হঠাৎই যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্যে। পারমাণবিক কর্মসূচি বিষয়ক আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর ইরানের ওপর একযোগে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। জবাবে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা শুরু করেছে ইরানও। শুধু ইসরায়েলেই নয়; যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর জবাব দিতে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত তাদের সামরিক ঘাঁটিগুলোতেও হামলা চালাচ্ছে দেশটি।
এদিকে ইরানে শুধু হামলা করেই ক্ষান্ত নেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প; দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও ক্ষমতাসীন সরকারকে উৎখাতের জন্য ইরানি জনসাধারণকে উসকানোর চেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। খবর দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে তেহরানসহ ইরানের পাঁচটি প্রধান শহরে যৌথভাবে ভয়ংকর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। হামলায় লক্ষ্যবস্তু করা হয় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কার্যালয় ও প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের বাসভবনকেও।
এই হামলার সঙ্গে সঙ্গেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক ভিডিও বার্তায় বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ‘বড় ধরনের যুদ্ধাভিযান’ চালিয়েছে। আমরা বারবার একটি চুক্তি চেয়েছি। আমরা চেষ্টা করেছি। তিনি বলেন, আমরা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস ও ক্ষেপণাস্ত্র কারখানা জ্বালিয়ে দিতে যাচ্ছি। এটা পুরোপুরি ধ্বংস করা হবে।
এরপরই আবার ফ্লোরিডা থেকে এক ভিডিও ভাষণে ইরানি জনগণের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, আমাদের কাজ শেষ হলে, তোমাদের সরকার উৎখাত করো। এটা তোমাদেরই দখল করতে হবে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এটাই সম্ভবত তোমাদের একমাত্র সুযোগ হবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর চুপ করে বসে নেই ইরান। তাৎক্ষণিকভাবে জবাব দেওয়া শুরু করেছে তারাও। ইসরায়েলে বৃষ্টির মতো আঘাত হানছে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র। শুধু ইসরায়েলেই নয়; যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর জবাব দিতে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত তাদের সামরিক ঘাঁটিগুলোতেও হামলা শুরু করেছে দেশটি। এরই অংশ হিসেবে কাতার, সৌদি আরব, বাহরাইন, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে ইরান।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) নিশ্চিত করেছে, ইরান থেকে ছোড়া অসংখ্য ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশসীমায় শনাক্ত করা হয়েছে। এই ভয়াবহ পাল্টা হামলার পর পুরো ইসরায়েলজুড়ে বিপদ সংকেত বা সাইরেন বেজে উঠেছে এবং নাগরিকদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আইডিএফের পক্ষ থেকে জারি করা জরুরি সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের বড় ধরনের ঢেউ আমাদের সীমান্তের দিকে ধেয়ে আসছে। আমাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং বিমান বাহিনী এই হুমকিগুলো প্রতিহত করার জন্য সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে কাজ করছে।
আইডিএফ আরও সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শতভাগ নিখুঁত নয়, তাই বড় ধরনের প্রাণহানি এড়াতে জনগণকে অবিলম্বে আইডিএফের সুরক্ষা নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। তেল আবিবসহ ইসরায়েলের প্রধান শহরগুলোতে এখন মুহুর্মুহু সাইরেন আর বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে, যা দেশটিকে এক নজিরবিহীন সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
এছাড়া, কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে ইরানের মিসাইল ভূপাতিত করা হয়েছে। কাতারে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটি; যা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত তাদের ঘাঁটিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাহরাইনেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে দেশটিতে থাকা মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিস্ফোরণের তথ্য জানালেও; সেটি কিসের শব্দ সেটি স্পষ্ট করেনি।
এছাড়া, কুয়েতেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছেন আল জাজিরা আরবি বিভাগের সাংবাদিকরা। সেখানে সাইরেনও চালু করা হয়েছে।
সেইসঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতেও একটি বিকট বিস্ফোরণের খবর দিয়েছে রয়টার্স। এমনকি সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদেও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি।
আরটিভি/এসএইচএম




