ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৮৯ জনে দাঁড়িয়েছে। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে আহত হয়েছেন আরও ২ হাজার ৯৮০ জন।
শুক্রবার (২৬ জুন) দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৭২ ঘণ্টা বা ‘গোল্ডেন উইন্ডো’র সময় পার হওয়ার আগেই ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধারে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। তবে উদ্ধার অভিযান এখনো অব্যাহত থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে বলে গভীর আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল ভিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ বলেন, ‘ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের জীবন বাঁচাতে আমাদের তরফ থেকে চেষ্টায় কোনো কমতি রাখা হচ্ছে না।’ দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে আন্তর্জাতিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া এবং জরুরি উদ্ধারকারী দল পাঠানোর জন্য বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর প্রশংসা করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘যৌথ প্রচেষ্টায় আমরা ইতোমধ্যে ধ্বংসস্তূপ থেকে কয়েক ডজন মানুষের জীবন রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছি।’
এদিকে ভিটিভি জানিয়েছে, অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী বিশেষ দলগুলো লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্যে তাদের কার্যক্রম আরও জোরদার করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, জোড়া ভূমিকম্পের জেরে এই রাজ্যটিই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেনেজুয়েলা সরকার জানিয়েছে, দুর্গত ও ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে রাজধানী কারাকাসে অবস্থিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জরুরি খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং প্রয়োজনীয় ওষুধের একটি বড় মজুতকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বুধবার (২৪ জুন) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে কারাকাস থেকে প্রায় ২৮৪ কিলোমিটার পশ্চিমে সান ফেলিপের কাছে প্রথম ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর মাত্র ৪০ সেকেন্ড পর রাজধানী থেকে প্রায় ২৯৩ কিলোমিটার পশ্চিমে ইউমারের কাছে আরও শক্তিশালী ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি হয়। এই জোড়া ভূমিকম্পকে দেশটির গত ১২৫ বছরেরও বেশি সময়ের ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী ও ভয়াবহ দুর্যোগ বলে আখ্যা দিয়েছেন ভূকম্পন বিশ্লেষকেরা।
আরটিভি/এআর



