যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর উপসাগরীয় ৪ দেশে ইরানের পাল্টা হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬ , ১০:৩৮ এএম


যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর উপসাগরীয় ৪ দেশে ইরানের পাল্টা হামলা
ছবি: সংগৃহীত

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দফার হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে জর্ডান, কাতার, কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

রোববার (১২ জুলাই) পৃথক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, তারা কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। হামলায় ঘাঁটির যুদ্ধবিমান রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত কেন্দ্র এবং কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার ধ্বংস করা হয়েছে বলে তাদের দাবি। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অবশ্য জানিয়েছে, কাতারের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। এই হামলায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের তথ্য তারা জানায়নি।

এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির বরাতে দেশটির সেনাবাহিনী দাবি করেছে, বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ব্যবহার করে কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, গোলাবারুদ সংরক্ষণাগার এবং একটি রাডার স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের একটি যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং রাডার স্থাপনাতেও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে তেহরান। ইরানের সেনাবাহিনীর দাবি, দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক হামলার জবাব হিসেবেই এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। হামলায় ঘাঁটির কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার এবং এমকিউ-৯ ড্রোন রাখার হ্যাঙ্গার ধ্বংস হয়েছে বলে ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে।

এর আগে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী একটি জাহাজে হামলার পর ইরানের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে বিমান হামলা চালানোর কথা জানায় যুক্তরাষ্ট্র। আইআরজিসির দাবি, সংশ্লিষ্ট জাহাজটি নিজের অবস্থান শনাক্তকারী ব্যবস্থা বন্ধ করে এবং অনুমোদিত নৌপথ ছেড়ে সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত করেছিল। একাধিক সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় জাহাজটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে থামিয়ে দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, সাইপ্রাসের পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজে আইআরজিসির হামলার পরই ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করা হয়েছে। সেন্টকমের দাবি, চলতি সপ্তাহে তিনটি বাণিজ্যিক তেলবাহী জাহাজে হামলার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সর্বশেষ হামলায় জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সেটি আর যাত্রা চালিয়ে যেতে পারেনি। এ ছাড়া জাহাজের এক বেসামরিক নাবিক নিখোঁজ রয়েছেন বলেও জানানো হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে সেন্টকম বলেছে, ‘বাণিজ্যিক জাহাজে আগের হামলার জন্য জবাবদিহির পরও সমঝোতা স্মারক মেনে চলার আরেকটি সুযোগ ইরানকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা আবারও তা করতে ব্যর্থ হয়েছে।’ মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ওই বিবৃতি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘ইরান ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন তার মূল্য দিতে হবে।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একযোগে ইরানে বিমান হামলা শুরুর পর থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানির দাম হু হু করে বেড়ে যায়। যুদ্ধের অবসানে কয়েকটি দেশের সঙ্গে ওমানও মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। তবে এই নৌপথে ইরানের চলমান অবরোধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়িয়েছে।

আরটিভি/এআর 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission