ঢাকা রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩

উত্তাল ভারত, এবার রাস্তায় নেমেছে কৃষকরা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩৫ পিএম
হরিয়ানায় প্রবেশের পথে শম্ভু সীমান্তে কৃষকরা। ছবি: সংগৃহীত

প্রস্তাবিত ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির বিরুদ্ধে মহাসমাবেশে অংশ নিতে দিল্লি অভিমুখে যাত্রা করেছেন ভারতের শত শত কৃষক। তারা পাঞ্জাব থেকে যাত্রা শুরু করে। পরে তাদের হরিয়ানায় প্রবেশের পথে শম্ভু সীমান্তে আটকে দিয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পাঞ্জাব-হরিয়ানা সীমান্তে ব্যারিকেড স্থাপনের ঘটনা ২০২৪ সালের ‘দিল্লি চলো-২’ আন্দোলনের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। সে সময়ও রাজধানীতে কৃষকদের প্রবেশ ঠেকাতে কংক্রিটের ব্লক, লোহার পেরেক ও একাধিক স্তরের ব্যারিকেড দিয়ে সীমান্ত এলাকা ঘিরে ফেলা হয়েছিল।

এনডিটিভি জানিয়েছে, যাতায়াতের সুযোগ না পেয়ে কৃষকেরা শম্ভু সীমান্তে সমাবেশ করেন। এ সময় তারা দিল্লিতে সমাবেশ করার গণতান্ত্রিক অধিকার দমনের জন্য হরিয়ানা ও পাঞ্জাব উভয় সরকারকেই অভিযুক্ত করেন।

বিকেইউ (শহীদ ভগৎ সিং)-এর নেতা তেজবীর সিং অভিযোগ করেন, হরিয়ানা পুলিশ পাঞ্জাবের ভৌগোলিক সীমানার ভেতরে ঢুকে ব্যারিকেড তৈরি করেছে। তিনি বলেন, পাঞ্জাব সরকার এই পদক্ষেপ ঠেকানোর বদলে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।

পাঞ্জাবের কৃষকদের আটকে দেওয়া হলেও হরিয়ানার আম্বালা, কুরুক্ষেত্রসহ বিভিন্ন জেলার স্থানীয় কৃষকেরা দিল্লির উদ্দেশে যাত্রা অব্যাহত রেখেছেন।

‘দেশ বাঁচাও মোর্চা’র ব্যানারে আয়োজিত এই কিসান মহাপঞ্চায়েতে পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও হিমাচল প্রদেশের বিভিন্ন কৃষক সংগঠন অংশ নেয়। তাদের মূল দাবি, প্রস্তাবিত ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করতে হবে।

কিসান মজদুর সংঘর্ষ কমিটির (কেএমএসসি) নেতা সারওয়ান সিং পান্ধের জানান, কেএমএসসি, কিসান মজদুর মোর্চা (পাঞ্জাব), আজাদ কিসান মোর্চা এবং বিকেইউ একতা সংঘর্ষের সদস্যরা পাঞ্জাবের বিভিন্ন এলাকা থেকে রওনা হলেও শেষ পর্যন্ত শম্ভু সীমান্তেই তাদের আটকে দেওয়া হয়।

পান্ধের বলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত ভারত-মার্কিন যৌথ বিবৃতিতে দুই দেশই ওই বছরের শরতের মধ্যে বহুমাত্রিক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির প্রথম ধাপ চূড়ান্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

তার দাবি, এই চুক্তি শুধু বাণিজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর আওতায় কৃষি, দুগ্ধজাত পণ্য, শিল্প, ডিজিটাল বাণিজ্য, ই-কমার্স, বিনিয়োগ, সরকারি ক্রয়, মেধাস্বত্ব এবং সেবা খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রও যুক্ত হতে পারে।

কৃষক নেতাদের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের কৃষি ও দুগ্ধ খাতে আরও বেশি প্রবেশাধিকার চেয়ে আসছে। বিশেষ করে সয়াবিন, ভুট্টা, তুলা, ইথানল, আপেল, বাদাম, দুগ্ধজাত পণ্য, পোলট্রি ও মৎস্যপণ্যের ওপর শুল্ক কমানো এবং বিভিন্ন বিধিনিষেধ শিথিল করার দাবি তারা বারবার তুলেছে।

কৃষক সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, ভর্তুকিপ্রাপ্ত মার্কিন কৃষি ও দুগ্ধজাত পণ্যের জন্য ভারতের বাজার উন্মুক্ত করে দেওয়া হলে কোটি কোটি ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক প্রতিযোগিতায় টিকতে পারবেন না। একই সঙ্গে তারা অভিযোগ করেন, চুক্তির খসড়া ও শর্তাবলি এখনো জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি, ফলে পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে।

সংগঠনগুলোর দাবি, ভারতের শুধু দুগ্ধ খাতেই প্রায় ৮ কোটি গ্রামীণ পরিবারের জীবিকা নির্ভরশীল। এই খাত ক্ষতিগ্রস্ত হলে কৃষক, দুগ্ধ উৎপাদক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কৃষিভিত্তিক শিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান এবং গ্রামীণ অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কা খাবে।

এ কারণে ‘দেশ বাঁচাও মোর্চা’ কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে প্রস্তাবিত ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির সব নথি জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি কৃষক, শ্রমিক, দুগ্ধ উৎপাদক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা ছাড়া কোনো চুক্তিতে স্বাক্ষর না করার আহ্বান জানিয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি দেখতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সিনেটর
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধে ক্ষয়ক্ষতি সরেজমিনে দেখতে মধ্যপ্রাচ্য সফর শুরু করেছেন মার্কিন সিনেটর ক্রিস মারফি।
যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি দেখতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সিনেটর
নিউইয়র্কে তৈরি হচ্ছে ২৫ হাজার আসনের প্রথম সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক সকার স্টেডিয়াম
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের কুইন্সে তৈরি হতে যাচ্ছে শহরটির প্রথম নিজস্ব পেশাদার সকার স্টেডিয়াম।
নিউইয়র্কে তৈরি হচ্ছে ২৫ হাজার আসনের প্রথম সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক সকার স্টেডিয়াম
রঙিন টিকটিকির নতুন প্রজাতি আবিষ্কার
পেরুর আন্দিজ পর্বতমালার প্রায় ৪ হাজার ৮০০ মিটার উচ্চতায় টিকটিকির নতুন একটি প্রজাতির সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। চরম প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকা ক্ষুদ্র এই সরীসৃপের বাহারি রং ও শরীরের বিশেষ নকশা গবেষকদের দৃষ্টি কেড়েছে। পেরুর সান মার্কোস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘর নতুন এই প্রজাতি আবিষ্কারের তথ্য নিশ্চিত করেছে। বিজ্ঞানীরা এর নাম দিয়েছেন ‘লিওলাইমাস আর্কিপেনসিস’। দক্ষিণ পেরুর আরেকিপা অঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ মিটার বা ১৫ হাজার ৭৫০ ফুট উচ্চতায় প্রজাতিটির সন্ধান পাওয়া যায়। এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন এই টিকটিকির দৈর্ঘ্য মাত্র ৬ থেকে ৮ সেন্টিমিটার। খাদ্যাভ্যাসেও রয়েছে বৈচিত্র্য। ছোট উদ্ভিদের পাশাপাশি মাকড়সা, গুবরে পোকা ও অন্যান্য পোকামাকড়ের লার্ভা খেয়ে বেঁচে থাকে এই প্রজাতির টিকটিকি। নতুন প্রজাতিটির পুরুষ ও স্ত্রী সদস্যদের শরীরের রং এবং নকশায় পার্থক্য দেখা যায়। স্ত্রী টিকটিকির পিঠে রয়েছে বর্গাকার দাগ। অন্যদিকে, পুরুষদের পিঠে দেখা যায় তির্যক দাগ ও সাদা আঁশ। গবেষকদের ধারণা, এসব বৈশিষ্ট্য পাথুরে পাহাড়ি পরিবেশের সঙ্গে মিশে শিকারির চোখ এড়িয়ে চলতে সহায়তা করে। গবেষণাটির প্রধান জীববিজ্ঞানী লিং হুয়ামানি-ভালদেররামা জানান, পেরুতে বর্তমানে ২৯৬ প্রজাতির টিকটিকি রয়েছে। নতুন এই প্রজাতির আবিষ্কার দেশটির সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের জ্ঞানের পরিধি আরও বাড়াবে। গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বৈজ্ঞানিক সাময়িকী ‘ডাইভারসিটি’-তে। উচ্চ পর্বতাঞ্চলের প্রতিকূল পরিবেশেও প্রাণীদের অভিযোজন এবং জীববৈচিত্র্যের অজানা দিক উন্মোচনে এই আবিষ্কার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন গবেষকেরা।   আরটিভি/এসকে
রঙিন টিকটিকির নতুন প্রজাতি আবিষ্কার
রেডিও-রাডার বিচ্ছিন্ন, মাঝ আকাশে নিখোঁজ যুক্তরাষ্ট্রের বিমান
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস উপকূলে ছয় আরোহী নিয়ে একটি চিকিৎসাবাহী বিমান নিখোঁজ হয়েছে।
রেডিও-রাডার বিচ্ছিন্ন, মাঝ আকাশে নিখোঁজ যুক্তরাষ্ট্রের বিমান
নিউইয়র্ক পুলিশে ডেপুটি ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি পেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মোহাম্মদ ইসলাম
নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে ডেপুটি ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ এস ইসলাম।
নিউইয়র্ক পুলিশে ডেপুটি ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি পেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মোহাম্মদ ইসলাম
আরও পড়ুন
ভারতের বিপক্ষে ধবলধোলাই এড়াল ওয়েস্ট ইন্ডিজ
পদ্মায় বাল্কহেডে মিলল ৩০৫ বোতল ভারতীয় মদ
এবার প্রতারক স্বামীর খোঁজে হবিগঞ্জে ভারতীয় নারী
ঐতিহাসিক ম্যাচে ব্রাজিলের বিপক্ষে এক হালি গোল খেল ভারত