১১১ পাতার চিঠি লিখে ক্ষমা ভিক্ষা চাইলেন নেতানিয়াহু!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

রোববার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫ , ০৬:৩৭ পিএম


১১১ পাতার চিঠি লিখে ক্ষমা ভিক্ষা চাইলেন নেতানিয়াহু!
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।  ফাইল ছবি

নিজের বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতির সব মামলায় ক্ষমা ভিক্ষা চেয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। 

বিজ্ঞাপন

রোববার (৩০ নভেম্বর) ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে ক্ষমা চেয়ে ১১১ পাতার একটি চিঠি পাঠিয়েছেন তিনি। খবর টাইমস অব ইসরায়েলের। 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর আইনজীবী অমিত হাদাদ ক্ষমা প্রার্থনার একটি ডকুমেন্ট প্রেসিডেন্টের দপ্তরে জমা দেন। এতে নেতানিয়াহুর স্বাক্ষরও রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

চিঠিতে বলা হয়েছে, চলমান দুর্নীতি মামলায় ক্ষমা করে দেওয়া হলে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই সংকটময় সময়ে ইসরায়েলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে এবং সামনে থাকা চ্যালেঞ্জ ও সুযোগগুলো মোকাবিলা করতে তার সময়, ক্ষমতা ও শক্তির পূর্ণ ব্যবহার করতে পারবেন। অনুরোধটি মঞ্জুর করা হলে জনগণের বিভিন্ন অংশের মধ্যেকার দূরত্ব কমাতে সাহায্য করবে, উত্তেজনার তীব্রতা কমাতে পথ খুলে দেবে। ক্ষমা পেলে প্রধানমন্ত্রী তার পুরো সময় দেশের জাতীয় শক্তি মজবুত করার উদ্দেশ্যে ব্যয় করতে পারবেন।

নেতানিয়াহুর চিঠির বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। আর তাতে বলা হয়েছে, সবকিছু যাচাই বাছাই করে প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমার বিষয়টি বিবেচনা করবেন প্রেসিডেন্ট।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

এদিকে ক্ষমা চেয়ে প্রেসিডেন্টের কাছে চিঠি পাঠানোর পর থেকেই নেতানিয়াহুর হয়ে সাফাই গাইছে তার মন্ত্রিসভা। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ রাষ্ট্রপতি আইজ্যাক হারজগকে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ক্ষমার আবেদন মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। 

এ বিষয়ে এক বিবৃতি দিয়ে ইসরায়েল কাটজ বলেন, ইসরায়েল আজ অতীতের যেকোন সময়ের চেয়ে জটিল নিরাপত্তা বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছে। একদিকে পুরানো শত্রুরা তাদের শক্তি পুনর্নির্মাণের চেষ্টা করছে; অন্যদিকে, এই অঞ্চলে নতুন শক্তি ইসরায়েলি নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ লক্ষ্য নিয়ে উত্থানের চেষ্টা করছে। এই সময়ে, আমাদের সামনে কৌশলগত হুমকির উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে ঐক্যবদ্ধ নেতৃত্ব প্রয়োজন। 

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি যেমন উল্লেখ করেছেন, ক্ষমা প্রদানই হল ইসরায়েলি সমাজের সাথে প্রায় এক দশক ধরে বিদ্যমান গভীর বিভেদের অবসান ঘটানোর এবং আমাদের সামনের চ্যালেঞ্জ এবং সুযোগের মুখোমুখি হওয়ার জন্য দেশকে আবার ঐক্যবদ্ধ হতে সাহায্য করার একমাত্র উপায়। বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বারবার জনগণের আস্থা অর্জন করেছেন এবং তাকে ইসরায়েল রাষ্ট্রের নেতৃত্ব অব্যাহত রাখার অনুমতি দিতে হবে।

আরও পড়ুন

অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ বলেন, আইন প্রয়োগকারী ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার ছাড়াও যেকোনো যুক্তিসঙ্গত ব্যক্তির কাছে এটা স্পষ্ট যে নেতানিয়াহু বছরের পর বছর ধরে দুর্নীতিগ্রস্ত বিচার ব্যবস্থার দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছেন। তাই আমি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমা করার আহ্বান জানাচ্ছি। 

অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে চলমান মামলার বিচার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন ইয়ার ল্যাপিডসহ ইসরায়েলের অন্যান্য বিরোধীদলীয় নেতারা। তাদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চলমান দুর্নীতির বিচার ক্ষমার মাধ্যমে শেষ হলে আইনের শাসনের চরম ক্ষতি হবে এবং প্রধানমন্ত্রীকে তার অভিযুক্ত কর্মকাণ্ডের জন্য দায় এড়ানোর সুযোগ করে দেবে।

অবশ্য, নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলার রায় এখনো ঘোষণা হয়নি। সাধারণত আদালত রায় দেওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ক্ষমা ঘোষণা করতে পারেন। কিন্তু, নেতানিয়াহু রায় ঘোষণার আগেই ক্ষমা চেয়েছেন। তবে, এক্ষেত্রেও প্রেসিডেন্ট চাইলে তাকে ক্ষমা করে দিতে পারবেন তাকে। যদিও এটি খুবই বিরল ঘটনার একটি হবে।

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তিনটি আলাদা মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলা হয়েছে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে। এছাড়া, প্রত্যেক মামলায় জালিয়াতি এবং বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে। নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে এসব মামলায় বিচার শুরু হয়েছিল ২০২০ সালে। কিন্তু, এখন পর্যন্ত শেষ হয়নি বিচার কাজ।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission