জামিনে বেরিয়ে স্ত্রী-সন্তানসহ ৬ জনকে হত্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ 

শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬ , ০৭:১২ পিএম


জামিনে বেরিয়ে স্ত্রী-সন্তানসহ ৬ জনকে হত্যা
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের রাঙ্গা রেড্ডি জেলায় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৬ জনকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ জানায়, ৩৫ বছর বয়সী রাজকুমার প্রথমে নিজের স্ত্রী পার্বতী সরিতা এবং তাদের ৪ ও ১ বছর বয়সী দুই ছেলেকে হত্যা করেন।

এরপর তিনি ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীকেও হত্যা করেন। ওই কিশোরী এর আগে তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগে মামলা করেছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, রাজকুমার কিশোরীকে গাড়িতে করে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে হত্যা করেন। পরে রাজকুমার ওই কিশোরীর মা ও নানিকেও হত্যা করেন।

তবে ঘটনাস্থলে থাকা কিশোরীর ২০ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী বোন অক্ষত ছিলেন। পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত করছে।

সবাইকে হত্যার পর রাজকুমার তার বাবাকে ফোন করে হত্যাকাণ্ডের কথা জানান। সিনিয়র পুলিশ অফিসার তরুণ জোশী বলেন, “সে তার বাবাকে বলেছিল, ‘আমি এটা করেছি। আমি  সবাইকে হত্যা করেছি।’ এরপর সে তার ফোন বন্ধ করে দেয়। রাজকুমার আরো বলেছিল, সে আত্মহত্যা করবে, কিন্তু তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।”

তরুণ জোশী আরো বলেন, ‘অভিযুক্ত বর্তমানে পলাতক। বিশেষ পুলিশ দল গঠন করা হয়েছে এবং আমরা সূত্র পেয়েছি। তাকে শিগগিরই গ্রেপ্তার করা হবে।’

আরও পড়ুন

২০১৮ সালের প্রেম-বিবাহ

রাজকুমার ও পার্বতী ২০১৮ সালে প্রেম করে বিয়ে করেন। এই দম্পতি প্রথমে গ্রামের বাইরে থাকতেন এবং পরে শাবাদ ও দেবালাগুড়ায় নিজেদের কেনা বাড়িতে স্থায়ী হন। তাদের তিনটি সন্তান ছিল। তাদের প্রথম সন্তান একটি কন্যা। সেই সন্তান শৈশবেই মারা যায়।

চলতি বছরের মে মাসে ১৭ বছর বয়সী ওই কিশোরীকে অনুসরণ ও যৌন হয়রানির অভিযোগে মামলা দায়ের হয় এবং রাজকুমার গ্রেপ্তার হন। জোশী বলেন, ‘অভিযুক্ত ব্যক্তি মেয়েটিকে তার কোচিং ইনস্টিটিউট থেকে বাড়ি পর্যন্ত অনুসরণ করছিল এবং তার প্রস্তাবে রাজি হওয়ার জন্য চাপ দিয়ে যাচ্ছিল।’ চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের প্রায় এক সপ্তাহ আগে তাকে ২০ হাজার রুপির বিনিময়ে ব্যক্তিগত মুচলেকায় আগাম জামিন দেওয়া হয়েছিল রাজকুমারকে। 

একজন কর্মকর্তা জানান, রাজকুমারের দীর্ঘদিনের আচরণগত সমস্যা ছিল। তিনি বলেন, ‘আমরা তাকে দুই-তিনবার কাউন্সেলিংয়ের জন্য ডেকেছিলাম। তার পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তার মানসিক অবস্থা স্থিতিশীল ছিল না। এ ছাড়া তার জুয়া খেলার অভ্যাস ছিল এবং তিনি আগে থেকেই ঋণের বোঝায় ছিলেন।’ পুলিশ এসব তথ্যও তদন্তের অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখছে।

‘ঘুমন্ত অবস্থায় শিশুদের হত্যা’

ঘটনার পর  তার আত্মীয়রা জানান, দুই শিশুকে সম্ভবত ঘুমন্ত অবস্থায় হত্যা করা হয়েছে। যে ঘরে পার্বতীর মরদেহ পাওয়া যায়, সেখানে ধস্তাধস্তির চিহ্ন দেখা গেছে। তাদের দাবি, বাড়ির দরজাগুলো ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। এ ছাড়া ফ্যান, এয়ারকন্ডিশনার ও কুলার চালু অবস্থায় ছিল।

পরিবারের সদস্যরা বলেন, ঘটনার আগে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনো বড় ধরনের ঝগড়ার কথা তারা জানতেন না। আগের সন্ধ্যাতেও পার্বতী স্বাভাবিকভাবে আত্মীয়দের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। পুলিশের ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্তকারীরা কিভাবে ঘটনাগুলো ঘটেছে এবং এর পেছনের কারণ কী, তা খতিয়ে দেখছেন।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission