তেলাপোকাদের বিদ্রোহে কাঁপছে মোদি সরকার!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ 

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ , ০৬:২৪ পিএম


তেলাপোকাদের বিদ্রোহে কাঁপছে মোদি সরকার!
সংসদ অভিযানের ডাক দেয় ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি। ছবি: সংগৃহীত

ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ভারতের একদল তরুণ-তরুণীর নতুন দল। ‘ককরোচ বা তেলাপোকা ’ নামে পরিচিত এই দলটি যাদের নিয়ে একসময় হাসাহাসি হয়েছিল, তারাই আজ হাজার হাজার মানুষের মিছিলে পরিণত হয়েছে। ব্যারিকেড, কাঁদানে গ্যাস, লাঠিচার্জ—কিছুই থামাতে পারছে না তাদের। এখন সবার মনে প্রশ্ন একটাই—এটা কি শুধু একটি ছাত্র আন্দোলন, নাকি মোদি সরকারের ক্ষমতা এখন হুমকির মুখে?

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে যেখানে সাধারণত ক্ষমতার ভাষাই সবচেয়ে জোরে শোনা যায়। কিন্তু এবার সেই রাজধানীতেই এমন এক আন্দোলনের বিস্ফোরণ ঘটেছে, যা শুরু হয়েছিল ঠাট্টা-বিদ্রূপ দিয়ে, আর এখন তা পৌঁছে গেছে সংসদের দরজায়।

সোমবার (২০ জুলাই) ভারতের রাজধানী দিল্লিতে এক উত্তপ্ত দিন ছিল। সংসদ অভিযানের ডাক দেয় ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি। আন্দোলনকারীদের মূল দাবি—কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থী ও পরিবারগুলোর জন্য ন্যায়বিচার।

উত্তাল নয়াদিল্লি, রাজপথ না ছাড়ার ঘোষণা ককরোচ পার্টিরউত্তাল নয়াদিল্লি, রাজপথ না ছাড়ার ঘোষণা ককরোচ পার্টির হাজার হাজার বিক্ষোভকারী সংসদের দিকে এগোতে শুরু করলে দিল্লি পুলিশ শহরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যারিকেড বসায়। বহু জায়গায় ইন্টারনেট পরিষেবা সীমিত করা হয়।

আরও পড়ুন

সংসদের আশপাশে জারি হয় নিষেধাজ্ঞা। তারপরও এগিয়ে যান আন্দোলনকারীরা। একপর্যায়ে পুলিশ মিছিল থামাতে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন এবং ৭০ জনেরও বেশি আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়।

এই আন্দোলনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মুখ হলেন পরিবেশবাদী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। তিনি অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন এবং জানিয়েছেন, সংসদ সদস্যদের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সাক্ষাতের সুযোগ না দেওয়া পর্যন্ত তিনি অনশন ভাঙবেন না। হাসপাতাল থেকেই তিনি আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

এদিকে পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে সরকারের পক্ষ থেকেও প্রথমবারের মতো আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা সিজেপির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। কিন্তু বৈঠক শেষে আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন—তাদের তিনটি মূল দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন বন্ধ হবে না।

শুধু রাজপথেই নয়, এই আন্দোলন এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ঝড় তুলেছে। কয়েক মাস আগেও ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন উদ্যোগ হিসেবে শুরু হওয়া ককরোচ জনতা পার্টি এখন লাখো তরুণের ক্ষোভের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। এনপিআর, বিবিসি, এএফপিসহ একাধিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে দিল্লিতে এটিই অন্যতম বড় যুব-নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভ। তবে সরকার এখনো তাদের অবস্থানে অনড়। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগের কোনো ইঙ্গিত দেননি।

একটি ব্যঙ্গাত্মক নাম থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন আজ ভারতের রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রে। প্রশ্ন এখন—সরকার কি আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে, নাকি এই ছাত্র-যুব আন্দোলন আরও বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জে রূপ নেবে?

দিল্লির রাজপথে শুরু হওয়া এই লড়াই এখন শুধু একটি আন্দোলনের গল্প নয়; বরং ভারতের তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ, শিক্ষা ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক জবাবদিহির এক বড় পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission