চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের ১০৯ তলা উঁচু একটি আকাশচুম্বী ভবনে ছোট আকারের একটি স্পোর্টস বিমান আঘাত হেনেছে। এই ঘটনার পর ওই বহুতল ভবনটি থেকে জরুরি ভিত্তিতে সব মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেল পৌনে ছয়টার দিকে বেইজিংয়ের সবচেয়ে উঁচু ভবন সিআইটিআইসি টাওয়ারে এই দুর্ঘটনা ঘটে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এই খবর প্রকাশ করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, ‘চায়না জুন’ নামে পরিচিত বেইজিংয়ের ১০৯ তলা বিশিষ্ট ওই সিআইটিআইসি টাওয়ার থেকে কাচ ও ভবনের বিভিন্ন ধ্বংসাবশেষ নিচে পড়ছে। সেই সঙ্গে মাটিতে দুর্ঘটনাকবলিত বিমানের লেজের অংশ এবং একটি ট্যাক্সিক্যাবের ভাঙা জানালাও পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
তাৎক্ষণিকভাবে এই দুর্ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না বা বিমানটিতে ঠিক কতজন আরোহী ছিলেন, তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি। এ ছাড়া বিমানটি কী পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভবনে আঘাত করল, সে বিষয়েও বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, ছোট আকারের এই স্পোর্টস বিমানটি স্থানীয় ‘শিফোসি বিমানবন্দর’ থেকে ঘটনার প্রায় ৩০ মিনিট আগে উড্ডয়ন করেছিল। এটি অবতরণের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় বিকেল আনুমানিক ৫টা ৪০ মিনিটে তার নির্ধারিত পথ থেকে হঠাৎ ছিটকে যায়।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, বিমানটি বেইজিংয়ের পূর্ব ফিফথ রিং রোডের কাছাকাছি পৌঁছানো পর্যন্ত রাডার পর্যবেক্ষণে ছিল। এরপর সেটি হঠাৎ করেই রাডার থেকে অদৃশ্য হয়ে যায় এবং কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে এর সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, বিমানটিতে চালক হিসেবে সম্ভবত একজন আরোহীই ছিলেন। তবে এ ঘটনায় ভবনের ভেতরে বা নিচে থাকা কেউ নিহত বা আহত হয়েছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি স্থানীয় প্রশাসন।
ঘটনাস্থলের কাছের একটি ভবনে কর্মরত এক প্রত্যক্ষদর্শী সংবাদমাধ্যমকে জানান, বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে তিনি হঠাৎ একটি বিকট শব্দ শুনতে পান। তবে তিনি সরাসরি দুর্ঘটনার মূল মুহূর্তটি দেখতে পাননি।
ভয়াবহ এই ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত পুরো এলাকাটি ঘিরে ফেলে। সিআইটিআইসি টাওয়ারের আশপাশের সব সড়ক সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং কৌতুহলী সাধারণ মানুষকে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পুরো এলাকায় বর্তমানে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ছাড়া জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভবনটির নিচে বেশ কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্স ও উদ্ধারকারী দল অবস্থান নিয়েছে।
আরটিভি/এআর



