দুই বছরে ১৬৭৯ জনকে বাংলাদেশে পুশ ইন করেছে আসাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ , ০৪:২০ পিএম


২ বছরে কত জনকে বাংলাদেশে ‘পুশব্যাক’, জানালেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের আসাম রাজ্য সরকার গত দুই বছরে ১ হাজার ৬৭৯ জনকে বাংলাদেশে পুশ ইন বা জোর করে ঠেলে পাঠিয়েছে। এর মধ্যে আসামের ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল (এফটি) কর্তৃক ‘বিদেশি’ ঘোষিত ১৯৩ জন নাগরিকও রয়েছেন। 

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এসব ব্যক্তিকে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। আসাম সরকারের পক্ষ থেকে রাজ্য বিধানসভায় দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক তথ্যের ভিত্তিতে এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়েছে। অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্টের (এআইইউডিএফ) বিধায়ক বদরুদ্দিন আজমলের এক প্রশ্নের জবাবে আসামের মুখ্যমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বিধানসভায় এই তথ্য জানান।

আসাম সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে পাঠানো ১ হাজার ৬৭৯ জনকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে একদলকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ডিপোর্ট’ করা হয়েছে, একদলকে ‘সেন্ট ব্যাক’ হিসেবে ফেরত পাঠানো হয়েছে এবং অন্য দলটিকে ‘এক্সপেলড’ বা বহিষ্কার করা হয়েছে। এই ব্যক্তিদের মধ্যে ১৯২ জনকে আসামের ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল ‘বিদেশি’ হিসেবে ঘোষণা করেছিল। এ ছাড়া মরিয়ম বেগম নামের এক শিশুকন্যাকেও তার মায়ের সঙ্গে সীমান্তের ওপারে পাঠানো হয়েছে, যার মা ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক ঘোষিত বিদেশি ছিলেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের মে মাস থেকে আসাম সরকার ঘোষিত বিদেশিদের ‘পুশ ব্যাক’ বা জোর করে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে পাঠানোর নীতি গ্রহণ করে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক আলোচনা বা সমন্বয় করা হয়নি। এরপর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে দীর্ঘদিন অকার্যকর থাকা ইমিগ্র্যান্টস (এক্সপালশন ফ্রম আসাম) অ্যাক্ট–১৯৫০ পুনরুজ্জীবিত করার ঘোষণা দেয় আসাম সরকার। পরে এ বিষয়ে একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) তৈরি করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই বিতর্কিত আইনটি প্রয়োগ করা হয়।

আরও পড়ুন

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই আইনের আওতায় বহিষ্কার করে বাংলাদেশে পাঠানো ৬৭ জন ঘোষিত বিদেশির মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৯ জন মধ্য আসামের নগাঁও জেলার বাসিন্দা। এ ছাড়া পশ্চিম আসামের কোকরাঝাড় থেকে ১৬ জন, বারপেতা থেকে সাতজন, চিরাং ও কার্বি আংলং থেকে চারজন করে, ডিমা হাসাও ও হোজাই থেকে তিনজন করে, কামরূপ (গ্রামীণ) ও ধুবড়ি থেকে দুজন করে এবং আরও কয়েকটি জেলা থেকে একজন করে ব্যক্তিকে পাঠানো হয়েছে। বাকি ১২৬ জন ঘোষিত বিদেশিকে ‘রিপ্যাট্রিয়েটেড’ বা ‘সেন্ট ব্যাক’ শ্রেণিতে রাখা হয়েছে।

এদিকে বিধায়ক বদরুদ্দিন আজমল জানতে চেয়েছিলেন, বাংলাদেশে পাঠানো ব্যক্তিদের মধ্যে কতজন গুয়াহাটি হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছিলেন। জবাবে আসাম সরকার জানিয়েছে, উচ্চ আদালতে কোনো আপিল বিচারাধীন থাকলে কোনো চিহ্নিত অভিবাসীকে প্রত্যাবাসন করা হয় না। তবে যাদের ইতিমধ্যে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে, তাদের কেউ আগে হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছিলেন কি না, সে বিষয়ে সরকারের কাছে কোনো তথ্য নেই।

এর আগে সোমবার (১৩ জুলাই) ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন। বিচারপতি বিক্রম নাথ ও বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ গুয়াহাটি হাইকোর্টের ২৭টি রায় বাতিল করেন। ওই রায়গুলোতে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের এমন সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছিল, যেখানে আবেদনকারীদের অনুপস্থিতিতেই একতরফা বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাঁদের বিদেশি ঘোষণা করা হয়েছিল। 

সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছেন, নাগরিকত্ব নির্ধারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বিষয় অবশ্যই ন্যায্য, আইনসম্মত ও যুক্তিসঙ্গত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে। আদালত এই ২৭টি মামলাই সংশ্লিষ্ট ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে পুনর্বিচারের জন্য ফেরত পাঠিয়েছেন।

আরটিভি/এআর 

 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission