে। এর আগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর এ সিদ্ধান্তের ঘোষণা দিয়েছিল মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছিল, ১ অক্টোবর থেকে ‘আই’ ভিসার আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে এই নীতি প্রযোজ্য হবে। পেশাগত দায়িত্ব পালনে যুক্তরাষ্ট্র যেতে আগ্রহী বিদেশি সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের ‘আই’ ভিসা দেওয়া হয়। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই যাচাইবাছাই প্রক্রিয়া সহজ করতে আই, টিডি ও টিএন নন-ইমিগ্রান্ট ভিসা আবেদনকারীদের সব ধরনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রোফাইলের প্রাইভেসি সেটিং ‘পাবলিক’ বা ‘ওপেন’ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া চলাকালে বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের সামাজিকমাধ্যমের প্রোফাইল উন্মুক্ত বা দৃশ্যমান রাখতে হবে। তবে আবেদনকারীদের কতদিন আগের অ্যাক্টিভিটি পর্যালোচনা করা হবে, কতদিন প্রোফাইল 'পাবলিক' রাখতে হবে কিংবা কোন ধরনের অনলাইন কনটেন্ট দেখা হবে—সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। উল্লেখ্য, ২০১৯ সাল থেকেই অধিকাংশ ভিসাপ্রার্থীর কাছ থেকে সোশ্যাল মিডিয়া আইডির তথ্য নেওয়া বাধ্যতামূলক করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আই, টিডি এবং টিএন নন-ইমিগ্রান্ট ভিসার আবেদনকারীদেরও এই প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হলো। টিএন ভিসা মূলত ‘ইউনাইটেড স্টেটস-মেক্সিকো-কানাডা অ্যাগ্রিমেন্টের’ অধীনে সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী কানাডা ও মেক্সিকোর পেশাজীবীদের জন্য এবং টিডি ভিসা দেওয়া হয় তাদের স্ত্রী বা নির্ভরশীল সন্তানদের। আরটিভি/এসআর
মার্কিন ভিসাপ্রত্যাশী বিদেশি সাংবাদিকদের স্যোশাল মিডিয়ার প্রোফাইল যাচাই শুরু
লস অ্যাঞ্জেলেসে জন্মদিনে পার্টির বদলে গৃহহীনদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র গড়লেন তরুণী
২১ বছর বয়সে পদার্পণ উপলক্ষে বিলাসবহুল পার্টি বা লাস ভেগাসে ভ্রমণের বদলে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক উদ্যোগ নিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছেন মিরিয়াম হারেগোট। নিজের বিশেষ দিনটিকে আরও অর্থবহ করে তুলতে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের প্রাণকেন্দ্রে গৃহহীনদের জন্য একটি আশ্রয়কেন্দ্র সংস্কার ও চালু করেছেন এই তরুণী। মানবিক এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে মিরিয়াম বলেন, মানুষকে মানবিকতার ছোঁয়া দিতে পেরে দারুণ লাগছে, কারণ বর্তমান বিশ্বে এর বড্ড অভাব। আপনি নিজে সমাজে যে পরিবর্তন দেখতে চান, সেই পরিবর্তনের সূচনা আপনার নিজেকে দিয়েই করা উচিত। এই আশ্রয়কেন্দ্র চালুর পরপরই মিরিয়াম প্রতিষ্ঠা করেন ‘দ্য প্যাক প্রজেক্ট’ (P.A.C.K. - People Advocating Community Kinship) নামের একটি সংগঠন।  সাউথ সেন্ট্রাল লস অ্যাঞ্জেলেসের একদল তরুণ, উদ্যোক্তা এবং সৃজনশীল ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত এই সংগঠনটি মূলত গৃহহীন ও সুবিধাবঞ্চিত তরুণদের খাদ্য, বাসস্থান এবং শিক্ষার ব্যবস্থা করতে কাজ করে যাচ্ছে। তাদের এই প্রজেক্টের আওতায় ‘ফিড দ্য হোমিস’ (Feed The Homies) নামের একটি মাসিক উদ্যোগের মাধ্যমে স্কিড রো এলাকায় এ পর্যন্ত হাজার হাজার সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে গরম খাবার পরিবেশন করা হয়েছে।  সমাজ পরিবর্তনের জন্য কোনো প্রাতিষ্ঠানিক পদবি, বড় তহবিল বা অনুমোদনের অপেক্ষা না করে মিরিয়াম যেভাবে নিজেই সমস্যার সমাধানে এগিয়ে এসেছেন, তা বর্তমান প্রজন্মের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা। আরটিভি/এসআর
লস অ্যাঞ্জেলেসে জন্মদিনে পার্টির বদলে গৃহহীনদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র গড়লেন তরুণী
যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধ নিয়ে যাওয়ার আগে যা জানা খুবই জরুরি
বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সময় প্রেসার, ডায়াবেটিসসহ নিয়মিত ব্যবহারের ওষুধ সঙ্গে নিলে ইংরেজিতে প্রেসক্রিপশন বা ডাক্তারের চিঠি রাখার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি)।  ওষুধ মূল প্যাকেটে রাখা এবং প্রবেশের সময় কাস্টমস কর্মকর্তাকে জানানোও জরুরি। তবে শুধু প্রেসক্রিপশন থাকলেই সব ধরনের ওষুধ যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া যায় না। নিউইয়র্কের জেএফকেসহ যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো প্রবেশপথে ওষুধ বহনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ফেডারেল নিয়ম প্রযোজ্য।  সিবিপির নির্দেশনা অনুযায়ী, সঙ্গে থাকা ওষুধ নিজের চিকিৎসায় কেন প্রয়োজন, তা বোঝাতে ইংরেজিতে বৈধ প্রেসক্রিপশন বা ডাক্তারের চিঠি রাখা উচিত। ওষুধ মূল প্যাকেটে না থাকলে প্রেসক্রিপশনের কপি অথবা রোগ ও চিকিৎসার প্রয়োজন ব্যাখ্যা করা ডাক্তারের চিঠি সঙ্গে রাখতে হবে। প্রেসক্রিপশনে রোগীর নাম, ওষুধের জেনেরিক নাম, ডোজ এবং ব্যবহারের নির্দেশনা স্পষ্ট থাকলে ওষুধ শনাক্ত করা সহজ হয়। মূল কাগজের পাশাপাশি ফটোকপি রাখা এবং ফোনে ডিজিটাল কপি সংরক্ষণ করা বাড়তি প্রস্তুতি হিসেবে কাজে আসতে পারে। ওষুধ মূল লেবেলযুক্ত প্যাকেট বা বোতলে রাখার পরামর্শ দিয়েছে সিবিপি। সম্ভব হলে প্যাকেটে ডাক্তারের ব্যবহারের নির্দেশনাও থাকতে হবে। এতে কাস্টমস পরীক্ষার সময় ওষুধ ও প্রেসক্রিপশনের তথ্য মিলিয়ে দেখা সহজ হয়। পরিমাণের ক্ষেত্রে সাধারণ নির্দেশনা হলো, নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ নেওয়া এবং সাধারণভাবে ৯০ দিনের সরবরাহের বেশি সঙ্গে না রাখা। তবে এই নির্দেশনাকে সব যাত্রীর জন্য সব ধরনের ওষুধ নেওয়ার অনুমতি হিসেবে ধরে নেওয়া যাবে না। যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, এফডিএ জানিয়েছে, সাময়িকভাবে আমেরিকায় আসা বিদেশি নাগরিকেরা ব্যক্তিগত চিকিৎসার জন্য ৯০ দিনের ওষুধ আনতে পারেন। এ নির্দেশনায় বিদেশি নাগরিক বলতে আমেরিকার নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দা নন, এমন ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে। ফলে আমেরিকান নাগরিক বা গ্রিন কার্ডধারীদের একই সুবিধা প্রযোজ্য ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। এফডিএর নির্দেশনা অনুযায়ী, বিদেশে অনুমোদিত কোনো ওষুধ আমেরিকায় অনুমোদিত না হলে সেটি আমদানিতে বিধিনিষেধ থাকতে পারে। ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য কিছু ক্ষেত্রে ছাড় বিবেচনা করা হলেও তা শর্তসাপেক্ষ। বাংলাদেশে ওষুধটি সহজে পাওয়া যায় কিংবা ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন রয়েছে, এই কারণেই আমেরিকায় প্রবেশের অনুমতি নিশ্চিত হয় না।  বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন নিয়ন্ত্রিত উপাদানযুক্ত ওষুধের ক্ষেত্রে। কিছু ঘুমের, ব্যথার বা অন্য চিকিৎসার ওষুধ এই শ্রেণিতে পড়তে পারে। এসব ওষুধের ক্ষেত্রে ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, ডিইএর নিয়মও মানতে হয়। তাই ভ্রমণের আগে ওষুধের জেনেরিক নাম ও উপাদান অনুযায়ী প্রযোজ্য নিয়ম যাচাই করা প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন থাকার পরিকল্পনা থাকলে সঙ্গে আনা ওষুধ শেষ হওয়ার আগেই স্থানীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা ভালো। প্রাইমারি কেয়ার ডাক্তারের কাছে আগের প্রেসক্রিপশন ও চিকিৎসার কাগজপত্র নিয়ে গেলে চলমান চিকিৎসা মূল্যায়নে সহায়তা হবে। স্থানীয় ফার্মেসি থেকে পরবর্তী ওষুধ পাওয়ার বিষয়টি আগে থেকেই চিকিৎসক ও ফার্মেসির সঙ্গে নিশ্চিত করা উচিত। ভ্রমণের প্রস্তুতিতে সবচেয়ে জরুরি হলো ওষুধের পরিচয় স্পষ্ট রাখা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে নেওয়া এবং কাস্টমস কর্মকর্তাকে ওষুধের কথা জানানো। নিজের নাগরিকত্ব বা স্থায়ী বাসিন্দার অবস্থান এবং ওষুধের ধরন অনুযায়ী এফডিএ, সিবিপি ও প্রয়োজনে ডিইএর নির্দেশনা মিলিয়ে প্রস্তুতি নিতে হবে। আরটিভি/এসআর
যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধ নিয়ে যাওয়ার আগে যা জানা খুবই জরুরি
স্বামীর সঙ্গে ঘুরতে যাওয়ায় ভাড়ায় লোক পাঠিয়ে তরুণীকে গণধর্ষণ করালেন স্ত্রী
বিবাহিত বন্ধুর সঙ্গে ঘুরতে যাওয়ার চরম খেসারত দিতে হয়েছে এক তরুণীকে। প্রতিশোধ নিতে লোক ভাড়া করে তাকে গণধর্ষণ করিয়েছেন ওই বন্ধুর স্ত্রী।  
স্বামীর সঙ্গে ঘুরতে যাওয়ায় ভাড়ায় লোক পাঠিয়ে তরুণীকে গণধর্ষণ করালেন স্ত্রী
স্ত্রীকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করে গিনেস রেকর্ড গড়লেন বৃদ্ধ
ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে স্ত্রীকে হারানোর পর সেই শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে বিশ্বজয়ের অভিযানে নেমেছেন ৬৯ বছর বয়সী কানাডিয়ান সাইক্লিস্ট মার্ক হার্বস্ট। স্ত্রীকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা এবং প্রবীণদের অনুপ্রাণিত করার উদ্দেশ্যে সাইকেলে ৩০ হাজার কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়েছেন তিনি। 
স্ত্রীকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করে গিনেস রেকর্ড গড়লেন বৃদ্ধ
আরও পড়ুন
এক নজরে দেখে নিন মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার
নেপাল-চীনের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে আকস্মিক বন্যায় যা বললেন বিশ্বনেতারা
যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে প্রবেশের জন্য দরকারি ১০ দক্ষতার শর্টকোর্স 
যুক্তরাষ্ট্রের ‘ক্যারিয়ার অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন বাংলাদেশি গবেষক সুমাইয়া