ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাত ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে ক্রমশ। আট দিন পেরিয়ে গেলেও যুদ্ধ থামার কোনও লক্ষণ তো দেখাই যাচ্ছে না; বরং হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে দুই পক্ষই। ইরানকে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়ে দেশটিতে নিজের পছন্দসই সরকার গঠনের ইচ্ছা পোষণ করার পর তেহরানের কাছ থেকে কড়া জবাব পেয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে যেন আরও আগ্রাসী হয়ে উঠেছেন তিনি। ইরানের সরকার পরিবর্তনের জন্য তাদের সম্ভাব্য সব নেতাকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প।
তবে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়ন বলছে, বড় আকারে হামলা চালানো হলেও সেখানে সরকারের সম্পূর্ণ পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করার আগে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স কাউন্সিল (এনআইসি)।
ওই কাজের বিষয়ে অবহিত মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে—দেশটিতে বড় আকারের সামরিক হামলা চালানো হলেও তার মাধ্যমে সেখানকার ধর্মতান্ত্রিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার সম্ভাবনা খুবই কম।
এনআইসি, যা তুলসী গ্যাবার্ডের 'অফিস অফ ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স'-এর একটি অংশ যা বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার ভিন্ন ভিন্ন মতামত ও তথ্যের ভিত্তিতে গোয়েন্দা মূল্যায়ন প্রতিবেদন তৈরির দায়িত্বে রয়েছে। যদিও তাদের কিছু প্রতিবেদন যৌথভাবে তৈরি করা হয়, তবে অন্যগুলো কম সমন্বয়ের মাধ্যমে স্বাধীনভাবে উৎপাদিত হয়।
গত মাসের শেষের দিকে খসড়া করা কাউন্সিলের এই নথিটি মূলত সিআইএ-র একটি কাজের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। সিআইএ-র ওই মূল্যায়নে বলা হয়েছিল, মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযানে যদি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন, তবুও সেখানে সরকারের সম্পূর্ণ পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
তবে কর্মকর্তারা বলেছেন, প্রকৃত প্রতিবেদনটি পরিষদের নিজস্বভাবে প্রস্তুত করা একটি স্বাধীন নথি।
এদিকে মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মধ্যে এ বিষয়ে ব্যাপক ঐকমত্য রয়েছে যে, ইরানের ধর্মতাত্ত্বিক সরকার অত্যন্ত গভীরভাবে শিকড় গেড়ে আছে। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা এই বিষয়ে সন্দিহান যে, কোনো গণ-অভ্যুত্থান ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ডস কর্পসকে (আইআরজিসি) ক্ষমতাচ্যুত করতে পারবে কি না। এই সংস্থাটি ইরানের অধিকাংশ নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি অর্থনীতির বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।
এনআইসি-এর এই প্রতিবেদনটি এর আগে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-এ প্রকাশিত হয়েছিল।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা ছাড়াই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। প্রথম আঘাতেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবারকে হত্যা করে তারা। সেইসঙ্গে হত্যা করা হয় ইরানের সেনাবাহিনীর শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন কমান্ডারকেও। এর জবাবে ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলসহ বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে ইরানও। নয়দিন ধরে চলমান এই হামলা-পাল্টা হামলায় ইতোমধ্যে ভয়ংকর যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে পুরো মধ্যপ্রাচ্য।
এ অবস্থার মধ্যেই ইরানের ওপর আরও ভয়ংকর হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই হুমকির পর হামলা চালানোর জন্য নতুন মার্কিন স্থাপনা খুঁজছে ইরানও। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে ইরানের শীর্ষস্থানীয় একজন কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টভাবে ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধের বিস্তৃতি এবং সরাসরি তাদের হত্যা করার হুমকি দিয়েছে। এ কারণে ইরান এখন আমেরিকান অঞ্চল, বাহিনী এবং সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে পর্যালোচনা করবে। যেগুলো এখনও ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর লক্ষ্যবস্তু তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি, সেগুলো অন্তর্ভুক্ত করে হামলা চালানো হবে।
এরই মধ্যে সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্রদের লক্ষ্য করে নতুন দফায় হামলা চালিয়েছে ইরান। আর নতুন দফায় এসে প্রথমবারের মতো ঘোষণা দিয়ে হাইপারসনিক মিসাইলও ব্যবহার করেছে দেশটি।
আরটিভি/এসএইচএম




