ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীদের ওপর বেআইনি নজরদারির অভিযোগে দিল্লি পুলিশকে তলব করেছেন হাইকোর্ট। ফেসবুকভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বিক্ষোভকারীদের দিনরাত ভিডিও ও ছবি তোলার ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা মানা হয়েছে কি না, তা জানতে চেয়েছেন আদালত।
সোমবার (২০ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে যন্তর মন্তরে দীর্ঘদিন ধরে বিক্ষোভ চলছে। এই কর্মসূচিতে আন্দোলনকারীদের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারির অভিযোগ এনে হাইকোর্টে একটি আবেদন করেন জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (জেএনইউএসইউ) সাবেক সভাপতি আইশে ঘোষ।
সোমবার দিল্লি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ডি কে উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এই আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
শুনানিতে আন্দোলনকারীদের পক্ষে দাবি করা হয়, গত ২০ জুন থেকে কর্মসূচি শুরুর পর যন্তর মন্তরে একটি স্থায়ী নজরদারি টাওয়ার বসানো হয়েছে। সেখান থেকে বিক্ষোভকারীদের খাওয়া, বিশ্রাম ও চিকিৎসা নেওয়ার মতো ব্যক্তিগত মুহূর্তগুলোর ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হচ্ছে। এমনকি বৃষ্টির সময় নারী আন্দোলনকারীদের পোশাক ভিজে গেলেও পুলিশ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিডিও ধারণ করেছে, যা মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন। ২০১৭ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে গোপনীয়তাকে জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন।
আদালতে দিল্লি পুলিশের পক্ষে উপস্থিত সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা অবশ্য নজরদারির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থেই কেবল যন্তর মন্তরের বিক্ষোভের ভিডিও রেকর্ড করা হচ্ছে, কোনো নজরদারি করা হচ্ছে না। তবে হাইকোর্ট এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দিষ্ট নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছেন। মঙ্গলবার(২১ জুলাই) এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত।
আরটিভি/এআর




